প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Showing posts with label ধারাবাহিক গল্প. Show all posts
Showing posts with label ধারাবাহিক গল্প. Show all posts

Saturday, August 15, 2026

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে [১ম পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে
[১ম পর্ব]

"এ আকাশ সে আকাশে এখন আগুন খোঁজে কামতাপুরী ভাওয়াইয়া গানের সুর! এমন সুন্দর একখানি মধুময় ভূমিখণ্ডের সাথেই তো জন্ম-জন্মান্তরের ঋণে জড়িয়ে যাওয়া যায়! গলায় এক আঁজলা অঞ্জলি জড়িয়ে গেয়ে ওঠা যায়, 'এই অরণ্য, নদী, পর্বত, নুড়ি-পাথরে ভরা এই ভূখণ্ড, আমার দেশ! আমার একার দেশ! মোর দেশ, মোর স্বর্গ!'"

 
জঙ্গলের গা ঘেঁষে পাহাড়চূড়োর মতো অনন্ত নরম আকাশে, বসন্ত যেন উড়ে এসেছে মিহি রঙের গুঁড়ো আবিরের মতো। ওপাশে আপার তেন্দু ফরেস্ট আর এ পাশে পরপর চা-বাগান পেরিয়ে গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক। মাঝে বিগতযৌবনা কোনো স্থানীয় রমণীর মতো, নিমগ্ন আলোড়নে ক্ষীণ রেখাটি হয়ে এঁকেবেঁকে

ছাই রঙের মাটি [১ম পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
ছাই রঙের মাটি
[১ম পর্ব]

"হাজার হাজার বছর অগেকার কাল থেকে বয়ে চলেছে নদীটা। ঢেউ তার অবিচল। কখনো তা ধীর শান্ত, কখনো তাকে ফুঁসে উঠে পাড় ভাঙতে দেখেছে প্রবাল! বর্ষাকালে তার উচ্ছ্বাস দুপাশের বেলে মাটিতে ছোটো ছোটো গর্ত তৈরি করত। সঙ্গে করে নিয়ে এসে ফেলত ছোটো ছোটো মাছেদের স্তূপ।"

 
ঝাঁ চকচকে একটা কর্পোরেট অফিস! এই অফিসের ক্যানটিন থেকে বাথরুম সবজায়গায় একটা হাইফাই ব্যাপার আছে। একবার অফিসটায় ঢুকে পড়লেই মনে হয় যেন কোন ফাইভ স্টার হোটেলে এসেছি! বিশাল বড়ো ক্যানটিন।

স্নায়ুর সিঁড়ি [১ম পর্ব] | ভাস্কর সিনহা

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
ভাস্কর সিনহা
স্নায়ুর সিঁড়ি
[১ম পর্ব]

"সুইটি বুঝে নেয়, এই আগের মতো নয় মানে আগে যা ছিল, এখন আর তা নেই—শরীর যেমন, শহরও তেমনি। বাইরে কুয়াশা নয়, ধোঁয়া। ভিতরে নিস্তব্ধতা নয়, নিউরাল-হেঁচকি—স্মৃতির পর্দা আটকে আটকে কেবল ওঠানামা করে যাচ্ছে।"

 
নিভে যাওয়ার আগে রবিবাবু চোখ খুললেন। মুখের কাছে একটু ঝুঁকে সুইটি হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল, “চা খাবেন?”
 
চায়ের বাষ্প উঠে এসে মিনিটখানেক জানালার ধারে দাঁড়িয়ে

ইজ্জত আলীর কষ্ট [১ম পর্ব] মমিনুল পথিক

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
মমিনুল পথিক
ইজ্জত আলীর কষ্ট
[১ম পর্ব]

"এমন এক সময়ে ইজ্জত আলীকে কাজে লাগানো হয়েছিল যে সময়ে করিমা বেগমকে কেউ একটি পয়সা দিয়েও সাহায্য করেনি। এই ইব্রাহিম মোল্লাই প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক মূহূর্তে করিমা বেগমের চিকিৎসা-সেবা, ইজ্জত আলীকে কাজে লাগানো এবং নগদ অর্থ দিয়েছিলেন তিনি।"

