বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
অমৃতা পাণ্ডে
শেষ
ট্রেন
"তোর ওঠার আগে… অরিন্দম কিছু বলতে পারল না। ঠিক তখনই মেয়েটা হেসে উঠল, শীতল, অচেনা হাসি। ট্রেন আবার অন্ধকারে ঢুকল।"
রাত সাড়ে এগারোটা। শহরের শেষ
লোকাল ধরতে হাঁপাতে হাঁপাতে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছল অরিন্দম। স্টেশনটা
অস্বাভাবিক নীরব, না কোনো ভিড়, না হকারের ডাক। শুধু মাইকে ভেসে এল, “শেষ ট্রেন আসছে প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনে।”
ট্রেন ঢুকল নিঃশব্দে। অরিন্দম
উঠে পড়ল প্রায় ফাঁকা কামরায়। ভেতরে মৃদু আলো,
জানালার
বাইরে দ্রুত পিছু হটছে অন্ধকার। সে একটা সিটে বসে হাঁফ ছাড়ল। বাড়ি ফিরলেই বাঁচে।
কিছুক্ষণ পর খেয়াল করল, সে একা নয়।
বিপরীতে এক বৃদ্ধ, মাথা নিচু করে বসে।
দূরে এক মেয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে। দু’জনেই অদ্ভুত চুপচাপ। অরিন্দমের অস্বস্তি
বাড়তে লাগল।
হঠাৎ ট্রেন একটা টানেলে
ঢুকতেই আলো নিভে গেল। কয়েক সেকেন্ডের অন্ধকার। আবার আলো জ্বলে উঠতেই অরিন্দম জমে
গেল, বৃদ্ধটা এখন তার একদম সামনে।
—আপনি এখানে কখন এলেন?
গলা কেঁপে উঠল তার। বৃদ্ধ
ধীরে মুখ তুললেন। চোখ দুটো ফাঁকা, অস্বাভাবিক।
—তোর ওঠার আগে…
অরিন্দম কিছু বলতে পারল না।
ঠিক তখনই মেয়েটা হেসে উঠল, শীতল, অচেনা হাসি। ট্রেন
আবার অন্ধকারে ঢুকল।
এইবার আলো ফিরতেই দেখল, কামরায় সে
একা। বৃদ্ধ নেই, মেয়েটা নেই। সে হঠাৎ
জানালার কাচে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকাল, আর বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। প্রতিবিম্বটা
তাকে অনুসরণ করছে না। বরং স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে সেই মুখে একটা অচেনা
হাসি ফুটল। ঠোঁট নড়ল,
—পরের স্টেশন… তোর।
ট্রেন হঠাৎ থেমে গেল।
স্টেশনের একটা সাইন বোর্ড দেখা যাচ্ছে কিন্তু বাইরে কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই, শুধু ঘন
অন্ধকার।
পরদিন খবরের কাগজে ছোট্ট খবর—
এক যুবক শেষ ট্রেনে নিখোঁজ। সিসিটিভিতে দেখা গেছে, সে একাই উঠেছিল। কিন্তু ভিডিওর শেষ অংশে, জানালার কাচে তার পাশে দাঁড়িয়েছিল আরও দুটো
মুখ, বৃদ্ধ ও এক বালিকার মুখ।
~~000~~
No comments:
Post a Comment