প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Showing posts with label ধারাবাহিক উপন্যাস. Show all posts
Showing posts with label ধারাবাহিক উপন্যাস. Show all posts

Wednesday, July 23, 2025

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ৩১] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ডিভোর্স/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৯ই শ্রাবণ, ১৪৩২
ডিভোর্স | ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ৩১]

"আমরা তো আর রবীন্দ্রনাথ নইজীবনে যত কষ্ট পেয়েছেন তত বেশি সৃষ্টি করে গেছেন, "দুঃখ যদি না পাবে তোদুঃখ তোমার ঘুচবে কবে?”"


পূর্বানুবৃত্তি যে মাথা ভর্তি চুলের জন্য মনকলির এত গর্ব ছিল সেই  চুলও উঠে গেল, রাহুলের মনে হল লেখে থাক-না বাঁচার হলে এমনি বাঁচবে, বেচারা চাইছে ওর চুলগুল থাকুক কেন আর ধরে বেঁধে কেমো দেওয়া! এদিকে রাহুলের দাদা সুচরিতার প্রেগন্যান্সির খবরে বললেন, তারা খুব শিগগির আসছেন, ওনারা ওকে নিয়ে কলকাতায় আসবেন, একেবারে বাচ্চার অন্নপ্রাশন হয়ে গেলে তবে যাবি। তারপর…
 
সুচরিতা জিজ্ঞেস করল, এখানে ভাল আয়া মাসি পাওয়া যায় তো? আমার এক কলিগ বলল,

-ওর পুরুলিয়ার হসপিটালে ডেলিভারি হয়েছে, বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চার মাকে দেখার জন্য খুব ভাল আয়া পাওয়া যায় আর এরা খুব বিশ্বাসী হয়। ওর বাচ্চা তো এখনও ওই আয়া মাসির কাছে থাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে আসা চান করানো খাওয়ানো সব করে, কোন অসুবিধা নাকি হয় না?

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ৩২] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/১১তম সংখ্যা/১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ৩]

"লিসা আমার মন একেবারে ভেঙে দিয়েছেতখন ভেবেছিলাম বিয়েই করব নাদাদা  পেছনে লেগে লেগে  ঠিক করলওরা তো  সামনের মাসেই ঠিক করেছেমানে এখন থেকে আর এক মাস বাদে কিন্তু আমি বিয়েটা আর একমাস পেছতে চাইছি।"


পূর্বানুবৃত্তি শেষ অবধি আমি লড়ব তারপর তো ভগবানের হাত, তবে আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলেছিলাম আলাদা করে, ডাক্তার বললেন, days are numbered. তারপর…
 

-হ্যাঁ ধরেছে, কথাও হয় ফোনে, ভিডিও-কলে। সত্যি কথা বলতে কী জানিস বাঙালি ছেলের জন্য বাঙালি মেয়েই ভাল, সারাদিন পরিশ্রমের পর ওর সাথে কথা বলে একটা মানষিক তৃপ্তি পাই

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ৩৩] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/১২তম সংখ্যা/২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ৩]

"সুচরিতার মাসি-মামিরা এসে আলাদাভাবে সাধ খাইয়ে গেছেনসবাই ভাল ভাল শাড়ি দিয়েছেন মামার বাড়ি থেকে একটা ভাল শাঁখা বাঁধানো দিয়েছেমাসি মাথায় খোঁপার বেশ সুন্দর তারের কাজ করা সোনার ফুল দিয়েছেন।"


পূর্বানুবৃত্তি প্রবীরকে বলছি তোমার দাদা বা ভাই কেউ যদি থাকে ডেকে নাও ভাই, আমাকে এবার দেশে যেতে হবে, মা বিয়ে ঠিক করেছেন, বুঝতেই তো পারছ বয়স হয়েছে, একেবারে দিন ঠিক করে ফেলেছেন। তারপর…
 

এদিকে রাহুলের দাদা-বউদি এসে হই হই কাণ্ড আরম্ভ করে দিল, তোর আর কাণ্ডজ্ঞান হল না কাল বাচ্চা হবে আর আজ আমাদের বলছিস

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ৩৪] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/১৩তম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ৩]

"এটাই জীবনআসা যওয়ার পথের মাঝেই কেউ আসে পৃথিবীর নতুন আলো হাওয়ায়, আঁতুরঘরে শোনা যায় নবজাতকের কান্না আর অন্যদিকে শশ্মানের নীরবতা ও জীবন চলে যাওয়ার হাহাকার।"


