বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/সম্পাদকীয়/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | সম্পাদকীয়
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ
"দুগ্ধপোষ্য শিশুরাও নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য বোঝে শুধু মুখ ফুটে বলতে পারে না। অথচ কোটি-কোটি মানুষের শাসনের দায়িত্ব নিয়ে, সমাজসেবায় মহান ব্রতী যাঁরা, তাঁরা কেন বুঝেও বোঝেন না!"
প্রথমেই বাতায়ন পরিবারের সকল সাহিত্যিক-কবি ও পাঠকদের
নববর্ষের আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা জানাই। পায়ে-পায়ে বাতায়ন অনলাইন পত্রিকা চতুর্থ
বৎসরে পদার্পণ করল। এই কৃতিত্ব বাতায়ন পরিবারের সকলের। আগামী দিনেও আপনারা অতীতের মতোই
আমাদের সঙ্গে থাকুন। আগামী দিনগুলো সকলের খুব ভাল কাটুক এই কামনা করি।
চৈতি হাওয়ায় ভর করে আরও একটা বৈশাখ, নববর্ষ এসে পড়ল।
চিরদিন-ই এসেছে। তবে আর কতদিন আসবে তা জোর দিয়ে বলা যায় না। একটা-দুটো সমস্যা তো নয়,
সমস্যা বহুবিধ। পাড়া, জেলা, রাজ্য, দেশ এবং বিশ্ব কাকে ছেড়ে কাকে ধরবেন। আমরা এক ভয়াবহ
সঙ্কটকালের সম্মুখীন।
কী হবে সেইসব ভারতবাসীর যাঁরা ভোট দিতে পারবেন না? কী
হবে সাধারণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের? কী হবে যারা দালাল, বিভিন্ন সিন্ডিকেট,
গুন্ডার হাতে নানা ভাবে বঞ্চিত? সাম্প্রদায়িক তোষামোদ অথবা হিংসারই-বা পরিণাম কোথায়
গিয়ে দাঁড়াবে? আস্ফালনের যে-রকম মতিগতি তাতে সত্যিই যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়, পারমাণবিক
বোমা যদি সত্যিই নিক্ষেপিত হয়, আমাদের এই সাধের পৃথিবী বাসযোগ্য থাকবে তো?
দুগ্ধপোষ্য শিশুরাও নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য বোঝে শুধু
মুখ ফুটে বলতে পারে না। অথচ কোটি-কোটি মানুষের শাসনের দায়িত্ব নিয়ে, সমাজসেবায় মহান
ব্রতী যাঁরা, তাঁরা কেন বুঝেও বোঝেন না!
এখন ক্ষমতালোলুপ ক্ষমতাসম্পন্নদের মানুষ কতটা সুযোগ
দেন সেটাই দেখার!
একদিন সব ঠিক হবে। এই আশাতেই বাঁচি
ReplyDeleteলাগাতার স্বর তুলে যাওয়া-- এটাই করে যেতে হবে, করে যাব।
ReplyDelete"বাতায়ন অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা"-র 'চৈতি হাওয়া' বিশেষ সংখ্যার এই সম্পাদকীয়টি বর্তমান সময়ের ভয়াবহ সংকট, সামাজিক অবক্ষয়, সাম্প্রদায়িক বিভেদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সাহসের সাথে তুলে ধরেছে। এটি কেবল নববর্ষের প্রথাগত শুভেচ্ছা নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ, মানবিক চেতনায় নাড়া দেওয়া এক গভীর চিন্তাশীল বিশ্লেষণ। বর্তমান অস্থির সময়ে এই বাস্তব সত্য প্রকাশের জন্য মাননীয় সম্পাদক মশাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ReplyDelete