প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর [৩য় পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/আতঙ্ক/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/৫ম সংখ্যা/৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
 
অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর
[৩য় পর্ব]

"নাবিলার ছায়ামূর্তি রয়ে গেল জগবন্ধুর সামনে। জগবন্ধু তাকাল নাবিলার পায়ের দিকেউল্টো হয়ে আছে পা। তার মানে এটা নাবিলার ভূত! এখন উপায়?"

 
পূর্বানুবৃত্তি জগবন্ধু বন্ধু সিদ্ধান্তের কাছে একজন তান্ত্রিকের সন্ধান চায়। তান্ত্রিক ত্রিদেব জটাধারী বাবাকে। দুটো গজারি গাছকে একত্রিত করে উপরে মাচা বানিয়ে বসে আছেন তান্ত্রিক বাবা। তার সাথে কথা বলতে হলে ওকে দড়ি বেয়েই উপরে উঠতে হবে! তারপর…
 
এরপর কঙ্কালের গায়ে মাংশ লাগতে লাগতে হয়ে গেল শাড়ি-আবৃত এক যুবতী। ওকে চেনে জগবন্ধু নাথ। ওর কারণেই ওকে ছাড়তে হয়েছে গাঁজা। তবে ওর নেশা ছিল গাঁজার চেয়ে বেশি। ওর নাম নাবিলা। এখন ওকে দেখে বেশ চমকে উঠল জগবন্ধু। নাবিলা মরে ভূত হয়ে গেছে কবেই! এটা কি নাবিলার ভূত? এই ভূতই কি ওর সাথে ভয়ংকর খেলা খেলছে? প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে? নাবিলার সাথে ওর পরিচয়টা বেশ মজার। জগবন্ধু একদিন গাঁজা কিনতে গিয়েছিল আগারগাঁও-এর বিএনপি বস্তির এক ঝুপড়িতে। ঝুপড়ি থেকে বের হতেই এক নেশাখোর ছিনতাইকারী গাঁজার পুরিয়াটা ছোঁ মেরে নিয়ে দিল দৌড়। জগবন্ধু নাথ দৌড়াচ্ছে ছিনতাইকারীর পেছনে। দৌড়াতে দৌড়াতে যখন ও ক্লান্ত, তখন একটা মেয়ে ভোজবাজির মতো ওর সামনে এসে দাঁড়াল। হাতে গাঁজার পুরিয়াটা।
পুরিয়াটা জগবন্ধুর দিকে বাড়িয়ে ধরে যুবতীটি বলল,
-এটার জন্যই দৌড়াচ্ছেন! কী এটা?
জগবন্ধু পুরিয়াটা নিয়ে বলল,
-গাঁজা।
-আপনি গাঁজা খান?
-শুধু গাঁজাই টানি! অন্যকিছু ধরি নাই এখনো!
জগবন্ধু চলে গেল নিজ গন্তব্যে। কিছুদিন পরে বসুন্ধরা শপিংমলে দেখা হয়ে গেল ওদের। মেয়েটিই ওকে চিনে কথা বলল ওর সাথে যেচে। নাম বলল নাবিলা। নিয়ে গেল ফুডকোর্টে। এরপর দেখা হতেই থাকল ওদের! দেখা হতে হতে নাবিলার হাত পড়ল জগবন্ধুর হাতের উপর। জগবন্ধু ধরে ফেলল হাতটা। পাশাপাশি হাত ধরে চলতে চলতে কাছাকাছি চলে এলো দু'জন কোনো একদিন। মুখে না বললেও দুজন দুজনকে ভালবাসতে লাগল পাগলের মতো। ভালবাসতে-বাসতে একদিন অসতর্ক মুহূর্তে নাবিলা হয়ে গেল গর্ভবতী। মেয়েদের এই সমস্যাই ওদের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে অধিকাংশ সময়। নাবিলার বিয়ের চাপ, আর জগবন্ধুর গর্ভপাত করানোর চাপ। এই দুই-এর দ্বন্দ্বে জিতল তৃতীয় এক পক্ষ। এই তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রক জগবন্ধু নিজে।