পূর্বানুবৃত্তি
 

সজল আসার সময়ে প্রবীরকে অনেক বুঝিয়ে এল, ভারত থেকে প্রবীরের এক মাসতুতো ভাই এল, ও আসাতে সজলের আসাটা একটু সহজ এল, সুচরিতা আর রাহুলের মেয়ের ডাকনাম পাঠাল সজল, 'রুসা', তারপর একমাসের রুসাকে নিয়ে ওরা কলকাতা এল,

Friday, May 16, 2025

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৭] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/দহন/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
দহন | ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"সুপ্রকাশের বিয়ের পরপরই সজল চলে গিয়েছিল। প্রায় ছবছর পরে বউদির জমজ ছেলেমেয়ে হয়। তাই ওরা তাতাইকে শুধু ছবিতে দেখেই চিনেছে। একটা পারিবারিক আনন্দময় পরিবেশে বাড়িটা রমরম করে উঠল।"


পূর্বানুবৃত্তি মনকলির অসুখটা খুবই বেড়ে গেছে, প্রবীর কলকাতায় ডাক্তারের সঙ্গে কথা জেনেছে এবার রেডিয়েশন দিতে হবে, তাও একরকম ঠিক আছে। কারণ কেমো দিলে চুল সব উঠে যায় তখন মানসিকভাবে মনকলি আরও ভেঙে পরে। বড়ন্তির জলাধার চোখে-মনে যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল। ক্ষণিকের জন্য একটা সুন্দর অনুভুতির সংগীত মনের বীণার তারে তারে বেজে উঠল। তারপর…
 

পথে আসতে আসতে সজল জানাল,
-আমিও ভাবছি আজই ওদের সাথে কলকাতায় যাই, কতদিন মাকে দেখিনি, একাই তো যাচ্ছি, আশা করি বাবা আর কিছু বলবেন না বল?
-না না তুই নিশ্চিন্তে যা, আরে যতই হোক বাবা তো বাবাই হন তাই না?

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ৩০] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৯ম সংখ্যা/২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ৩০]

"জানিস বাবা নাকি শুধু মাকে খুঁজছিলকিন্তু মা একবার দেখতে যেতেও রাজি নন। ইতিহাস বোধহয় এমনিভাবে বদলে যায়যে মা বাবার মুখের দিকে চেয়ে কথা বলতে পারত নাসেই মা এখন বাবার ডাককে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে না বলে দিল।"


পূর্বানুবৃত্তি অতীতে রাহুলের আাসা যাওয়ার পথে, ফর্সা রঙের কোঁকড়াচুল, বড় বড় চোখের সুচরিতা হাঁ করে রাহুলের দিকে তাকিয়ে থাকত। রাহুল কোনদিন বোঝেনি, ওর চোখদুটো কী বলতে চায়! রাহুলের মনে তখন মনকলি। এদিকে সজলের মেইল, মনকলির অসুখটা বেড়ে গেছে, ডাক্তা টাইম দিয়েছে খুব বেশি হলে তিন মাস আর বেঁচে থাকতে পারে। তারপর…
 

সজলের চিঠিটা পড়ে রাহুলের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। সেই ছোট্ট থেকে দেখে আসছে। ঝলমলে ছটপটে মেয়েটা, সে এখন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে।

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৯| পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৮ম সংখ্যা/১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"সুচরিতা রাহুলের কানে কানে বললপ্রেগ্ন্যাসির টেস্ট-কিট একটা কিনে নিয়ে এসরাহুল শুনে তো লাফিয়ে উঠে সুচরিতাকে কোলে উঠিয়ে অজস্র আদরের ছোঁয়া দিয়ে দিল ওর মুঠোঁটচোখের পাতাগলা সর্বত্র।"


পূর্বানুবৃত্তি সজল এল কলকাতায়। আগেরদিন সজলের দাদা-বউদি ওদের ফ্ল্যাটে এসে সব পরিষ্কার করে রান্নার ব্যবস্থা করে রেখেছিল, সকালে ওর মাকে নিয়ে দাদা আসতে গেলে ছোটখাটো ঝামেলা হল। মাকে জীবনে প্রথম বাবার কথার উত্তর দিতে দেখল সজলের দাদা সুপ্রকাশ, মা ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, এটা কি বাড়ি ছিল? বাড়ির নামে জেলখানা ছিল, হাতে-পায়ে আমার শেকলের দাগগুলো খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে, এবার আমি নিজে হাতে সব শেকল খুলে দিয়ে যাচ্ছিতারপর…

