বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/ভ্রমণ/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ,
১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | ভ্রমণ
ডঃ শেষাদ্রি
শেখর ভট্টাচার্য
তামহিনি
ঘাট ও মুলশি লেক
"গভীর জঙ্গল, কয়েকটি হ্রদ এবং বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাতের সৌন্দর্যে প্রায় তুলনাহীন। অসাধারণ সুন্দর এই পার্বত্য ঘাট বর্ষায় আরও বেশি সজীব হয়ে ওঠে তার সবুজ প্রকৃতি, উচ্ছ্বল ঝরনা এবং ঘন অরণ্য সমেত।"
থানের অ্যাজিয়ানো কমপ্লেক্সে
নতুন মডেলের ওয়াগন-আর এসে দাঁড়াল ঠিক সকাল ৮টায়। সহ্যাদ্রির কোথাও বেড়াতে যাওয়া
হলেই গাবলুর হাতে থাকে স্টিয়ারিং। মাথেরনের মতো তাই ‘তামহিনি ঘাট’ যাত্রাতেও আমরা
গাড়ি ভাড়া নিয়েছি। এই বেড়ানোয় গাড়ি চলবে বা থামবে শুধু আমাদের ইচ্ছে ও সুবিধে মতো।
গাড়ির কাগজপত্র দেখে নিয়ে ঠিক ৮টা ২০তে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পরে এক
পেট্রল পাম্প থেকে গাড়িতে জ্বালানি ভরে নিলাম। থানে-ক্রীক ব্রিজ পার হয়ে গাড়ি
এগিয়ে চলল।
আমরা চলেছি সহ্যাদ্রি
পর্বতমালার তামহিনি ঘাট অঞ্চলে অবস্থিত মুলশি ড্যামে। গাবলুই জানিয়েছে, ‘মুলশি’ এক সুন্দর অফবিট ডেস্টিনেশন। নবি মুম্বাইয়ের
দীঘাগাঁও পেরিয়ে পৌঁছলাম আইরোলি। প্রথমে নেরুল স্টেশন, তারপর ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামকে ডান দিকে রেখে ‘শীতলখণ্ড
হিল’ পার হয়ে বেলাপুরে চলে এল গাড়ি। খারঘর পেরিয়ে পানভেল-ক্রীক ব্রিজ পার হলাম।
আমরা চলেছি এনএইচ-৪ ধরে। খোপোলিতে এক দোকানে বসে আমরা প্রাতরাশ সেরে নিলাম, সঙ্গে গরম চা। কিছু দূর এগিয়ে ‘ভাটান টানেল’ পার হলাম –
শুরু হলো পুনে জেলা।
মসৃণ জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ি
ছুটছে। ‘ঘাট’ অঞ্চল শুরু হলো ১০০০ মিটার উচ্চতায়। বেলা ১১টা নাগাদ লোনাভলা পেরিয়ে
গেলাম, ১৫ মিনিট পরে খাণ্ডালা। এবার
টানেল পেরোতেই ঘাট শেষ হলো। কিছু দূর এগিয়ে জাতীয় সড়ক ছেড়ে রাজ্য সড়কে চলে এলাম।
রাস্তার দু’পাশে ‘থুগাও’ গ্রামের বিস্তার। চোখে পড়ছে অর্গানিক ফার্মিং-এর
ব্যবস্থাগুলো। এগোচ্ছি ‘পাওনা নগর’ বাজার এলাকার মাঝ দিয়ে। এবার রাস্তার পাশে এক
দোকানের কাছে গাড়ি থামানো হলো টি-ব্রেক নেওয়ার জন্য। ‘জাভান’ পেরোতেই ডান দিকে
চোখে পড়ে বিশাল ‘পাওনা লেক’। গাড়ি থামিয়ে,
নীচু
পথে কিছু দূর এগিয়ে পৌঁছে গেলাম লেকের কাছে। দেখি, বেশ কয়েকটা টেন্ট সেখানে। লেকের ছবি তুলে গাড়িতে এসে বসলাম।
