বাতায়ন/নাসির
ওয়াদেন সংখ্যা/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | কষ্টিপাথর
দীপক বেরা
কবিতা— পূর্ণচ্ছেদ
কবি— তৈমুর খান
[কবিতার শিরোনাম, কবির নাম ছাড়া
শুধু কবিতা নিয়ে এই আলোকপাত]
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায় লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | কষ্টিপাথর
দীপক বেরা
কবিতা— পূর্ণচ্ছেদ
কবি— তৈমুর খান
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায় লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
"কবিতার শেষ লাইনে কবি নিজেই একটি "পূর্ণচ্ছেদ" হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা এক চূড়ান্ত শূন্যতা ও সমাপ্তিকে নির্দেশ করে।"
কবিতাটি মূলত দুটি বিপরীত স্রোতের এক চমৎকার কোলাজ। একদিকে রয়েছে এক চরম অবহেলা, একাকীত্ব ও হারিয়ে যাওয়ার বেদনা; অন্যদিকে রয়েছে অন্য কারো সাফল্য, উজ্জ্বলতা ও উদযাপনের আলো। কবি এখানে নিজেকে একজন উপেক্ষিত দর্শক হিসেবে দেখিয়েছেন, যিনি আলোর রোশনাইয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে অন্ধকারের গল্প বুনে চলেছেন।
কবি বলেছেন, "নদীর পাশে মৃত বাল্যকাল বারবার জেগে উঠতে চায়"— এই লাইনটি কবিতাটির অন্যতম সেরা অংশ। এটি আমাদের ভেতরের হারিয়ে যাওয়া সরলতা ও ফেলে আসা স্মৃতির প্রতি এক তীব্র আকুলতা প্রকাশ করে, যাকে শত চেষ্টা করলেও আর বাস্তবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
"ক্লান্ত দুপুর বিষণ্ণতা ফেরি করে দরজায় দাঁড়াই"— এই রূপকটি অসাধারণ। বিষণ্ণতাকে এখানে ফেরিওয়ালার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা মানুষের মনের একাকীত্ব ও শূন্যতাকে এক অদ্ভুত মূর্ত রূপ দেয়।
অপরপক্ষের উৎসব, হাততালি, বসন্ত আর সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি touching বা হৃদয়স্পর্শী হলো কবির নিজের পরিণতি। অন্যের জীবনের অতি-উচ্ছ্বাসের মাঝে কবি নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলছেন। বাক্যশেষে যেমন দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে, তেমনি কবিও যেন অন্যের জীবনের গল্পে কেবলই এক যতিচিহ্ন বা 'পূর্ণচ্ছেদ' হয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
কবিতাটি পড়ার পর বুকের ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস জমা হয়। এটি কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, এটি একেবারেই সেইসব মানুষের গল্প— যারা ভিড়ের মাঝেও ভীষণ একা, যারা অন্যের আলোয় নিজেদের অন্ধকারকে আড়াল করে রাখে। কবিতার ভাষা সহজ অথচ তার ভেতরের ক্ষত অত্যন্ত গভীর। শব্দচয়ন এবং রূপকের ব্যবহার পাঠককে অনেকক্ষণ এক সম্মোহনী স্তব্ধতার মাঝে বন্দি করে রাখে। এটি সত্যিই একটি অসাধারণ ও মন ছুঁয়ে যাওয়া সৃষ্টি।
(১) 'তোমার ছায়ায়'

No comments:
Post a Comment