সবাই চলে গেল, দেখতে৷ দেখতে দিনও কেটে যেতে লাগল জলের মতন। রাহুল সুচরিতার বিয়ের তিনমাস কেটে গেল। সুচরিতা বিশ্বভারতী থেকে রিলিজ লেটার নিয়ে পুরুলিয়ার বলরামপুর কলেজে জয়েন করল।

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৮] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৭ম সংখ্যা/৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"সুপ্রভাদেবী হাতের গোছাভরা চুড়িলোহাবাঁধানো স্বামীর টেবিলে রেখে লোহাবাঁধানো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে শাঁখা-পলা সব সানবাঁধানো উঠোনে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। ভেঙে খানখান হয়ে গেল শাঁখাজোরা। শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘসে ঘসে সিঁদুর মুছে ছেলেকে বললেন,"

 
পূর্বানুবৃত্তি সজল এলো কলকাতায়। বাবা-মা’র সঙ্গে অল্প ঝামেলা হলো। সুপ্রকাশ মাকে সঙ্গে নিয়ে সজলের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসতে চাইলে সজল মাকে দেখল এই প্রথম বাবার মুখের ওপর কথা বলতে। মা বলল এটা কি বাড়ি ছিল, নাকি একটা জেলখানা। তারপর…
 

পথে আসতে আসতে সজল জানাল,
-আমিও ভাবছি আজই ওদের সাথে কলকাতায় যাই, কতদিন মাকে দেখিনি, একাই তো যাচ্ছি, আশা করি বাবা আর কিছু বলবেন না বল?

Wednesday, April 9, 2025

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২২] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ঝড়/ধারাবাহিক উপন্যাস/য় বর্ষ/ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩
ঝড় | ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২২]
 

"আমার তো বাবা-মাও নেই নিজের কোন ভাইবোনও নেইআছ শুধু তুমিআমার নিজের চেয়েও তোমাকে ভালোবাসি গোকেন তুমি ভুল ভাববেএই ভুল ভাবাটা তোমার ছেলেমানুষি। রাহুল প্রাণপণে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে গভীর চুম্বন এঁকে দিল সুচরিতার ঠোঁটে।"


পূর্বানুবৃত্তি মনকলি সুচরিতাকে বিয়ের আসরে নিয়ে এলো, তার সৌন্দর্যে সকলেই প্রশংসা করল। সজল নিজেকে আর সামলাতে পারল না, সে আসর ছেড়ে বেরিয়ে এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে চলে গেল। সজলের অনুপস্থিতি রাহুলের নজর এড়ায়নি। তারপর…
 

প্রমোদবাবু  আস্তে আস্তে নিজের কোয়ার্টারের  দিকে এগোতে লাগলেন, মানুষটি ভারি ভালো, আবেগ প্রবণ, পরোপকারী, চট করে  আপন করে নিতে পারেন। যেদিন থেকে রাহুল এই কলেজে জয়েন করেছেন সেদিন থেকে তিনি এই পুত্রসম সহকর্মীকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ওর নির্মল সুন্দর মুখের নিষ্কলঙ্ক পবিত্রতা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। শুধু তাই নয় ছেলেটির পড়াশোনা এবং অসাধারণ স্মৃতিশক্তি মুগ্ধতার আর একটি কারণ। বহু সন্ধ্যা কেটে যেত রাহুলের সাথে রিসার্চ সমৃদ্ধ আলোচনায়।

 

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৩] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/২য় সংখ্যা/০৫ই বৈশাখ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"লিসা অবশ্য খুব ঠান্ডা মাথার মেয়ে। ‘হেসে হেসে বলছ কী হয়েছে তোমার সজলকেন এত ড্রিংক করছআর কোরো নাএবার ছেড়ে দাও’। ‘সরি লিসা আমি এখনি ছেড়ে দিচ্ছি।’"