গাড়ি কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘তামিনি ঘাট’ অঞ্চলে পৌঁছল। এখন চলেছি এনএইচ-৭৫৩এফ ধরে।
প্রায় ১৫ মিনিট পরে জামগাঁও পেরিয়ে গেলাম।
তামহিনি ঘাট-এর অবস্থান
মহারাষ্ট্রের মুলশি ও তামহিনি-র মাঝে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই ঘাট
গভীর জঙ্গল, কয়েকটি হ্রদ এবং বেশ কয়েকটি
দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাতের সৌন্দর্যে প্রায় তুলনাহীন। অসাধারণ সুন্দর এই পার্বত্য ঘাট
বর্ষায় আরও বেশি সজীব হয়ে ওঠে তার সবুজ প্রকৃতি, উচ্ছ্বল ঝরনা এবং ঘন অরণ্য সমেত। প্রায় ১৫ কিমি দীর্ঘ এই ঘাট সহ্যাদ্রি রেঞ্জকে
বিদীর্ণ করে মুলশিকে যুক্ত করেছে তামিনির সঙ্গে, যা পুনে থেকে কোঙ্কনে যাওয়ার পথকেও তৈরি করেছে।
মুম্বাই থেকে
মুম্বাই-গোয়া হাইওয়ে ধরে কোলাড পৌঁছে,
কুন্দালিকা
নদীর উপরে সেতু পার হয়ে বাঁ দিকে এগোলে মুলশি ব্যাকওয়াটার হয়ে পুনে যাওয়ার পথ।
কোলাড ও ব্যাকওয়াটারের মাঝে তামিনি ঘাট বিস্তৃত। বর্ষায় এই ঘাট সবুজ উপত্যকা, কয়েকটি খরস্রোতা জলধারা, নীচে নেমে আসা কালো মেঘ এবং হঠাৎ-তৈরি জলপ্রপাত নিয়ে যেন এক সৌন্দর্যের খনি!
মুলশি গ্রাম পুনে জেলার মুলশি
তালুকের অন্তর্গত। গ্রামটিকে ঘিরে থাকা অন্যান্য তালুকগুলি হলো কার্যাট, তেলেগাঁও দাভাদে,
মাওয়াল
এবং খালাপুর। মুলশি গ্রামের কাছাকাছি জেলাগুলি রায়গড়, থানে, মুম্বাই সিটি এবং
মুম্বাই সাবার্বন। নিকটবর্তী রেলস্টেশনগুলি ভেদগাঁও, বেগদেওয়াড়ি, লোনাভলা, তেলেগাঁও এবং কামশেত।
মুলা নদীর উপর নির্মিত প্রধান
ড্যামটির নামও মুলশি। মুলশি তালুকে অবস্থিত ড্যামের জল কৃষিকার্যে ব্যবহৃত হওয়া
ছাড়াও তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় ‘টাটা পাওয়ার’-এর ভিরা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।
এখানে ২৫ মেগাওয়াটের ৬টি ‘পেল্টন টারবাইন’ এবং ১৫০ মেগাওয়াটের ১টি ‘পাম্প্ড
স্টোরেজ ইউনিট’ স্থাপিত হয় ১৯২৭ সালে। কৃষ্ণা নদীর বেসিনে অবস্থিত এই জলাধার থেকে
জলপ্রবাহকে ভিরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবাহিত করে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
জামগাঁও থেকে সুন্দর পথে চলে
এলাম কুন্দালিকা। সেতু পেরিয়ে আমাদের গাড়ি নিসর্গ ফার্ম রোড ধরে এগিয়ে মুলসি লেকের
কাছে একটু উঁচু জায়গায় অবস্থিত ‘ফরেস্ট ফেয়ারি’ ভিলার কাছে এসে উপস্থিত হলো।
কেয়ারটেকার প্রবেশদ্বার খুলে দিলে আমরা ভিলার নীচে একফালি সবুজ জায়গায় গাড়ি পার্ক
করলাম। ভিলার অবস্থান ও সৌন্দর্য প্রথম দর্শনেই মুগ্ধ করল আমাদের। ভিলার একতলায়