 
খুব ভোরে উঠে রওনা দিতে হয় ইজ্জত আলীকে। বাড়ি থেকে কারখানা প্রায় কুড়ি কিলোমিটার। তিন-চার কিলোমিটার হাঁটা পথ। বাকিটা অটো কিংবা ইজি বাইকে করে শহরে পৌঁছাতে হয়। সকালে কিছু খাবার জুটলে খেয়ে দুপুরের খাবারটি সাথে নেয়। শহরে সে একটি লেদ কারখানায় কাজ করে। বয়স বারো-তেরো হবে হয়তো।

মাইনকা বেদের মাদুলি [১ম পর্ব] | রাখী সরদার

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
রাখী সরদার
মাইনকা বেদের মাদুলি
[১ম পর্ব]

"এই বেদেরা একেবারেই ভালো নয়। কত কিছু ঝাড়ফুঁক জানে! সুযোগ পেলেই নাকি বাচ্চা চুরি করে। সুধা সে কারণে খামারে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। বাড়িতে বুড়ি শাশুড়ি আছে। কিন্তু তার ভরসায় বিভুকে রেখে আসতে পারল না।"

 
ছোট্ট বিভু একমনে কাদামাটি নিয়ে খেলছে। মাটি দিয়ে গুলি বানাচ্ছে, বল বানাচ্ছে। খামারবাড়ির একধারে আমগাছের তলায় বসে সে খেলে চলেছে। সুধা খামারের মাঝবরাবর বাঁশের আগড়ে ধান পিটছে। রমেশ ধানের বিচুলিগুলো

চাবিওয়ালা [১ম পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
চাবিওয়ালা
[১ম পর্ব]

"জহির জবাব দেয় না কখনো। ওর কমতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল; সে-কারণে ও স্ত্রীর সাথে কখনো লাগে না। ছাপড়ার বাইরে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ঢুকল ভেতরে। রান্না এখনো শেষ হয়নি। ও বিছানায় উঠে বসতেই সন্তান দুটো ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।"

 
আজ সারাদিন কামাই না হলেও জহিরের মন খারাপ নেই। মাঝেমধ্যে ওর এমনটা হয়ে থাকে। নো ওয়র্ক, নো আর্নিং! ওই দিনে সারাদিন কাটায় ও মোবাইল ফোনে গান শুনে এবং ফেসবুক ঘাটাঘাটি করে। কামাই না হওয়ায় ইণ্টারনেট খরচাটা বাজে খরচা হিসেবে থাকে। ও সকাল সাড়ে দশটায় এসে কাজে বসে; ডেরায় ফিরে যায়

চোখের জল [১ম পর্ব] | শ্রীময় ঘোষ

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
ধারাবাহিক গল্প
শ্রীময় ঘোষ
চোখের জল
[১ম পর্ব]

"দু বছরের মধ্যেই শুভেন্দু হিরণ্ময়ীকে ভালোবাসতে শুরু করল। দুজনে এখন গা ঘেঁষে বসে। তফাতে বোন কিরণবালা। কিরণবালা যখন ব্যাপারটা বুঝল তখন শুভেন্দু আর হিরণ্ময়ীর প্রেম চরমে। তারা দুজন প্রায় দিনই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা যায়। পার্কে বেড়ায়।"

 
বড়ো মেয়ের ভালো নাম হিরণ্ময়ী আর ছোটো মেয়ের কিরণবালা। দাদু হীরেন্দ্রনাথ দত্ত তখনকার দিনে নাম করা লেখক ছিলেন। তিনিই দুই নাতনির নামকরণ করেছিলেন। নাম দুটো বেশ বড়ো আর পুরোনোপন্থী বলে ওদের ডাক নাম দেওয়া হল হীরা আর কিরণ। দুটো নামই কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে মানানসই।

চোখের জল [২য় পর্ব] | শ্রীময় ঘোষ

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/০৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শ্রীময় ঘোষ
চোখের জল
[২য় পর্ব]