পূর্বানুবৃত্তি পরোপকারী প্রমোদবাবুর একমাত্র পুত্র আমেরিকায় পড়ে আছে। পুত্রসম রাহুল কলেজে জয়েন করার পর এবং তার মেধা, প্রখর স্মৃতিশক্তি দেখে মোহিত হয়ে যান। তাদের বহু সন্ধ্যা রিসার্চ সমৃদ্ধ আলোচনায় কেটে যায়। এদিকে রাহুল সজলদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে হঠাৎ খেয়াল করে সুচরিতা নেই। ঘরে উপুর হয়ে শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর…
 

রাহুল আর সুচরিতা দুজনে চলে এল, যেখানে সজলরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল সেইসময় সুচরিতার হাত ধরে রাহুল উপস্থিত হয়ে, এক গাল হেসে বলল,
-কী রে পকোড়া কি সব খেয়ে ফেললি না আমাদের জন্য কিছু আাছে?
-তুমি ঘরে বসে প্রেম করবে আর পকোড়া সামনে নিয়ে বসে থকব আমরা?

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৪] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৩য় সংখ্যা/১২ই বৈশাখ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"রাহুল ঘরে ঢুকে দেখলসুচরিতা সত্যি ঘুমিয়ে পড়েছেরাহুল ঘুমন্ত সুচরিতাকে বুকের কাছে টেনে এনে জড়িয়ে নিলসুচরিতার আচমকা ঘুম ভাঙতেই দেখলও আষ্টেপৃষ্ঠে রাহুলের বাহুবন্ধনে বন্দি।"

 
পূর্বানুবৃত্তি ওরা আড্ডা দিচ্ছিল, এরমধ্যে দেখল সজল ফোনে হেসে হেসে কথা বলছে। ওরা খেয়াল করল সজল লিসার সঙ্গে কথা বলছে এবং ফোনেই আর ড্রিংক না করার কথা বলল। এদিকে ওদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওরা গজাবুরু পাহাড় দেখে মুগ্ধ। তারপর…
 

পরেরদিন ওরা সকালে ফিরে এল, গেস্টহাউসে। আসার পথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ওদের মুগ্ধ করল, সজল বলল,
-অসাধারণ তুলনা হয় না। বিয়ের পর আমি লিসাকে নিয়ে এখানে হানিমুনে আসব।
রাহুল বলল,
-আজকাল বিদেশে বেড়াতে যাওয়া একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে অথচ দেখ আমাদের এই ভারতবর্ষে কত সুন্দর সুন্দর বেড়ানোর জায়গা।

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৫] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৪র্থ সংখ্যা/১৯শে বৈশাখ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"সুচরিতা তুমি জানতেও পারবে না তুমি আমার এককোণে এক নীরব স্মৃতি হয়ে থেকে যাবেতোমাকে কিছুতেই ভুলে থাকতে পারব না কিন্তু আজকের দিনে আমি লিসাকে ভালোবাসি এটাও যেমন সত্যিসব সত্যির মাঝে এটাও পরম সত্যি যে তুমি আমার নীরব ভালোবাসাযা তুমিও কোনদিন জানতে পারবে না।"


পূর্বানুবৃত্তি একটা সুন্দর মনোরম জায়গা দেখে ওরা ফটো তুলল, রাহুল আর সুচরিতা অন্তরঙ্গ কিছু ফটো রাহুল আড়ালে গিয়ে তুলল, আলতো করে সুচরিতার গালে নিজের ঠোঁটটা ছোঁয়ালো। এদিকে প্রবীর মনকলিকে নিয়ে ব্যস্ত, বারবার জিজ্ঞেস করছে ব্যাথাটা কমেছে কিনা? শেষ পর্যন্ত একটা ওষুধ মনকলিকে খেতে হল ব্যথা কমাবার জন্য। তারপর…
 

পরেরদিন ভোরবেলা সুচরিতা চোখ মেলে দেখল, রাহুল তাকিয়ে আছে, যেই সুচরিতাকে চোখ মেলতে দেখল, সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের ভান করে ওকে কাছে টেনে নিল, সুচরিতা বলল,
-খুব হয়েছে আমি দেখেছি তুমি মোটেই ঘুমিয়ে নেই, ছাড়ো আমাকে আজ বড়ন্তি যাবার কথা
-সে অনেকরকম কথা থাকে, কিন্তু আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে সেটাও তো একটা কথা
সুচরিতা হেসে রাহুলের বুকে কিল মারতে মারতে বলল,
-বাবা কী দুষ্টু হয়েছ তুমি, আগে তো কোনদিন বুঝতে পারিনি

