বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক সংখ্যা/বরষা/শিল্প-সংস্কৃতি/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র,
১৪৩১
বরষা | শিল্প-সংস্কৃতি
পারমিতা চ্যাটার্জি
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
"রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চিন্তাধারা অনেকটা বৌদ্ধ দর্শন দ্বারা প্রভাবিত। শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য ধর্ম নয়, বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য যে সাধনা যে কর্ম তাই হচ্ছে প্রকৃত ধর্ম।"
'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে / আমি বাইব না৷ মোর খেয়া তরীর এই
ঘাটে গো' – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পায়ের চিহ্ন না রইলেও তাঁর
অমোঘ সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে নিত্য তাঁর খেয়াতরীর বাওয়া চলবে। থামবে না - থামার কোন
অবকাশ নেই। জীবন পথের প্রতিটি পদক্ষেপেই তাঁর দর্শন তাঁর গানের কথা তো আঁকড়ে ধরছে
আমাদের – কী করে চলে যাবেন! এ বন্ধন তো কাটবে না কোনদিন।
২২শে শ্রাবণ।
রবীন্দ্রনাথের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস।
বাঙালির প্রাণের এই কবি নশ্বর এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তাঁর অসামান্য রচনা ও সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে তিনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের সব-কটি শাখাকে স্পর্শ করেছে। সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সাহিত্য ভাণ্ডারকে। তাঁর লেখা গানের কথা চলার পথে প্রতিটি পদক্ষেপে এক অমোঘ আলোড়নে আলোড়িত হয়। তাঁর এক একটি গান যেন এক একটি দর্শন।
কত ধরণের সংগীত তিনি রচনা করেছেন গুণে শেষ করা যায় না। প্রেম, প্রকৃতির পৃথক রূপকে বর্ণনা করেছেন গানের মধ্যে দিয়ে। কখনও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে তাঁর কলম চলে, "দারুণ অগ্নি বাণেরে, তাপের তপের বাঁধন কাটুক রসের বর্ষণে", আর বর্ষার গানের তো কোন শেষ নেই। বর্ষা আর বসন্ত কবির খুব প্রিয় ঋতু। তাই এই দুই ঋতুর অসংখ্য গান ঘন মেঘের মতন হৃদয়ে ছেয়ে থাকে। কেউ ভাবতে পারবে ষোলো বছরের একটি বালক লিখছে, "গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে" সাতাশ বছরের যুবক লিখছেন, "যদি দূরে যাই চলে, তবু মনে রেখো", আবার আশি বছরের বৃদ্ধ লিখছেন, "আমার অঙ্গে সুরতরঙ্গে ডেকেছে বান, রসের প্লাবনে ডুবিয়া যাই"। "শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা" থেকে "এসো এসো শ্যামছায়াঘন দিন,"। আনন্দ, বেদনায়, প্রেম, বিরহে সবই খুঁজে পাই তাঁর গানে। তিনি বাঙালির মন, মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর লেখা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
শুধু বাঙালির নয় বাংলা দেশ ও ভারতের দুদেশের মানুষের কাছেই তিনি মানব মুক্তির বারতা
নিয়ে উদ্ভাসিত। দু-দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনায় রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন
নতুনতর মহিমায়।
রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চিন্তাধারা অনেকটা বৌদ্ধ দর্শন দ্বারা প্রভাবিত। শুধু
নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য ধর্ম নয়, বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য
যে সাধনা যে কর্ম তাই হচ্ছে প্রকৃত ধর্ম।
রবীন্দ্রনাথের জাগতিক প্রেমের গানের সাথে আধ্যাত্মিক গান অর্থাৎ পূজার গান
মিলেমিশে গিয়ে এক নতুন অধ্যাত্মবোধের সৃষ্টি করেছেন।
রবীন্দ্রনাথের অনেক গানকেই মনে হয় প্রেম পর্যায়ের গান যেমন, "সেই যে আমার কাছে আমি ছিল সবার চেয়ে দামী তারে উজার করে সাজিয়ে দিলাম তোমার বরণ ডালা, আমার অভিমানের বদলে আজ নেব তোমার মালা"।
অর্থাৎ তোমার প্রতি আমার যে অভিমান তার বদলে তোমার মালা নেব। এখন মালা অর্থে
কোন প্রেমিকের মালা বোঝাননি। এখানে প্রেমিক তাঁর পরমেশ্বর, তাঁর প্রতি কবির
