বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/অন্য চোখে/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১৪ই কার্ত্তিক,
১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | অন্য চোখে
অর্পিতা দাস
দুর্গাপুজোর
বিশেষ ঘটনা
"চাঁদ সূর্য যদি আপন অবস্থানও বদল করে ফেলে কুছ পরোয়া নেহি। বরং উৎসাহিত হয়ে সেলফি নেওয়ায় মশগুল হয়ে ভরিয়ে তুলব ফেসবুক টুইটার।"
পুজোর এখন আর তখনকার
মধ্যিখানে বয়ে গেছে অনেকটা সময়। সেই বয়ে যাওয়া সময়ের স্রোতে বদলে গেছে
চালচিত্র। তাই এই সময়ে কোথা থেকে এক আলগা স্রোত এসে জড়ো হয়েছে দেবী দুর্গার
গায়ে। থিমের নামে কোথাও কোথাও পরিচিত মুখই বদলে ফেলে তার স্হানে বসছে অন্য কোনো
আদল। আর তারই সাথে তাল মিলিয়ে জৌলুস চাকচিক্য। যা অতি সহজেই কেড়ে নিয়েছে মানুষের
মন। বোধনের সময়পর্ব হতে বিসর্জনের কাল অবধি আদ্যপান্ত জুড়ে একটা ঘোর। সর্বত্র
প্রতিযোগিতার দাপটে শিব জায়া উমা তার দেবীত্ব ঘুচিয়ে হয়ে ওঠেন যুগের হুজুগ।
পৃথিবীতে যা কিছুই ঘটুক কেন
আমরা কিছুতেই হতাশ হই না। ঘটনাক্রমে চাঁদ সূর্য যদি আপন অবস্থানও বদল করে ফেলে কুছ
পরোয়া নেহি। বরং উৎসাহিত হয়ে সেলফি নেওয়ায় মশগুল হয়ে ভরিয়ে তুলব ফেসবুক
টুইটার।
এককালে প্রতিমাকে ঘিরে আমাদের
অন্তরে যে বিশুদ্ধ প্রেমভক্তি ছিল তা ক্রমে অহংবোধে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে এখানেই
শেষ নয় বিসর্জনের ঘাটেও চলে দাম্ভিকতা। ডিজে,
নৌকা
সজ্জা, বোম সব মিলিয়ে লোককে খেপিয়ে
তুলতে না পারলে কীসের পুজো? লোকেরাও বুদ্ধিশুদ্ধি
বিসর্জন দিয়ে দু'পেগ মেরে দিয়ে উদ্দাম
নৃত্যে মেতে ওঠেন। বিদায়বেলার অবসাদ অবলুপ্ত হয়ে
নিমেষে উন্মাদনা সঞ্চার করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু
যেমন আমাদের কাছে অচেনা হয়ে উঠেছে অতি আধুনিকতার দাপটে শহুরে দুর্গাও হয়ে উঠেছে
অচেনা। তবে গ্রামে এখনও সে আঁচ লাগেনি। বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর কচিকচি ধানের শিষ
মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও বর্ষার জল ঠেলে ঠেলে নদীকে নিয়ে এসেছে কাঁচা
রাস্তার পাশে। দু'কূলে থোকা থোকা
কাশফুল। অনেক দূর থেকে মাইকে ভেসে আসা গানের সুর। বাঁশের ওপর কয়েকটি কাপড় দিয়ে
প্যান্ডেল। তাতেই আলো করে রয়েছে ঘরের মেয়ে। আলোর আতিশয্য বা থিমের প্রতিযোগিতা
সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
আসল কথা অর্থ না হলে বর্ত হয়
না। শহর যেমন রাতারাতি বদলায় গ্রাম তেমন নয়। কৃষিনির্ভর গ্রামীণসমাজ অর্থের অভাবে ধুঁকতে থাকে।
তাই অতি আধুনিকতার ছোঁয়া তার কাছে বাহুল্যমাত্র। মাও তেমনি সন্তানের দুঃখকষ্টের
অংশীদার হয়ে যুগে যুগে।
No comments:
Post a Comment