আতঙ্ক | অন্য চোখে
গৌতম কুমার গুপ্ত
বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয় রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...
শারদোৎসব মানেই বাঙালির জীবনে আনন্দের এক বিশেষ অধ্যায়। আমার ছোটবেলার পুজো সেই আনন্দকে আজও রঙিন করে রাখে। পূজোর শুরু হত কাঠামো পুজো দিয়ে। রথের দিন থেকে অধীর আগ্রহে লক্ষ্য করতাম, কেমন করে মৃৎশিল্পীর নিপুণ হাতে গড়ে ওঠে মায়ের মূর্তি।
শিক্ষা-সংস্কৃতি, সভ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক ও বাহকের নাম মানব। যারা এই মানবতাকে লালনপালন করে না, তারা সত্যিই অমানুষ। তারা তো মানবতার, সভ্যতার কলঙ্ক। ধর্মের অনেক সংজ্ঞা থাকলেও মানুষের কল্যাণই সব ধর্মের মূল কথা। যদি তা লঙ্ঘিত হয়, তবে তা ধর্ম হওয়ার মর্যাদা রাখে না। রাজনীতিও মূলত মানুষের মঙ্গলের জন্য। যা আমাদের দুর্দশার কারণ হয়, নিপীড়নের, নির্যাতনের কারণ হয়, তা মোটেই রাজনীতি নয়। একটি প্রবাদ আছে, আমরা
না, শত-শত বছর আগের কথা নয়, এমনকি একশো বছর আগের কথাও নয়। মাত্র চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগের মানে গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকের, আমাদের শৈশব-কৈশোরের ভাদ্র-আশ্বিন মাস শরৎকাল বা শারদোৎসব বা দুর্গাপূজার কথা।
তখন সারা রাত্তির মাটির
উঠোনের এক পাশে একটা বড় শিউলি গাছ থেকে টুপটাপ করে ঝরে পড়ত সাদা শিউলি ফুল।
শিশির আর কুয়াশার জাল ছিন্ন
করে একটা ‘চোখ গেল পাখি’ ‘চোখ গেল চোখ গেল’ ডাক দিয়ে উড়ে
যেত পুব দিগন্তের আকাশপানে। স্বপ্নের মহালয়ার ভোর যে কখন হবে, অনন্ত প্রতীক্ষার শেষ ছিল না সেই সময়ে অর্থাৎ ষাট-সত্তর
দশকের শিশু, কিশোরদের।
জাগতিক এই যাওয়া আসার খেলায় আমরা চির পরিচিত। ঢাকের শব্দে বাজির শব্দে এবং বিভিন্ন ভাষা ও বিচিত্র গানের ককটেলে মুখরিত আকাশ বাতাস এবং হাজারো আলোর রোশনাইয়ে আলোকিত এক অনবদ্য মায়াময় মোহময় ও আনন্দময় পৃথিবীর সকল রোশনাই একসময় থেমে যায়। শারদীয়ার বিদায় মুহূর্ত এসে পড়ে বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায়। মহালয়ার পুণ্য লগ্নে যে মাকে আমরা আগমনির জয়গানে স্বাগত জানাই তাকেই আবার দশমী পূজায় বিসর্জনের বিদায় জানাই।