সুসজ্জিত বেডরুম ও বাথরুম। পাশের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে দরজা খুললেই বাঁ দিকে
বেডরুম ও সঙ্গে ওয়াশ রুম। সামনে বড় ড্রয়িং রুম, সঙ্গে ডাইনিং স্পেস এবং তার বাঁ দিকে স্বয়ং-সম্পূর্ণ কিচেন। পুরো ভিলাটাই
রুচিশীল ফটো ও আধুনিক আসবাবপত্রে সাজানো। আমরা সবাই খুশি এই ভিলায় এসে।
পছন্দ মতো চা বা কফি বানিয়ে
দোতলার ছোট্ট ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। সামনেই নীলবর্ণা মুলশি লেক, তার পিছনে তিনদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সহ্যাদ্রি পর্বতমালা।
অসাধারণ সুন্দর প্যানারোমিক ভিউ। ছবি না তুলে থাকা যায় না। ঘড়িতে বিকেল পৌনে ৪টে –
আমরা গাড়ি নিয়ে বের হলাম লাঞ্চের জন্য। প্রায় ১০ কিমি পিছনে গেলে ‘জলস্পর্শ’ হোটেল, ভিলায় আসার পথে সবারই সেটা পছন্দ হয়েছিল। মিনিট পনেরো পরেই
পৌঁছে গেলাম হোটেলে। বিরাট পার্কিং এরিয়ায় গাড়ি পার্ক করা হলো। আমরা সোজা খাবার
জায়গায় গিয়ে বসে পড়লাম। বিকেল ৪টে-তেও সকলে ভাতই খেতে চাইল – সঙ্গে ডাল, মিক্সড ভেজিটেবলস,
চিকেন
কারি ও শেষে গুলাবজামুন। আমরা রাতের খাবারও প্যাক করে সঙ্গে নিলাম – ভিলার কিচেনে
রেফ্রিজেরেটর, গ্যাস ওভেন, বাসনপত্র সবই তো আছে।
বিকেল সাড়ে ৫টার পরেই আমরা
ফিরে চললাম মুলশি লেকের কাছে। বেলা পড়ে যাচ্ছে, হয়তো আধ ঘণ্টার মধ্যেই সূর্যাস্ত হবে। সন্ধে ৬টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম লেকের
কাছে। রক্তিম সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিম দিগন্তে। পাহাড়ের এক অংশ এসে মিলিত হয়েছে
বিশাল লেকের জলে। সমস্ত চরাচরে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে। লেকের জলেও রক্তিম সূর্যের
কমলা আভা। মিনিট দশেক পড়েই অস্তগামী সূর্য লুকিয়ে পড়ল সহ্যাদ্রির পিছনে। ছবি তুলে
সৌন্দর্য-মুগ্ধ আমরা গাড়িতে এসে বসলাম। গাড়ি এগিয়ে চলল ‘ফরেস্ট ফেয়ারি’ ভিলার পথে।
সন্ধে ৭টার আগেই ভিলায়
ফিরলাম। হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে, সকলে গরম চা নিয়ে বসে
পড়লাম ড্রয়িং রুমের সোফায়। সবাই অভিভূত মুলশি লেকের রূপে। ঋতি ভিলার কেয়ার-টেকারকে
আগেই কিছু টাকা দিয়েছিলাম। সে এই অবসরে ঘরে এসে দিয়ে গেল দুধ, ব্রেড, বাটার, ম্যাগি-নুডলস ও ডিম – এসব লাগবে পরদিন প্রাতরাশে। ঘরে
ডিম-লাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। খাদ্য ও পানীয় সহযোগে আজ আমরা ঘরোয়া-পার্টিতে আনন্দ
করব এই সন্ধ্যায়।
সকাল সাড়ে ৬টায় বিছানা ছেড়ে
উঠে পড়লাম। গত রাতে একতলার ঘরে এসে শুয়েছিলাম। হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে
বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। চারিপাশে তখনও হালকা অন্ধকার। এইটুকু বুঝতে পারছি যে ৭টার আগে
সূর্যোদয় হবে না। মোটামুটি আন্দাজ করতে পারছি কোথা থেকে দিবাকর উদিত হবেন। সোয়া
৭টা বেজেছে, পাহাড়ের পিছনে ও
উপরের আকাশে হালকা কমলা রং ধরেছে। আমি চোখ মেলে দেখছি প্রথম ভোরের সৌন্দর্য। একাকী উপলব্ধি
করছি সুন্দরের আহ্বান। সহ্যাদ্রির কোল ছেড়ে হঠাৎই কমলা বর্ণের সূর্যদেব ভাসমান
হলেন পূর্বাকাশে। সূর্যোদয়ের শাশ্বত রূপ প্রত্যক্ষ করে ধন্য হলাম আমি। ঘড়িতে তখন
সকাল ঠিক ৭টা ২৩ মিনিট।
সকাল ৮টায় চায়ের কাপ হাতে
নিয়ে ব্যালকনিতে এসে বসলাম। আমার মনে হয়,
প্রকৃতিকে
একা বসে উপভোগ করার আনন্দ সবচেয়ে বেশি। দেখি,
সোনালী
রোদ গায়ে মেখে কয়েকটি পাখি উড়ে গেল লেকের দিকে। পারমিতাও ততক্ষণে উঠে পড়েছে। ৯টা
নাগাদ আমরা দুজন উপরে উঠতেই ঋতি ও গাবলু হাসিমুখে স্বাগত জানাল। ড্রয়িং রুমে বসে
সকলে মিলে চা-বিস্কুট খেলাম। হাতে সময় আছে,
তাই
বেলা ১১টা নাগাদ মুলশি থেকে বার হলেই চলবে। এবার পারমিতা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত
হলো ব্রেকফাস্ট তৈরিতে। কারুর পছন্দ ব্রেড-বাটার-অমলেট, কারুর আবার এগ-নুডল্স। আমরা দু’জন সময়
নষ্ট না করে স্নান করতে গেলাম।
ব্রেকফাস্ট সেরে এবার সবাই
গরম কফি নিয়ে বসলাম। ভিলার কেয়ার-টেকার মাঝে এসে জিজ্ঞেস করে গেল, আমাদের আর কোন কিছুর প্রয়োজন আছে কি না। আমরা নিজেদের লাগেজ
চেক করে নেওয়ার পর সেগুলো গাড়ির ডিকিতে ভরা হলো। বখশিশ পর্ব মিটিয়ে আমরা ঠিক সোয়া
১১টায় ফেরার যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমেই চলে এলাম নান্দিভালি – পথের দু’পাশেই জঙ্গল, কোথাও ঘন, কোথাও হালকা। আমাদের
প্রথম গন্তব্য দেবীকুণ্ড জলপ্রপাত।
ঘাট-রাস্তার মধ্য দিয়ে ছুটছে
আমাদের গাড়ি। কিছুদূর এসে এক পেট্রল পাম্প থেকে গাড়িতে জ্বালানি ভরা হলো। সুন্দর
রাস্তা ধরে আরও ১০ মিনিট চলার পর ‘তামহিনি’ এসে পৌঁছলাম। জানলাম, কাছেই ‘সোমজয়েশ্বর’ বা তামহিনি ঘাট মহাদেব মন্দির। আমরা একে, একে সারোল, নিভে পেরিয়ে এগোলাম
সোজা পথে। দু’পাশেই ঘন, সবুজ জঙ্গলের মাদকতা
আমাদের আবিষ্ট করে ফেলছে ধীরে ধীরে। আমরা চলেছি এনএইচ-৭৫৩এফ ধরে। দোঙ্গারওয়ারি
পেরোতেই পথের দু’পাশে দেখছি শুষ্ক পাহাড়, সহ্যাদ্রির আর এক রূপ। ভাগার পৌঁছলাম – দেবীকুণ্ড আরও ১০ কিমি দূরে।
জাতীয় সড়ক ছেড়ে ডান দিকে
এগিয়ে রাজ্য সড়ক ধরে নিলাম। দু’পাশে পর্ণমোচী বৃক্ষের জঙ্গল। কিছুদূর এগিয়ে
এসে দেবীকুণ্ডে যাবার জন্য একটা ফাঁকা জায়গায় গাড়ি দাঁড় করানো হলো ১০০ টাকা