শেষ থেকে শুরু [পর্ব— ২৬] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/৩য় বর্ষ/৫ম সংখ্যা/২৬শে বৈশাখ, ১৪৩২
ধারাবাহিক উপন্যাস
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব— ২]

"-যদি থাকার হয় আবার দেখা হবেতা না হলে পথের দেখা পথেই শেষ হওয়া ভালোতবে তোমাকে আমার মনে থাকবে। -আমারও তোমাকে মনে থাকবে। সজল হেঁটে চলে যাচ্ছে রাহুলদের দিকেপিছন ফিরে দেখল মেয়েটি একদৃষ্টে তার দিকে চেয়ে আছেসজল তার দিকে চেয়ে হাত নাড়লতারপর আবার এগিয়ে গেল।"


পূর্বানুবৃত্তি পরেরদিন রাহুল সুচরিতাকে নিয়ে ঘুমচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ওদের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল, রাহুল ওঠ এবার, পরে প্রেম করিস এখন ওঠ। এদিকে প্রবীর ক্রমশ চিন্তিত হয়ে পড়ছে, ওর মনে হচ্ছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনকলিকে নিয়ে বিদেশে চলে যেতে পারে, ওর কাছে এক-এক ঘন্টা মনে হচ্ছে অনেক। কাল ওরা ফিরলে ওদের বলেই চলে যেতে হবে, আর দেরি করা ঠিক হবে না। তারপর…

ওরা গাড়ি থেকে নেমে প্রাণভরে নিশ্বাস নিল। অনেকক্ষণ ধরে যেন এক মনখারাপের দমবন্ধ পরিবেশে যাত্রা করে এল। সবার মুখের কথা ও হাসি দুই যেন অসুখ নামে কোন এক ডাকাত চুরি করে গেছে। যতই হোক অনেক দিনের বন্ধু মনকলি। এতদিন অসুখটা একরকম ছিল এবার যেন মনে হচ্ছে বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠেছে। প্রবীর কলকাতায় ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনেছে এবার রেডিয়েশন দিতে হবে, তাও একরকম ঠিক আছে। কারণ কেমো দিলে চুল সব উঠে যায় তখন মানসিকভাবে মনকলি আরও ভেঙে পরে। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাও ওর চলে যায়।

Wednesday, March 12, 2025

শেষ থেকে শুরু [পর্ব – ১৮] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/রং/ধারাবাহিক উপন্যাস/২য় বর্ষ/৩২তম সংখ্যা/২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩১
রং | ধারাবাহিক উপন্যাস
 
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব – ১৮]

"দুধারে কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাল মাটির রাস্তা - হঠাৎ সজল গান গেয়ে উঠলআরে লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা / রাঙা মাটির দ্যাশে যাহিথা তরে মানাইতেসারে আর এক্কেরে মানাইতেসারে। সজল এখনও খুব রোমান্টিক আছে।"

 
পূর্বানুবৃত্তি পরের দিন রাহুল ও সুচরিতা দুজনে দুজনের জন্য বিয়ের বিশেষ জামাকাপড় কিনল। রাহুল বলল তার মনে হত এ কাকে আমি ভালবাসতে গিয়েছিলাম! তারপর  বিদেশ চলে যাই, প্রাণপাত করে পড়াশোনা করে এ জায়গায় এসেছি, বিশ্বভারতীতে তোমাকে দেখে আনন্দে মন ভরে গিয়েছিল, কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না, হতেও তো পারে ততদিনে তুমি অন্য কাউকে কথা দিয়েছ। তারপর…
 
-না মনকলি তুই ভুল বুঝছিস, প্রবীরের সাথে কথা হয়েছে আমার, দেখ ও তো তোকে সমানে ট্রিটমেন্ট করিয়ে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছিল তাহলে তুই এত নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছিস কেন? ও বলল, তুই নাকি হঠাৎ করে একরাতের মধ্যে ওকে জানিয়ে পরের দিন ভোরবেলা চলে এসেছিলি? পুরুলিয়ার ঠিকানাটা পর্যন্ত ওকে দিয়ে আসিসনি? এটা খুব খারাপ করেছিস
-হ্যাঁ আমাকে তো তোমরা সবাই দোষ দেবে, আমি তো খুব খারাপ মেয়ে
-না তোকে কেউ খারাপ মেয়ে বলছে না, দেখ তোর খবর পাওয়ার জন্য প্রবীর যে কী পরিমাণ উদ্বিগ্ন ছিল তা আমরা জানি, আমি আসছি তো, একদম চিন্তা করিস না।

