প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

সেই সন্ধ্যার আতঙ্ক | অঞ্জনা মজুমদার

বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
অঞ্জনা মজুমদার
 
সেই সন্ধ্যার আতঙ্ক

"কালো চাদরে মুড়ি দিয়ে এককাপ চা এগিয়ে দিল একটা হাত। চা নিতে গিয়ে হাতে হাত ঠেকে গেল। ভানুদাদার হাত যেন বড্ড বেশি ঠান্ডা! খসখসে গলার আওয়াজ আবারও শোনা গেল।"

 
-দিম্মা আতঙ্ক মানে কী?
বিনির প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই রিমির উত্তর,
-আতঙ্ক মানে panic attack, ভয়ও বলতে পারিস। তাই না দিম্মা?
বিনি বলল,
-আচ্ছা দিম্মা, তোমার কোনও দিন আতঙ্ক হয়েছে?
দিম্মা, তুহিনাদেবী অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন।
-আতঙ্ক? একজনের একদিনের আতঙ্ক...
বিনি রিমি একসাথে বলে উঠল,
-বলো না দিম্মা, বলো।
তুহিনাদেবী ধীরে ধীরে শুরু করলেন,
-সেদিন... কলেজ থেকে বেরোতে দেরি হয়ে গেল সোমার। শেষ ক্লাসের পর ছাত্রীদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে হৃদয়পুর স্টেশনে যখন পৌঁছালো সোমা তখন বনগাঁর ট্রেনটা ছেড়ে দিয়েছে। আর ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। পরের ট্রেনটা একঘন্টা পরে। স্টেশনে লোকজন প্রায় নেই। একটা চায়ের দোকানে সামান্যই আলো দেখে সেদিকে এগোতেই ইলেকট্রিকের আলো চলে গেল। রোজকার চেনা দোকানি ভেবেই সোমা বলল, ‘একটা চা হবে ভানুদাদা?’
টিমটিমে একটা লন্ঠন জ্বলছে। ভানুদাদার খসখসে গলার আওয়াজ,
-কেন হবে না দিদিমণি?
সোমা বলল,
-তোমার গলায় কী হয়েছে ভানুদাদা? কেমন যেন শোনাচ্ছে।
কালো চাদরে মুড়ি দিয়ে এককাপ চা এগিয়ে দিল একটা হাত। চা নিতে গিয়ে হাতে হাত ঠেকে গেল। ভানুদাদার হাত যেন বড্ড বেশি ঠান্ডা! খসখসে গলার আওয়াজ আবারও শোনা গেল।
-আমার গলা...
অবাক হলো সোমা। যাহোক বৃষ্টিতে ঠান্ডাটা বেড়েছে। চায়ে চুমুক দিল সোমা। আবারও চমকে উঠলো। চা-ও বরফের মতো ঠান্ডা। মুখে দিয়েই নামিয়ে রাখল সোমা। এত ঠান্ডা চা খাওয়া যায় না। বেঞ্চে চায়ের কাপটা নামিয়ে দাম দিতে যাবে, ওমা ভানুদাদা দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। আচ্ছা, কাল চায়ের দামটা দিয়ে দেবে। বসে রইল সোমা অন্ধকারে ঘড়িও দেখা যাচ্ছে না। বড্ড শীত করছে। চাদরটা ভালো করে জড়িয়ে নিল সোমা। পা মুড়ে বেঞ্চে বসে হাঁটুতে মুখ ঢাকল। কানের কাছে আবার খসখসে গলার আওয়াজ। পয়সাটা আমার মেয়েকে দিয়ে দেবেন দিদিমণি। চমকে মাথা তুলে তাকাল সোমা। চোখের সামনে ভানুদাদার রক্তাক্ত মুখ। চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে। ভয়ে আতঙ্কে চোখ বুজিয়ে ফেলল সোমা। গলা দিয়ে আতঙ্কে কোনও শব্দ বেরোলো না।
-মিস বোস… মিস বোস…
দূর থেকে আওয়াজ ভেসে এলো।
-কী হলো, আপনি কি ঘুমিয়ে পড়েছেন?
সোমা ঘুম থেকে উঠলো যেন! পুলিশ অফিসার মিঃ সরকার আর স্টেশন মাস্টার মিঃ সিং আর কয়েকজন কনস্টেবল দাঁড়িয়ে আছেন সোমাকে ঘিরে। স্টেশনের আলোগুলো জ্বলে উঠেছে। স্টেশন মাস্টার মিঃ সিং বললেন,
-আজ একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। চায়ের দোকানি ভানুর একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। আপনি তো ভানুকে চেনেন, রোজ ওর দোকানে চা খান।
-ভানুদাদার? সোমার গলা কেঁপে গেল। আমি তো এইমাত্র ভানুদাদার দোকানে চা খেলাম।
-তা কী করে হবে? ওই দেখুন।
বলে মিঃ সিং হাত বাড়ালেন। একটা সাদা চাদরে ঢাকা দেহের ওপর থেকে হাওয়ায় মুখের ঢাকা সরে গেল। সেই ভানুদাদার রক্তাক্ত মুখ।
-ভানুদাদা…
বলে সোমা আতঙ্কে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাচ্ছিল, মিঃ সরকার ধরে নিলেন।
-সেই আতঙ্কের কথা সোমা কোনও দিন ভুলে যায়নি দিদিভাইরা।
বিনি আর রিমি একদম চুপ। রিমি গালে হাত দিয়ে শুনছিল। হঠাৎই বলে উঠল,
-দিম্মা আমি বুঝতে পেরেছি।
দুষ্টু আর বুদ্ধিমতী রিমির কথায় তুহিনাদেবী সম্বিত ফিরে পেলেন। বিনি বলল,
-তুই আবার কী বুঝতে পেরেছিস বোন?
রিমি বলে উঠল,
-সোমা আমাদের দিম্মা আর মিঃ সরকার আমাদের দাদুভাই, ঠিক বলেছি?
দুই বোন দিম্মাকে জড়িয়ে ধরল। দিম্মার জবাবের অপেক্ষায় রইল না কেউ।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)