পার্কিং-ফি দিয়ে। উলটো দিকে রয়েছে একটা দোকান, ভাত-রুটি-সবজির। দেবীকুণ্ডের বুকিং অফিস থেকে জানাল, বোল্ডার ভরা উঁচু-নীচু জঙ্গল পথে জলপ্রপাত পৌঁছতে হলে
পেরোতে হবে প্রায় ৫ কিমি পথ। স্থানীয় ট্রেকারদের কাছে চার ঘণ্টায় যাতায়াতের এই
ট্রেকিং পথ বেশ জনপ্রিয়। ঘড়িতে তখন দুপুর দেড়টা। তামহিনি ঘাট থেকে মুম্বাই পেরিয়ে
থানে পৌঁছতে লম্বা রাস্তা পাড়ি দিতে হবে। তাই আমরা জঙ্গল পথে কিছু দূর এগিয়েই ফিরে
এলাম। আশেপাশে ঘুরে প্রকৃতির কিছু ছবি তুলে আমরা গাড়িতে এসে বসলাম।
দেবীকুণ্ডেই টাটা পাওয়ার-এর
ভিরা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র – তাই পাওয়ার প্ল্যান্টের কর্মীদের জন্য এখানে রয়েছে
কোয়ার্টার, ব্যাঙ্ক, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং
বাজার-দোকান। ফিরে এলাম জাতীয় সড়কে। গাড়ি থামানো হলো এক চায়ের দোকানে। কম মিষ্টির
লিকার চা পান করলাম বিস্কুট সহযোগে। গাড়ি আবার চলতে শুরু করল। কোঙ্কন পেরিয়ে আমরা
বাঁ দিকে ঘুরে রাজ্য সড়ক-৯৩তে চলে এলাম। লাবেচি বাড়ি পার হতেই পথের দু’পাশে আবার
জঙ্গল শুরু হলো। একে একে গোকুলওয়াড়া,
পাছাবাড়ি, সিদ্ধেশ্বর পেরিয়ে পৌঁছলাম পালি শহরে। এখানে আমরা পেয়ে
গেলাম পুরনো মুম্বই-পুনে হাইওয়ে (এনএইচ ৫৪৮-এ)। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে অম্বা নদী।
আমরা খুশি, কারণ এই যাত্রায় আমাদের
ওয়াগন-আর অসাধারণ কর্মদক্ষতা দেখিয়ে চলেছে।
পেডলি বাজার পেরিয়ে তুকসাই
গ্রামে এলাম – আবার মন-ভোলানো পর্ণমোচী জঙ্গল পথের দু’পাশে। পৌঁছে
গেলাম খাপোলি, ধরে নিলাম
পুনে-মুম্বই হাইওয়ে (এনএইচ-৪)। আবার ভাটান টানেল পার হলাম, চলে এলাম পানভেল। বড় শহর, বাঁ দিকে এমজিএম হাসপাতাল। এবার পৌঁছলাম এনএমএমসি এলাকার খারঘর-এ। কয়েক মিনিট
পরেই পৌঁছে গেলাম বেলাপুরে। এখানে আমরা লাঞ্চ করব বাঙালির রেস্টোরেন্ট ‘বং
আড্ডা’য়। ঘড়িতে বিকেল ৪টে ১০ মিনিট। ব্যস্ত এলাকা, গাড়ি পার্ক করতে আরও কিছু সময় লাগল। ‘বং আড্ডা’য় সবাই বাংলা বলছে, শুনতে বেশ ভাল লাগছিল। গরম চিকেন রোল, সঙ্গে আমের ঠান্ডা শরবত – খুব উপভোগ করলাম।
ঘণ্টাখানেক পরে গাড়িতে এসে
বসলাম। গাবলুর দক্ষ হাতে স্টিয়ারিং। চলেছি জেএনপিটি রোড ধরে, ডান দিকে পোর্ট ট্রাস্টের বিশাল এলাকা। দূরে, সাগর পাড়ে পাহাড়ের কোলে দেখতে পাচ্ছি রায়গড় ফোর্ট। এবার
রাস্তার দু’পাশেই ‘কনটেইনার লোডিং এরিয়া’ শুরু হলো। কিছুক্ষণ পরেই ‘অটল সেতু’তে
প্রবেশ করলাম – বহু দিন অপেক্ষার পর। ছয় লেন হাইওয়ে বিশিষ্ট এই সেতু মুম্বাইকে