শেষ থেকে শুরু [পর্ব – ১৯] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/২য় বর্ষ/৩৩তম সংখ্যা/০৮ই চৈত্র, ১৪৩১
ধারাবাহিক উপন্যাস
 
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব – ১৯]

"প্রমোদবাবু সবাইকে ঘরের ব্যবস্থা করে চা আর টোস্টের অর্ডার দিয়ে দিলেনরাতেরবেলায় খুব হালকা খাবার, আগামীকাল দুটো অনুষ্ঠান একসাথেদুবাড়ির আশীর্বাদ সকাল-বিকেল করেতারপরে আইবুড়োভাতের অনুষ্ঠান।"

 
পূর্বানুবৃত্তি প্রবীর আর সজল মনকলির ভালো চিকিৎসার জন্য পুরুলিয়ায় বলরামপুর কলেজে মনকলির সঙ্গে দেখা করে কথাবার্তা বলল। এদিকে রাহুল আর সুচরিতা তখন কলকাতায় বিয়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত, দিদি-বৌদিরাও থেমে নেই, কোমর বেঁধে লেগে পড়েছে। তারপর…
 

সুচরিতা মোটামুটি ফোন করতে করতে জেনে নিল মাসি, দুই মামা, মামি, একজন পিসি পিসতুতো দাদা আর তার বউ আর জেঠুর দুই ছেলেমেয়ে সবাই আসছে। আবার তাড়াতাড়ি করে রাহুলকে ফোন লাগাল, ফোন ব্যস্ত আছে, রাগ হল সুচরিতার, অকারণ রাগ, আসলে এতগুলো  লোক এসে যাচ্ছে এদের সবাইকে নিয়ে পুরুলিয়ায় যাওয়া তারপর ওখানে আরেকটা গেস্টহাউস লাগবে কি না? তা আলোচনা করবে, না এখন তিনি ফোন ব্যস্ত রেখে গল্পই করে যাচ্ছেন

শেষ থেকে শুরু [পর্ব – ২০] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/২য় বর্ষ/৩৪তম সংখ্যা/১৫ই চৈত্র, ১৪৩১
ধারাবাহিক উপন্যাস
 
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শেষ থেকে শুরু
[পর্ব২০]

"সজল দেখছে ওর যতটা খুশি হবার কথা প্রিয় বন্ধুর বিয়েতে ও যেন ততটা খুশি হতে পারছে না। বুকের কাছে মন খারাপের চিনচিনে ব্যথা অনুভব করছে। জোর করে নিজের ভাবনাটা মন থেকে সরিয়ে ফেলতে চেষ্টা করছেনিজের সাথে নিজেই যুদ্ধ করছে।"


পূর্বানুবৃত্তি ওরা সব নিকট আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে কলকাতা থেকে গোটা ছয়েক গাড়িতে রওনা হলো। বিয়ের আগে বউয়ের সঙ্গে দেখা করা যাবে না শুনে রাহুল মনমরা হয়ে গেল। যাত্রার ফাঁকে চা খেতে নেমে সুচরিতার সঙ্গে আলাদা গল্প করতে গেলে তাকে নিয়ে মজা করল সবাই। তারপর…
 

সজল এসে দাঁড়াল রাহুলের সামনে, দুজন দুজনকে দেখল তারপর জড়িয়ে ধরল, সজল বলল,
-আমি খুব খুশি হয়েছি রে, সুচরিতার একনিষ্ঠ ভালোবাসার যে তুই মর্যাদা দিয়েছিস। অনেকদিন পর ভীষণ প্রিয় দুবন্ধুর দেখা, সজলকে রাহুল বলল,
-চল আমার কোয়ার্টারে আয় ওখানে দুবন্ধু থেকে যাই
-আর তোমার বউ?
-ও তো এখন বাপের বাড়ির কন্ট্রোলে।
-সে কী রে?
-হ্যাঁ এখন থেকে বিয়ে অবধি নাকি মুখই দেখা যাবে না
-সে কী রে! তুই বেঁচে থাকবি? পুরো একদিন না দেখে?
-এই ইয়ার্কি করিস না।

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)