প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Sunday, March 8, 2026

কবিতা— স্বর্ণখচিত দু’চার লাইন | কবি— ফটিক চৌধুরী | পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— স্বর্ণখচিত দু’চার লাইন
কবি— ফটিক চৌধুরী
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত

"নির্জন দুপরকে আহূত করার মধ্য দিয়ে সুন্দরের অনুসন্ধান করেনসোনালি রেখার সূত্র ধরে কবি এগিয়ে যান। কবিতটি সার্থক গদ্যরূপকের ভাবনায়তুলনাটি এক্ষেত্রে মনে হয় অবাস্তব বা কষ্টকল্পনা।"

 
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
সোনা দিনদিন যেভাবে দুর্মূল্য হচ্ছে
আমাদের সোনালি দিনগুলোও
                    সেভাবে চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে
তাহলে কি স্বর্ণাক্ষরে কিছুই লেখা হবে না?
জীবনে থাকবে না কোনও উষ্ণতা!
ভেতরে কি জমছে বরফের পাহাড়?
 
আমি তো চাই দু’চার লাইন
                উপহার দিতে পৃথিবীকে
কেউ তো অপেক্ষা করে থাকে…
 
এজন্যই ডেকেছি একটি নির্জন দুপুরকে
                যেখানে সুন্দরের আসাযাওয়া
সুন্দরের মধ্যে থাকে একটি সোনালি রেখা
                        যার সূত্র ধরে এগিয়ে যাই
যদি আসে স্বর্ণখচিত দু’চার লাইন!
 
কবি দুর্মূল্য সোনার সঙ্গে স্বর্ণাক্ষরে লেখার তুলনা করে কবিতাটি লেখার প্রয়াস করেছেন, তুলনাটা বাস্তবে অসম্ভব মনে হলেও অকল্পনীয় কিছু নয়, সত্যি স্বর্ণাক্ষরের লেখনী কি আর সম্ভব হবে না? প্রশ্নটি পাঠকের কাছে রেখেছেন।
তবে স্বর্ণখচিত দু-চার লাইনের লেখা মেধা দক্ষতা আবেগ থাকলে আসতেই পারে। সোনার দাম বাজার অর্থনীতির সঙ্গে ওঠে নামে, এখন তো নামার কোন লক্ষণই নেই, উল্টে দিনের পর দিন বাড়ছে, যার বাস্তবতা কল্পনা করতে হয় না, কিন্তু শ্রমার্জিত বুদ্ধিচালিত লেখনী প্রতিভা তুঙ্গে থাকলে স্বর্ণাক্ষরের লেখা আসতেই পারে, তবে তা সোনার দামের সঙ্গে তুল্যমূল্য হতে পারে না, যদিও স্রষ্টার নাম ভাষায় হয়তো আমরা বলে থাকি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
-কথা বলা যেতে পারে, সোনার দূর্মূল্যকে প্রাধান্য দিয়ে লেখা এগিয়ে যেতে পারে, লেখা গুনসম্পন্ন হলে অক্ষরস্রষ্টার নাম স্বর্ণখচিত অবশ্যই হবে।
জীবন থাকলে উষ্ণতা যদি না থাকে তাহলে জীবন কীসের, এক্ষেত্রে কবির আশঙ্কিত হবার কারণ নেই।
তিনি লিখেছেন "আমি তো চাই দু’চার লাইন উপহার দিতে পৃথিবীকে / কেউ তো অপেক্ষা করে থাকে…", কবি লিখে চলুন আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে।
তাই নির্জন দুপরকে আহূত করার মধ্য দিয়ে সুন্দরের অনুসন্ধান করেন, সোনালি রেখার সূত্র ধরে কবি এগিয়ে যান।
কবিতটি সার্থক গদ্যরূপকের ভাবনায়, তুলনাটি এক্ষেত্রে মনে হয় অবাস্তব বা কষ্টকল্পনা। কবিতায় একটি Philosophical Effort আছে, আবেগমথিত নয়, সহজ অনাড়ম্বর ভাষা। শব্দের চতুরতা বা ধ্বনির ব্যঞ্জনা আরো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়েছে।
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)