"সবার মন থেকে কিরণবালার কথা মুছে গেছে। ব্যস্ত জীবনে কে আর মনে রাখে সেই যুবতী কিরণবালাকে যে মনের অভ্যন্তরে একজন পুরুষকে ভালোবেসে নিজের জীবন তুলে দিতে চেয়েছিল তার হাতে। শুধু মুখ ফুটে বলতে পারেনি তার ভালোবাসার কথা কখনও।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
কিরণবালা আর হিরণ্ময়ী দুই বোন আজকাল আর একসাথে কলেজ যায় না। কলেজে নিত্যদিন হিরণ্ময়ী আর শুভেন্দু থাকে অ্যাবসেণ্ট। কিরণবালার রাগ বাড়তে লাগল। তারও ক্লাসে মন বসে না। সে বুঝতে পারছে না কী করবে! তার আর করার কী-ই বা আছে! দুই বোনের মধ্যে কোন কথাবার্তা হয় না আজকাল।

চাবিওয়ালা [১ম পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
চাবিওয়ালা
[২য় পর্ব]

"অ্যাণ্টিকরাপশনের ডরে ডিআইজি সাব ব্যাংকে বেতনের টাকা ছাড়া অন্য টাকা রাখত না। ঘুষের সব টাকা এই ঘরের চার দেয়ালে লুকায়া রাখছে। মানুষের রক্ত চুইষা টাকা কামাই করছে এই ঘুষখোর পুলিশ অফিসার।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
জহিরের প্রতিক্রিয়ায় রুবেল প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও সামলে নিয়ে এক চিলতে নিস্প্রাণ হেসে বলল,
-আমাকে চিনতে পারলেন না? আমি রুবেল, গতকাইল রাইতে একটা চাবি বানানো নিয়া কথা বলছিলাম।
সিগারেটে একটা টান দিয়ে

মাইনকা বেদের মাদুলি [২য় পর্ব] | রাখী সরদার

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১তম সংখ্যা/০৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রাখী সরদার
মাইনকা বেদের মাদুলি
[২য় পর্ব]

কোথাকার কে সে তোর দাদু হল? চল, বাড়ি চল। তুই কাকে বলে এখানে এইচিস! আমরা দুটো লোক খেটে মরছি, আর তুমি যা খুশি করে বেড়াবে? সবে দু’-দিন জ্বর থেকে উঠেছে। আবার রোদে টো টো করে ঘোরা! তোর পিট ভাঙব, বাড়ি চল।”

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
বেদের ডুগডুগির শব্দে পাড়ার ছেলেমেয়েরা মাইনকা বেদের পিছু নেয়। আজ স্কুল ছুটি। সাপ খেলার ডুগডুগির শব্দ বিভুর কানেও যায়। সে বাবা-মাকে কিছু না বলে ছুটতে ছুটতে ছেলেদের দলের সঙ্গে হাঁটতে থাকে।

মাইনকা বেদের মাদুলি [৩য় পর্ব] | রাখী সরদার

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১২তম সংখ্যা/১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রাখী সরদার
মাইনকা বেদের মাদুলি
[৩য় পর্ব]

"সুন্দরী এমন ব্যবহারে একটু হতভম্ব হয়ে যায় প্রথমে! কেউ তো তাদের স্পর্শ করে না। সেও তো কারও মা ছিল। সন্তানের কিছু হলে মা যে কত কষ্ট পায়, তা বোঝে।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
কথাগুলো বলতে বলতে বুড়ি চুপ করে যায়।
কী বলছিল?”
না, তুই একুনি রাগ করবি শুনে।”
আঃ! বলো তো।

মাইনকা বেদের মাদুলি [৪র্থ পর্ব] | রাখী সরদার

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১৩তম সংখ্যা/১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
রাখী সরদার
মাইনকা বেদের মাদুলি
[৪র্থ পর্ব]

"রমেশের মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রকাণ্ড ঝড় আছড়ে পড়ল তাদের মাটির ঘরটিতে। সেই ঝড় এক টানে অতবড় বাঁশের আগড়টার দড়ি ছিঁড়ে বাইরে পুব আকাশের দিকে উড়িয়ে নিয়ে গেল! ঝড়ের দাপটে তাদের মাটির ঘরটাই বোধহয় উড়ে যাবে!"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
যখনই পূর্ণিমার চাঁদ মেঘের আড়ালে চলে যায়, সেই মুহূর্তে ভাগাড় থেকে কুড়িয়ে আনা শকুনের পালক মোমবাতির আগুনে পোড়াতে থাকে। আর বিড়বিড় করে এক মন্ত্র পড়তে থাকে। চাঁদ আকাশে দেখা গেলেই চুপ হয়ে যায়। মেঘের আড়ালে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