কিছুদিন পরে এক সন্ধ্যায় নাবিলা জগবন্ধুর বাসায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ল। অনেক আদর করে মিষ্টি মিষ্টি ভালবাসার কথা বলে নাবিলার কান্না থামিয়ে জগবন্ধু জিজ্ঞেস করল,
-এভাবে কাঁদছ কেন ডার্লিং?
-আমি অ্যাবর্সান করাব না! বিয়ে করে ফেললে এই সমস্যা আর থাকে না। চলো আজই আমরা বিয়ে করে ফেলি। কাছেই একটা মন্দির আছে।
জগবন্ধু বলল,
-ডোন্ট রি! আমরা বিয়েই করে ফেলব! এখন আমি এক গ্লাস পানি নিয়ে আসছি। পানিটা খেয়ে একটু শান্ত হয়ে বসো।
জগবন্ধু ডাইনিং স্পেস গিয়ে পানির সাথে কয়েক ডোজ বেশি ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে নিয়ে এলো। নাবিলার হাতে দিয়ে বলল,
-আস্তে আস্তে পানিটা পান করে ফেলো। দেখবে খুব ভাল লাগবে।
উল্টো বা খারাপ কিছু করতে পারে জগবন্ধু, তা একদম মনে হয়নি নাবিলার। সে এক চুমুকে গ্লাসের পানিটা পান করে ফেলল। আস্তে আস্তে নাবিলা তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে। এবার জগবন্ধু ক্রুর হাসি হাসল সামান্য। অসচেতন নাবিলাকে নিয়ে এলো এখানে। নিজ হাতে কবর খুঁড়ে গভীর ঘুমে নিমগ্ন নাবিলাকে কবরে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে চলে গেল, পেছনে কোনো সাক্ষী না রেখে। নাবিলার হয়ে গেল জীবন্ত সমাধি।
বায়স্কোপ শেষ হয়ে গেলেও নাবিলার ছায়ামূর্তি রয়ে গেল জগবন্ধুর সামনে। জগবন্ধু তাকাল নাবিলার পায়ের দিকে, উল্টো হয়ে আছে পা। তার মানে এটা নাবিলার ভূত! এখন উপায়? নাবিলা নাকি স্বরে বলল,
-আমার কাছ থেকে তোমার নিস্তার নেই জগবন্ধু নাথ! আমি তোমার ভেতরে ঢুকে আছি। বিশ্বাস না হলে দেখো!
নাবিলা ঢুকে গেল জগবন্ধুর শরীরের ভেতরে। জগবন্ধুর শরীরের ভেতর থেকে নাবিলার ভূত বলল,
-এতদিন তোমার সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সব আমি করেছি। আমাকে হত্যার দায় স্বীকার না করলে তোমার শরীরের ভেতরে রয়ে যাব আমি এবং তোমার জীবনকে নরক বানিয়ে রাখব! মাইন্ড ইট!
জগবন্ধু বলল,
-আবেগের বশে তোমাকে মেরে ভাল কাজ করি নাই! এখন আমার খুব খারাপ লাগছে! আমাকে মাফ করা যায় না?
নাবিলা বলল,
-প্রশ্নই আসে না! তোমার মতো লম্পটদের ক্ষমা করার মানে হলো আরো কিছু মেয়ের সর্বনাশ তথা অপমৃত্যুর পথ করে দেয়া।
-তুমি আমার শরীরে ঢুকে আছ। আমরা এভাবেই থাকি না কেন! জীবিত অবস্থায় না থাকতে পারলেও মৃত্যুর পর থাকতে পারছ! আর তুমি এভাবে থাকলে আমি অন্য কোনো মেয়ের কাছেও যেতে পারব না!
-তোমার এই কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে। তোমার লাইফকে হেল করার জন্য আমি আরো কাজ করে যাব!
-তাহলে আমার থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই! কী বলো নাবিলার ভূত? ভূত হয়ে তুমি কি অন্য কোনো নাম নিয়েছ?
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)