যে অভিমান তা মলিন হবে একমাত্র পরম দেবতার মালা পেয়ে যা পরমেশ্বরের আশীর্বাদ,
এই আশীর্বাদটুকু পাওয়ার জন্য তাঁর আপনার কাছে যে আমি নামক
অস্তিত্বটি লুকিয়ে আছে তাকে উজার করে পরমেশ্বরের পায়ে নিবেদন করবেন।
গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে নোবেল প্রাইজ
পান।
বাংলা ভাষার কঠোরতাকে বর্জন করে সহজ সরল, বর্ণনায় লেখা শুরু করেন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত
বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন উপন্যাস, ছোটগল্প,
সংগীত, নৃত্যনাট্য পত্রসাহিত্য, নাটক প্রবন্ধ। বাংলা উপন্যাসকে তিনি আধুনিক ও সার্থক উপন্যাসে তুলে এনেছেন।
শুধু সৃজনশীল রচনাই নয় অর্থনীতি ও সমাজ রাস্ট্র নিয়ে তাঁর ভাবনাও তাঁকে অনেক ওপরে নিয়ে
গিয়েছে।
কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়। কিন্তু ২২শে শ্রাবণ কি সত্যি চলে গিয়েছিলেন? হয়তো তাঁর জাগতিক শরীরটা
আমরা দেখতে পাই না বা তাঁকে স্পর্শ করতে পারি না। কিন্তু অমূল্য সৃষ্টির হাত ধরে
জীবনের প্রতিটি পথ পেরিয়ে আসছি।
রবীন্দ্রনাথ তাই মৃত্যুকে একটি মানুষের জীবনের সব শেষ না করে তাকে মুক্তির রূপ
দিয়েছেন। দুঃখ কষ্ট,
বেদনা, জরা এই সব কিছু থেকে মুক্তি নিয়ে পরম
শান্তির লোকে পাড়ি দিয়েছেন। শান্তির
অমৃতলোকে যেখানে মানুষ পায় এক পরম শান্তির আশ্বাস। তাইতো তিনি গান লিখেছেন,
"সমুখে শান্তি পারাবার / ভাসাও তরণী হে
কর্ণধার।
রবীন্দ্রনাথের জীবনে বার বার মৃত্যু বিচ্ছেদ এসেছে। নিঃশব্দে নীরবে তিনি সব বিচ্ছেদ
দুঃখকে সৃষ্টি দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছেন।
প্রথম আঘাত এসেছে একদম শৈশবে প্রথম তিনি তাঁর মা-কে হারান। মায়ের দেহ তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। ঠাকুর পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর দাই মা নিয়ে নিত, শিশুরা তাদের হাতেই মানুষ হত। শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করবার সময় মায়ের কাছে দেওয়া হত।
দ্বিতীয় আঘাত পান কাদম্বরী দেবী তাঁর অত্যন্ত প্রিয় নতুন বউঠান, একাধারে দিদি, বন্ধু, ও কবির লেখার সবচেয়ে বড় প্রেরণাময়ী নতুন
বউঠান চলে যাওয়ার পর তাঁর চরম আঘাতপ্রাপ্ত মন নিয়েও বউঠানের উদ্দেশ্যে রচিত সংগীত, "আমার প্রাণের পরে চলে গেল
কে"। এরপর একে একে স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, মৃণালিনী দেবী
মারা যাওয়ার পর আশ্রমের ছেলেদের বলেছিলেন, "তোদের আমি
সব দিতে পারব কিন্তু মা তো দিতে পারব না"। তিনি
ছিলেন আশ্রমের জননী, নিজে হাতে সবার রান্না করতেন। আশ্রম
নির্মাণে মৃণালিনী দেবীর অসীম অবদান। নিজের গায়ের সমস্ত অলংকার খুলে দিয়েছিলেন আশ্রম নির্মাণের জন্য।
এরপর একে একে মধ্যম কন্যা রেনু, প্রথম কন্যা মাধুরীলতা বা তাঁর আদরের বেলি চলে
যান। অত্যন্ত কিশোর
বয়সে চলে যান সর্বকনিষ্ঠ সন্তান সোমেন্দ্রনাথ আর প্রিয় ভাইপো দলু বা
দলেন্দ্রনাথ।
সৌমেন্দ্রনাথকে দাহ করে শান্তিনিকেতন থেকে জোড়াসাঁকোতে আসার পথে দেখতে পান আকাশে পূর্ণ চাঁদের মায়ার এক অপরূপ সৌন্দর্য। তখন তিনি ভাবলেন জগতের সবই তো চলছে নিয়মের চাকার তালে তাল মিলিয়ে তবে আমি শুধু বসে থাকব কেন সেই মুহূর্তে তিনি লিখতে আরম্ভ করলেন, "আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে", তাঁর গানে সেই সময় কী মিশেছিল? মিশে ছিল গভীর বেদনা, এক নীরব কান্না যা ছিল বড়ই করুণ।
গানটির বাকি
পংক্তি শুনলে বোঝা যাবে যে কী গভীর বেদনা তাঁর সংগীতে মিশে
ছিল,
আমার এ ঘর বহু যতন করে / ধুতে হবে মুছতে মোরে / আমাকে যে জাগতে হবে / কে জানে
সে আসবে কবে / যদি আমায় পড়ে তাহার মনে / বসন্তের এই মাতাল সমীরণে / আজ জ্যোৎস্না
রাতে সবাই গেছে বনে।
ঈশ্বরের আরাধনায় উপকরণে ধূপ দীপ ফুল মালা কিছুই থাকত না শুধুই ছিল হৃদয় নিংড়ে আসা সংগীত। এই সংগীত পূজার সব মন্ত্র।
মৃত্যুর মতন করুণ বিচ্ছেদকেও তিনি বরণ করেছেন বারবার। তাঁর বেদনা, কান্না গভীর হয়ে মিশে গেছে অসীম অনন্তে, "সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর " / আমার মাঝে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর"।