ইজ্জত আলীর কষ্ট [২য় পর্ব] | মমিনুল পথিক

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
মমিনুল পথিক
ইজ্জত আলীর কষ্ট
[২য় পর্ব]

"কাজ প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ কী এক আনমনে হয়ে পড়ে ইজ্জত আলী। মেটাল টার্নিং চাকায় সার্টের একটি হাতা পেঁচিয়ে যায়। সাথে তার ডান হাতটিও চাকার ভেতর ঢুকে দুমড়ে মুচড়ে যায়।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
সময়ের পরিক্রমায় দিন, মাস, বছর পেরিয়ে যায়। ইতোমধ্যে ইজ্জত আলী শিশু শ্রমিক এর অপবাদ কাটিয়ে উঠেছে। সে এখন হেডমিস্ত্রি হয়ে গেছে। বেতনও বেড়েছে মায়ের আর কোন কষ্ট হবে না। করিমা বেগম ভাঙা পা নিয়েই আবার কাজ করতে চায়। কিন্তু ছেলের একদম না। কোনমতেই মা’কে আর পরের বাড়িতে কষ্ট

স্নায়ুর সিঁড়ি [২য় পর্ব] | ভাস্কর সিনহা

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/০৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
ভাস্কর সিনহা
স্নায়ুর সিঁড়ি
[২য় পর্ব]

"আংটি কানে বলল, “আমি তোমাদের নাতি নই—আমি তোমাদের মায়ের পুণর্জন্মের চাবি। নাম ছিল বৈশাখী। তোমাদের ছেড়ে আমি মন ভাণ্ডারে আটকে আছি। আমার ছেলের নাম অনি। তোমার নাম সুমি। তোমরা আমাকে ভুলে গেছ—ভয় পেয়ে।"

 
পূর্বানুবৃত্তি আংটি! দেরাজ খুলতেই সত্যি এক চিকন সোনালি বৃত্ত—চওড়া নয়, পাতলা; ভিতরের দিকে কাঁটা চামচের দাঁতের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খাঁজ কাটা; নড়াচড়া করলে সোনার মাঝে ক্ষীণ নীল অঙ্গুরী জ্বলে ওঠে। তারপর…
 
একজন রোবো–অ্যাটেনডেন্ট এসে দাঁড়ায়—হাসে—কিন্তু চোখে পলক নেই। “আপনার নাটি–ফাইল,” বলে হাত বাড়িয়ে ছোট্ট লেফাফা দেয়। ভিতরে একটা নিউরাল–কী—খুব পাতলা পাত, সোনার আংটির মতোই।

ছাই রঙের মাটি [২য় পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/০৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
ছাই রঙের মাটি
[২য় পর্ব]

"আর কি কোন স্মৃতি নেই? নেই কি বেঁচে মনের ভিতর চিন্তার কোন ধূপছায়া তরঙ্গ? ইটভাটার পাশে আমবাগানে ছোট্ট একটা শিশুকে বসিয়ে দোল দিচ্ছে একটি বালিকার হাত। বয়স মেরে কেটে বছর দশেক হবে।"

 
পূর্বানুবৃত্তি 
 
প্রবালের পুরো নাম প্রবাল কুমার বসু। একটা মূলত ন্যাশনাল কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যানেজার লেভেলে আছে ও। নিউটাউনের কাছে একটা অভিজাত আবাসনে প্রবালের নিজস্ব ফ্ল্যাট আছে। একাই থাকে। সদ্য একটা বিলিতি গাড়িও কিনেছে। চাকরিটা ওর দৈনন্দিন জীবনে বেশ একটা আভিজাত্যের ছাপ এনে দিয়েছে।

ছাই রঙের মাটি [৩য় পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১২তম সংখ্যা/১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
ছাই রঙের মাটি
[৩য় পর্ব]

