বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
জয়নাল
আবেদিন
অস্তমিত
সূর্য
"বৌদি, তুমি সবকে আপন ভাবলেও সকল কি তোমায় আপন করে নেবে? বিষাক্ত ঝড় উঠেছে যে, ভেতরটা আর আগের মতো নেই। এখন সবেতেই যার-যার তার-তার।"
শমিতা কেমন দিন দিন রুক্ষ, রুগ্ন হয়ে
যাচ্ছে। তবে মুখে হাসি মেখেই কথা বলে, কর্কশ নয়। একটা হতাশা
যে গ্রাস করেছে, দেখেই অনুমান করা
যায়। চুলে তেল দেয় না। সেই পুরানো কাপড়গুলোকেই উলটে-পালটে
পরে। কিছুটা বা আনমনা। সোনাবৌদি একদিন বলেছিল,
-তুমি দিন দিন এমন হয়ে যাচ্ছ কেন গো?
-কেমন হয়ে যাচ্ছি?
কী যে
বলো বৌদি।
একটু হাসল শমিতা।
-হেসে উড়িয়ে দিও না। আয়নার সামনে দাঁড়াও একবার বুঝতে
পারবে।
সোনাবৌদি বললে।
-ধুর, তুমিও যেমন। সারাদিন
সংসারে ঝক্কিঝামেলা। দুটো গোরু তিনটে ছাগল। এদের নিয়ে দিন কাবার। আয়নায় মুখ দেখার
বিলাসিতা ভাবি না আর।
একটু উদাস শমিতা।
-কতই বা বয়স তোমার?
ভায়েদের
সংসারে এভাবে জীবন কাটাবে। শেষ বয়সে কী হবে ভেবে দেখেছ কখনো?
কেমন আবেগ মাখান গলা
সোনাবৌদির।
-বৌদি, যার এখন নেই— তার
আবার তখন ভেবে কী লাভ। সব ভাবনা তো ফল দেয় না গো।
চোখের কোন কেমন চিকচিকে।
-সব কথা উপহাস করে উড়িয়ে দিও না। জীবনটা ছেলেখেলা নয় গো।
বেঁচে থাকারও তো একটা নিয়ম আছে। কার সংসার আগলে আছ?
-বৌদি, মেয়েদের নিজের বলে
কিছু আছে? বাপেরবাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি
মেয়েদের নিজের বাড়ি কোনটা বল-তো?
-আপন করে নিলে সবখানেতেই নিজের গো।
-বৌদি, তুমি সবকে আপন ভাবলেও
সকল কি তোমায় আপন করে নেবে? বিষাক্ত ঝড় উঠেছে যে, ভেতরটা আর আগের মতো নেই। এখন সবেতেই যার-যার তার-তার। যতদিন শক্তি- ততদিন ভক্তি। জানি সব কিন্তু
কিছু করার নেই।
-সময় থাকতে সময়ের মূল্য না দিলে যে, কষ্টের দিনগুলো কষ্ট দেয় গো।
-জানো বৌদি, আমিও তোমার মতো ভাবতাম।
কিন্তু ভাবতে ভাবতে সময় চলে গেল। যাদের দায়িত্ব নেবার কথা
তারা তখন নেয়নি। লেখাপড়াটাও সেভাবে হলো না।
-তুমি আসলে নিজেকে গুরুত্ব দাওনি ভাই। যাই বলো।
-আমাকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি বৌদি। সবকিছু বলা যায় না। বুক
ফাটে তো মুখ ফোটে না। যখন সময় হলো, তখন আর আমার জন্য
সময় নেই। রোগের বাসা নিয়ে কাউকে আর ঠকাতে চাই না। ভাটার টানে সব কিছু শেষ হয়ে
গেছে।
~~000~~

No comments:
Post a Comment