বাতায়ন/আতঙ্ক/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/৫ম
সংখ্যা/৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
অন্দরের
ভূত ভয়ঙ্কর
[৩য় পর্ব]
আতঙ্ক | ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
[৩য় পর্ব]
"নাবিলার ছায়ামূর্তি রয়ে গেল জগবন্ধুর সামনে। জগবন্ধু তাকাল নাবিলার পায়ের দিকে, উল্টো হয়ে আছে পা। তার মানে এটা নাবিলার ভূত! এখন উপায়?"
পুরিয়াটা জগবন্ধুর দিকে বাড়িয়ে ধরে যুবতীটি বলল,
-আপনি গাঁজা খান?
জগবন্ধু চলে গেল নিজ গন্তব্যে। কিছুদিন পরে বসুন্ধরা শপিংমলে দেখা হয়ে গেল ওদের। মেয়েটিই ওকে চিনে কথা বলল ওর সাথে যেচে। নাম বলল নাবিলা। নিয়ে গেল ফুডকোর্টে। এরপর দেখা হতেই থাকল ওদের! দেখা হতে হতে নাবিলার হাত পড়ল জগবন্ধুর হাতের উপর। জগবন্ধু ধরে ফেলল হাতটা। পাশাপাশি হাত ধরে চলতে চলতে কাছাকাছি চলে এলো দু'জন কোনো একদিন। মুখে না বললেও দুজন দুজনকে ভালবাসতে লাগল পাগলের মতো। ভালবাসতে-বাসতে একদিন অসতর্ক মুহূর্তে নাবিলা হয়ে গেল গর্ভবতী। মেয়েদের এই সমস্যাই ওদের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে অধিকাংশ সময়। নাবিলার বিয়ের চাপ, আর জগবন্ধুর গর্ভপাত করানোর চাপ। এই দুই-এর দ্বন্দ্বে জিতল তৃতীয় এক পক্ষ। এই তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রক জগবন্ধু নিজে।
কিছুদিন পরে এক সন্ধ্যায় নাবিলা জগবন্ধুর বাসায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ল। অনেক আদর করে মিষ্টি মিষ্টি ভালবাসার কথা বলে নাবিলার কান্না থামিয়ে জগবন্ধু জিজ্ঞেস করল,
জগবন্ধু বলল,
জগবন্ধু ডাইনিং স্পেস গিয়ে পানির সাথে কয়েক ডোজ বেশি ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে নিয়ে এলো। নাবিলার হাতে দিয়ে বলল,
উল্টো বা খারাপ কিছু করতে পারে জগবন্ধু, তা একদম মনে হয়নি নাবিলার। সে এক চুমুকে গ্লাসের পানিটা পান করে ফেলল। আস্তে আস্তে নাবিলা তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে। এবার জগবন্ধু ক্রুর হাসি হাসল সামান্য। অসচেতন নাবিলাকে নিয়ে এলো এখানে। নিজ হাতে কবর খুঁড়ে গভীর ঘুমে নিমগ্ন নাবিলাকে কবরে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে চলে গেল, পেছনে কোনো সাক্ষী না রেখে। নাবিলার হয়ে গেল জীবন্ত সমাধি।
বায়স্কোপ শেষ হয়ে গেলেও নাবিলার ছায়ামূর্তি রয়ে গেল জগবন্ধুর সামনে। জগবন্ধু তাকাল নাবিলার পায়ের দিকে, উল্টো হয়ে আছে পা। তার মানে এটা নাবিলার ভূত! এখন উপায়? নাবিলা নাকি স্বরে বলল,
নাবিলা ঢুকে গেল জগবন্ধুর শরীরের ভেতরে। জগবন্ধুর শরীরের ভেতর থেকে নাবিলার ভূত বলল,
জগবন্ধু বলল,
-তুমি আমার শরীরে ঢুকে আছ। আমরা এভাবেই থাকি না কেন! জীবিত অবস্থায় না থাকতে পারলেও মৃত্যুর পর থাকতে পারছ! আর তুমি এভাবে থাকলে আমি অন্য কোনো মেয়ের কাছেও যেতে পারব না!
-তোমার এই কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে। তোমার লাইফকে হেল করার জন্য আমি আরো কাজ করে যাব!
-তাহলে আমার থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই! কী বলো নাবিলার ভূত? ভূত হয়ে তুমি কি অন্য কোনো নাম নিয়েছ?
~~000~~

No comments:
Post a Comment