"চাপ চাপ অন্ধকারের মতন, ইটভাটার ছাই ঠিক যেখানটায় গিয়ে চূর্ণী নদীতে গিয়ে মিশে যেত সেই জায়গার জমাট বাঁধা কালো মাটিটার মতন, শ্রীগুরু নার্সারির গোলাপের মাটিতেও কি অল্প একটু দেলদার আর অল্প একটু বুলু পাশাপাশি মিশে আছে?"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
মেইলটা এতক্ষণ খোলা অবস্থায় পড়েছিল। হঠাৎই নতুন ইনকামিং মেইলের নোটিফিকেশন সাউন্ডে সম্বিৎ ফিরে পায় প্রবাল। মেল চেক করে প্রবাল দেখে অ্যাডমিন থেকে একটা কার্ড এসেছে মেলে। সাবজেক্ট ‘গার্ডেননিং ডিটেলস’। মেইলটা আবার ফরওয়ার্ড হয়েছে কর্পোরেট ইসথেটিক্স গ্রুপ থেকে। সেই মেলটা আবার এসেছে ভেন্ডরের কাছ থেকে।

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে [২য় পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১তম সংখ্যা/০৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে
[২য় পর্ব]

"কমলার স্তনের বোঁটা বেয়ে দুধ বেরিয়ে এসে ভিজে যায় চারপাশ! হীরেনের দাপাদাপি তবু থামে না! যেন কাঁটা বসানো ক্ষুরধার লিঙ্গ তার! কমলার জরায়ুর বেদনা ভুলতে দিতে চায় না সে কোনো মতে! ঢুকিয়ে, পেঁচিয়ে প্রতিদিন নতুন করে খনন করে চলে সে কমলার যোনিদেশ!"

 
পূর্বানুবৃত্তি ডুয়ার্সে চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায় প্লাবিত এ জগৎ-সংসারে, রাতচোরা হুতোমের ধূসর চোখে জঙ্গলের সেই ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে-চেয়ে, কমলা জেগে থাকে সারারাত। ঘরে তার প্রায় ডজনখানেক ছেলেমেয়ে। সাতটি ছেলে, পাঁচটি মেয়ে। শেষেরটির বয়স এখন কুড়ি দিন। আসলে এরা শুধু তো সন্তান নয়, ওদের কাছে বরং এরা এই বর্মন দম্পতির জন্য এদেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা মৌলিক অস্তিত্বের শিকড়! তারপর
 
প্রতিবার পোয়াতি হলে সদরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয় কমলা। প্রতিবার বাচ্চার সাথে নতুন সরকারি কাগজ। আসলে কমলা-হীরেন-পার্বতী মায় পুরো এই বর্মন পরিবার, এমনকি এই জনপদের অধিকাংশ বাসিন্দাই তো এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়! এদের অনেকেই কয়েক যুগ আগে পরিযায়ী হয়ে চলে এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে [৩য় পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১২তম সংখ্যা/১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে
[৩য় পর্ব]

"হীরেনের মুখে শুনেছে কমলা, পোষ মানানোর প্রথম দিনের কথা! সে দৃশ্য বড়ো নির্মম! হাতিটার চারটে পা চারটে খুঁটির সঙ্গে বেশ মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে এই বাঁধনগুলো পরাবার কাজ চলে। সেসময় হস্তীশাবকটির কান ফাটানো চিৎকারে পুরো জঙ্গল কেঁপে ওঠে!"

 
পূর্বানুবৃত্তি রাখালিয়া বাঁশিতে সুর তোলে হীরেনতার বাঁশির সুরে জঙ্গলের শাল-সেগুন-গামার গাছে জন্ম নেয় কয়েকশো চুমুর রোমান্টিকতা! হয়তো ওর না-বলা ভালোবাসাগুলো অব্যক্ত প্রেম আর ব্যর্থযাপনের কবিতা হয়ে তাতে মিশে থাকে। যেন এক আদিম অরণ্যমানবের সবুজ হারানো উদাস কথকতা, দূরের পাহাড়ের গায়ে তোলা অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে আসে, এক ফোঁটা গাঢ় বাদামি রঙের জাদুধ্বনি হয়ে! তারপর…