২২শে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ চলে যাননি, তিনি শুধু তাঁর যন্ত্রণা, বেদনা, কষ্ট থেকে মুক্তি নিয়েছিলেন।
কবির গান জীবন পথের প্রতিটি বাঁক আমাদের হাত ধরে পার করে দেন। জীবনের স্মরণে
মননে দঃখ, বেদনায়,
আনন্দে সবেতেই তিনি আছেন আমাদের হাত ধরে। তাই ২২শে শ্রাবণ তিনি চলে
যাননি, বরং প্রত্যেক ২২শে শ্রাবণে আমরা তাঁকে আরও নতুন রূপে খুঁজে
পাই। "তোমায় নতুন করে পাব বলে হারাই ক্ষণেক্ষণ / ও মোর ভালোবাসার ধন"।
মৃত্যু তো আছেই,
দুঃখ বেদনা সবই আছে, "আছে দুঃখ আছে
মৃত্যু / বিরহদহন লাগে / তবুও শান্তি তবু আনন্দ, তবু অনন্ত
জাগে"।
রবীন্দ্রনাথের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস।
বাঙালির প্রাণের এই কবি নশ্বর এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তাঁর অসামান্য রচনা ও সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে তিনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের সব-কটি শাখাকে স্পর্শ করেছে। সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সাহিত্য ভাণ্ডারকে। তাঁর লেখা গানের কথা চলার পথে প্রতিটি পদক্ষেপে এক অমোঘ আলোড়নে আলোড়িত হয়। তাঁর এক একটি গান যেন এক একটি দর্শন।
কত ধরণের সংগীত তিনি রচনা করেছেন গুণে শেষ করা যায় না। প্রেম, প্রকৃতির পৃথক রূপকে বর্ণনা করেছেন গানের মধ্যে দিয়ে। কখনও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে তাঁর কলম চলে, "দারুণ অগ্নি বাণেরে, তাপের তপের বাঁধন কাটুক রসের বর্ষণে", আর বর্ষার গানের তো কোন শেষ নেই। বর্ষা আর বসন্ত কবির খুব প্রিয় ঋতু। তাই এই দুই ঋতুর অসংখ্য গান ঘন মেঘের মতন হৃদয়ে ছেয়ে থাকে। কেউ ভাবতে পারবে ষোলো বছরের একটি বালক লিখছে, "গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে" সাতাশ বছরের যুবক লিখছেন, "যদি দূরে যাই চলে, তবু মনে রেখো", আবার আশি বছরের বৃদ্ধ লিখছেন, "আমার অঙ্গে সুরতরঙ্গে ডেকেছে বান, রসের প্লাবনে ডুবিয়া যাই"। "শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা" থেকে "এসো এসো শ্যামছায়াঘন দিন,"। আনন্দ, বেদনায়, প্রেম, বিরহে সবই খুঁজে পাই তাঁর গানে। তিনি বাঙালির মন, মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর লেখা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের অনেক গানকেই মনে হয় প্রেম পর্যায়ের গান যেমন, "সেই যে আমার কাছে আমি ছিল সবার চেয়ে দামী তারে উজার করে সাজিয়ে দিলাম তোমার বরণ ডালা, আমার অভিমানের বদলে আজ নেব তোমার মালা"।
প্রথম আঘাত এসেছে একদম শৈশবে প্রথম তিনি তাঁর মা-কে হারান। মায়ের দেহ তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। ঠাকুর পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর দাই মা নিয়ে নিত, শিশুরা তাদের হাতেই মানুষ হত। শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করবার সময় মায়ের কাছে দেওয়া হত।
সৌমেন্দ্রনাথকে দাহ করে শান্তিনিকেতন থেকে জোড়াসাঁকোতে আসার পথে দেখতে পান আকাশে পূর্ণ চাঁদের মায়ার এক অপরূপ সৌন্দর্য। তখন তিনি ভাবলেন জগতের সবই তো চলছে নিয়মের চাকার তালে তাল মিলিয়ে তবে আমি শুধু বসে থাকব কেন সেই মুহূর্তে তিনি লিখতে আরম্ভ করলেন, "আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে", তাঁর গানে সেই সময় কী মিশেছিল? মিশে ছিল গভীর বেদনা, এক নীরব কান্না যা ছিল বড়ই করুণ।
ঈশ্বরের আরাধনায় উপকরণে ধূপ দীপ ফুল মালা কিছুই থাকত না শুধুই ছিল হৃদয় নিংড়ে আসা সংগীত। এই সংগীত পূজার সব মন্ত্র।
মৃত্যুর মতন করুণ বিচ্ছেদকেও তিনি বরণ করেছেন বারবার। তাঁর বেদনা, কান্না গভীর হয়ে মিশে গেছে অসীম অনন্তে, "সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর " / আমার মাঝে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর"।
***

No comments:
Post a Comment