বাতায়ন/নাসির
ওয়াদেন সংখ্যা/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | কষ্টিপাথর
সঙ্ঘমিত্রা দাস
কবিতা— ঘরবদল
কবি— চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য
[কবিতার শিরোনাম, কবির নাম ছাড়া
শুধু কবিতা নিয়ে এই আলোকপাত]
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায় লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | কষ্টিপাথর
সঙ্ঘমিত্রা দাস
কবিতা— ঘরবদল
কবি— চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায় লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
"আর তার সুযোগ নিচ্ছে কোকিল রূপী সুযোগসন্ধানীরা। এই কবিতার মাধ্যমে কবি সেই সব পরজীবী নিজের আখের গোছানো মানুষগুলোর মুখোশ খুলে দিতে চেয়েছেন।"
বসন্ত ঋতু ও সেই কালের সময়ে কোকিলের আগমন ও কাকের বাসায় ডিম পেড়ে নিজে সন্তান প্রতিপালন না করে অন্যের সাহায্যে আখের গুছিয়ে নেওয়া। অপরের সরলতার সুযোগ নিয়ে আপন কর্ম সম্পন্ন করার গল্প এই কবিতার মূল বিষয়। এখানে কবি বহুল প্রচলিত এই ঘটনাকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের এক শ্রেণী সুযোগ সন্ধানী মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলতে চেয়েছেন। আর এই দুষ্কর্মের সাক্ষী থেকেও যারা প্রতিবাদ করতে পারেন না শুধু একটা ফিশফাশ আলোচনায় মগ্ন থাকেন। গাছের পাতা নাড়া যেন সেই মানুষের এক রূপ। সবটা জেনেও তারা নীরব। কাক মায়ের ওমে কোকিলের বেড়ে ওঠা। স্নেহ মমতায় যাকে বড় করে তোলে তার কাছ থেকে যে চরম আঘাত আসে তার হাহাকার বিষাদ অসীম। সুন্দর শব্দের মাধ্যমে কবি তা প্রকাশ করেছেন। স্নেহ, বিশ্বাসের ওপর তা এক চরম আঘাত। যা হয়তো কোনদিনও পূরণ হবার নয়। নিরন্ধ্র রাত, হাহাকার অসীম শব্দগুলির মধ্যে কবি সেই ব্যাঞ্জনাকে তুলে ধরেছেন। কোকিলের হয়তো সহজাত প্রবৃত্তি এটা কিন্তু তার ফলে কাকের অন্তরের যে বেদনা তাকে উপেক্ষা করা যায় না। যে কুহু ডাকে সমস্ত জগৎ মোহিত হয়ে থাকে তা হয়তো কাক মায়ের মানষিক বিষাদের কারণ। সম্পূর্ণটাই সমাজের বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণের রূপকার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু বসন্তে প্রেমের ঋতুতে নয় সারা বছর বিশ্বাসের মৃত্যু হচ্ছে এমনি ভাবে। সমাজের সরল মানুষ রোজ ঠকছে কাক মায়ের মতো। হয়তো বুঝেও আবার সেই ভুল করছে মমতা মাখা কোমল হৃদয়ের টানে। আর তার সুযোগ নিচ্ছে কোকিল রূপী সুযোগসন্ধানীরা। এই কবিতার মাধ্যমে কবি সেই সব পরজীবী নিজের আখের গোছানো মানুষগুলোর মুখোশ খুলে দিতে চেয়েছেন।

No comments:
Post a Comment