প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে এসবই দূর থেকে লক্ষ্য করে কমলা। হাতিটার পেছনের পা দুটো একটা মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা এখনো! পাটের দড়িটা রোদে পুড়ে জলে ভিজে হলদে হয়ে গেছে। দড়িটা সোজা উঠে হাতিটার পেটের তলা দিয়ে ঘুরিয়ে লেজের তলায় পাক দিয়ে বাঁধা। একে মাহুতদের ভাষায় ‘জাঙ্গিয়া’ বলে। এই বাঁধনটার ফলে তার লেজটা একটু উঁচু হয়ে আছে এবং লেজ নাড়লে হাতিটার ঈষৎ কালচে

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে [৪র্থ পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১৩তম সংখ্যা/১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে
[৪র্থ পর্ব]

"কমলাকে দেখে সে মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে পড়েছে ততক্ষণে। ঈষৎ স্তনভারে সামনের দিকে ঝুঁকে গেছে তার শরীর। অর্ধ-উন্মীলিত বক্ষদেশের নিচে তার নির্মেদ কটিদেশ বেরিয়ে রয়েছে, শালজঙ্গলে পথ হারানো ভীরু হরিণীর মতো! না, সেখানে মাতৃত্বের কোনো চিহ্ন নেই!"

 
পূর্বানুবৃত্তি আশীর্বাদ পর্ব সেরে পার্বতী তার দেবর আর দেবরানীর কপালে আলতো করে চুমু দিয়েছিল। শ্রাবণের জলভরা মেঘ যেমন স্রোত নিয়ে আসে মূর্তির বুকে, জঙ্গল ঋতুমতী হয়, ওজন লাগে তার ভারী শরীরে, ঠিক তেমন একটা সমর্পিত স্তনভারে পার্বতীর শরীরটা ঝুঁকে পড়েছিল সামনের দিকে। তারপর…

এর পরের সাংসারিক জীবনে অবশ্য পার্বতী আর বিশেষ সদ্ভাব রাখেনি কমলার সাথে! জঙ্গলে কাঠ কুড়ানো, শুয়োর-গরু প্রতিপালন, রাত জেগে হাতির হাত থেকে ক্ষেত পাহারা দেওয়া—এসব কাজ সমানে সমানে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এমনকি বিষুয়ায় আটকলাই-বাটকলাই ভেজে বাড়ির চালে ছড়ানো, ঘরের দরজায়

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে [৫ম পর্ব] | শাশ্বত বোস

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১৪তম সংখ্যা/২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে
[৫ম পর্ব]

"দেশ বানায় মানুষ, মানুষই মানুষের স্বাধীনতার সীমানা বাঁধে! সেই মানুষ আবার সুরও তো বাঁধে! সুরের সাথে মিলেমিশে যেতে পারলে মানুষ নদী হয়ে যায়! স্রোতের মতন ঝরনা হয়ে গড়িয়ে পড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে!"


পূর্বানুবৃত্তি হাতে হাতে তিল আর খেজুর গুড় জড়ো করে ঢেঁকিতে দেয় পার্বতী আর তালে তালে পা চালায় কমলা। যেন একই পুরুষের সাথে সফল আসক্ত একটি সঙ্গমের পর কোনো কাল্পনিক নাগরদোলার দুই মাথায় চড়ে বসেছে দুই নারী! একদিকে শর্তাধীন নীরবতা, আর অন্যদিকে অশুচি একাকীত্ব! তারপর…

যৌবনের প্রথম মিলন-কামনায় চঞ্চলা কিশোরীর মতন প্রবল কামজ্বরে পুড়েছে কমলা ওকে ঘিরে। ওদের দেহতাপে পুড়ে গেছে সেই গৃহস্থ দুপুরগুলো! আজও রাতের অন্ধকারে যখন ওর শোবার ঘরে বাঁধভাঙা রতির সন্ত্রাস চলে, ওর যোনিদেশে আঁকা হয় ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের স্থায়ী বন্দোবস্ত, যখন ওর বুকে হৃৎপিণ্ডের দৌড়োনো

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)