প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Sunday, April 26, 2026

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো



বাতায়ন/আতঙ্ক/সম্পাদকীয়/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | সম্পাদকীয়
 
সাগর না কুয়ো

"যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটিচাটা পিংপং-সাহিত্যিক এবং অথবা কুম্ভীলকদের কথা অবশ্যই বিবেচ্য নয়। তাঁরা তাঁদের জ্ঞানের পরিধি নিয়ে সাগরে বিচরণ করবেন না কি কুয়োয় প্রবেশ করবেন।"

 
যদি টাইমমেশিন সত্যিই থাকত আপামর ভারতবাসী (প্রায়) খুব কঠিন সাধনাকে অনায়াসলব্ধ করে হাজার-হাজার বছর পিছনে চলে যেতে পারত, নতুন করে লিখে নিতে পারত ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীর ইতিহাস! ভাগ্যিস সে সুযোগ নেই।
 
তপ্ত পৃথিবী ক্রমাগত উত্তপ্ত আরও। তার তীব্র দহনজ্বালায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। মনুষ্যকৃত প্রকৃতির গরম, ভোটের গরম, সাম্প্রদায়িক গরম, আস্ফালনের গরম মিলেমিশে একাকার। যেন সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়েছেন তাঁদের বুকের উপর বিচরণের জন্য! সত্যিই এক অদ্ভুত মাৎসন্যায়ের মধ্য দিয়ে চলেছে মানুষ, চলেছে পৃথিবী। শুধুমাত্র কর্তাব্যক্তির ইচ্ছাতেই যেখানে কর্ম, কর্তৃত্ব। বিন্দুমাত্র ন্যায়নীতির বালাই ছাড়াই। এখানে সাহেব-বিবি-গোলাম সকলেই আসলে এক পথেরই পথিক। কেবল নিরীহ সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র সংখ্যা, ভোটদাতার সংখ্যা, রক্তকরবীর শ্রমিকের সংখ্যা, ভোট দিতে না পারা আপাত-অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা।
 
কার খাবার কে খায়, কার ধর্ম কে পালন করে, কার সীমা কে লঙ্ঘন করে! চিরকালীন সুস্থ-সবল অশীতিপর বৃদ্ধ হঠাৎ পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে ডানদিক খুইয়ে ফেলে ডানহাত দিয়ে ভাত-তরকারি মেখে খাওয়ার অবস্থাতেও থাকেন না। তবু তার মধ্যেও যদি তিনি একইভাবে খেতে চান, গণ্ডগোল তখনই বাধে। শঙ্কা হয় শেষে বিষম না লাগে।
 
ছাপোষা সাধারণ মানুষ জেগে উঠলে বহুরূপী রাজনৈতিক দলগুলোও খোলস বদলে তাদের সঙ্গেই মেশার চেষ্টা করবে। এটাই তাদের চরিত্র। রাজ্যে, কেন্দ্রে বা সমগ্র বিশ্বে এর কোন রকমফের ঘটবে না। এরা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
 
ধন্য রাজ্য, ধন্য কেন্দ্র, ধন্য বিশ্ব! যারা ভ্রষ্টাচার, ব্যাভিচার মানেন না, নইলে যে-কোনো সর্বোচ্চ চেয়ার কী করে রকমারি মুখরোচক অনাচারের চর্চার বিষয় হয়!
 
শেষ ভরসা সুস্থ বোধ সম্পন্ন মানুষ-সহ সাহিত্যসেবক, (যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটিচাটা পিংপং-সাহিত্যিক এবং অথবা কুম্ভীলকদের কথা অবশ্যই বিবেচ্য নয়)। তাঁরা তাঁদের জ্ঞানের পরিধি নিয়ে সাগরে বিচরণ করবেন না কি কুয়োয় প্রবেশ করবেন।
 
 
 

1 comment:

  1. দীপক বেরাApril 26, 2026 at 8:46 AM

    বর্তমান সমাজ ও রাজনীতির যে অনাচার, তার বিরুদ্ধে বাতায়নের এই সম্পাদকীয় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আওয়াজ। সাহিত্যিকদের পিংপং-সাহিত্য ভুলে 'মানুষের' পক্ষে দাঁড়ানোর যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা সুস্থ সমাজের জন্য অপরিহার্য। কুয়োর অন্ধকার পেরিয়ে সাগরেই সাহিত্যিকদের বিচরণ করা উচিত।

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)