যুক্ত করেছে নভি মুম্বাই-এর সঙ্গে। অটল সেতুর আর এক নাম ‘মুম্বাই ট্রান্স হারবার
লিঙ্ক’ যার দৈর্ঘ্য ২১.৮ কিমি। ভারতের এই দীর্ঘতম সমুদ্র
সেতু দৈর্ঘ্যে বিশ্বের ১২তম।
বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখছি
সমুদ্রের বুকে বেশ কয়েকটি জাহাজ। দেখছি,
বম্বে
হাই এরিয়া থেকে খনিজ তেলের পাইপ-লাইন পৌঁছে গিয়েছে ট্রম্বে পর্যন্ত। ডান পাশে
সিউরি - তার সুউচ্চ বিল্ডিংগুলো শোভা পাচ্ছে। বাঁ পাশে মাজাগাঁও ডক লিমিটেড। ডোংরি
এলাকার মাঝ দিয়ে এগোচ্ছি। ডান পাশে মুম্বাই জিপিও, চলেছি দীর্ঘ বন্দর এলাকা ধরে। এবার ডান পাশে মুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন
বিল্ডিং, বাঁ দিকে তাকালে একটু দূরে
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। ধোবি তালাও পেরিয়ে চলে এলাম অসাধারণ সুন্দর নরিমান পয়েন্ট-এ।
দেখছি, হোটেল ওবেরয় গ্র্যাণ্ড ও
হোটেল ট্রাইডেন্ট-এর চোখ ধাঁধানো অট্টালিকা দুটি। কোস্টাল রোড ধরে এগিয়ে প্রবেশ
করলাম ‘সাগরমালা’ প্রকল্প এলাকায়। সমুদ্রের নীচে টানেল ধরে কিছুদূর এগিয়ে গাড়ি
আবার উঠে আসে সমুদ্রের উপরের রাস্তায়। মুম্বাই নগরীর সুউচ্চ বিল্ডিংগুলি ডান দিকে
গর্বোদ্ধত হয়ে দাঁড়িয়ে। বম্বে-কুরলা-কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছে ইউ-টার্ন নিয়ে গাড়ি
আরও কিছু দূর এগিয়ে ধরে নিল ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেসওয়ে। সান্তাক্রুজ-চেম্বুর লিঙ্ক
রোড ধরে চলে এলাম কুরলা এলাকায়। মিনিট পনেরো পরেই পৌঁছে গেলাম ঘাটকোপার। এবার
চলেছি ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ে ধরে। আরও ৬-৭ কিমি পেরিয়ে চলে এলাম ভিখরোলি। এবার
একে একে বাদলাপুর, মুলুন্দ পেরিয়ে থানে
এসে পৌঁছলাম সন্ধে পৌনে ৮টায়। ঘরে ফিরে এসেছি, তবু এই অভূতপূর্ব যাত্রার রেশ যেন কাটছে না কিছুতেই!
~~000~~

%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87.webp)
%20%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87.jpg)
%20%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%B6%E0%A6%BF%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%95.jpg)
%20%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4.jpg)
%20%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%B6%E0%A6%BF%20%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4.jpg)
%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%A8%E0%A6%BE%20%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%95.jpg)
No comments:
Post a Comment