প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে ধারাবাহিক-৪ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/৯ম সংখ্যা/২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-

"লাল নাইটিটা দিয়ে ওর রোগাটে অথচ পুরো ভরাট শরীর ফুটে উঠেছে সেই অবস্থায় ও হেসে হেসে দুলছে আর বাজে বাজে কথা বলছে পাশের বাড়ির ছোটছেলে তপাইয়ের সাথে।"

 
প্রেয়সী এক ঝটকায় বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। আমার আবার কী রকম যেন সন্দেহ হল। কথাবার্তা কেমন যেন। বেশ সন্দেহভাজন। ওকি তাহলে আমার কাছে সুখী নয়? ওই যে কীসব বলে গেল আমি নাকি নিস্তেজ। না দেখতে হচ্ছে। গুটি গুটি পায়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাইরের ঘরেও তো নেই। সদর দরজায় গিয়ে দেখি ভিতর থেকেই তো বন্ধ। তাহলে গেল কোথায়? দেখি ছাদে যাই! সিড়ি দিয়ে চুপকে চুপকে উঠেও গেলাম।
হ্যাঁ, যা ভাবা তাই। লাল নাইটিটা পরে ছাদের ধারে গিয়ে কার সঙ্গে হেসে হেসে কী ইঙ্গিত করছে, মনে হচ্ছে। কায়দা করে ছাদের এক কোণে চলে গেলাম চিলেকোঠা ঘরের দেওয়ালের আড়াল থেকে উঁকি মারা সহজ তাই আমি ওদের দুজনকেই দেখতে পাচ্ছি কিন্তু ওরা কিচ্ছুটি টের পাবে না।
ছিঃ ছিঃ প্রেয়সীর এ কী স্বভাব? লাল নাইটিটা দিয়ে ওর রোগাটে অথচ পুরো ভরাট শরীর ফুটে উঠেছে সেই অবস্থায় ও হেসে হেসে দুলছে আর বাজে বাজে কথা বলছে পাশের বাড়ির ছোটছেলে তপাইয়ের সাথে। ছেলেটা দেখতেও লাল্টুস আর পড়াশোনায় খুব ভাল। তাহলে কী হবে? স্বভাবের দোষ আছে। কিন্তু প্রেয়সীর এ কী হল? ঘরের বউ হয়ে এই কী?
কান খাড়া করে শুনলাম। তপাই জিজ্ঞাসা করছে,
-কাল রাত কেমন কাটল?
প্রেয়সী বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে লাইক করে বলছে,
-বুড়োব্যাটা বর আমার, তোমার মতো কচি আর জোয়ান পেলেও না হয় হত।
ছিঃ ছিঃ বড় লজ্জার কথা। এ শোনা যায় না। আস্তে করে লজ্জা নিয়ে সরে এলাম। যা বোঝার বোঝা হয়ে গেল। তার মানে প্রেয়সী তপাইয়ের সঙ্গে লটরপটর করে। আমি নাকি বুড়ো। অথচ ও নিজই এক বাতিকগ্রস্থ মহিলা। আসলে তপাই আছে বলেই আমার প্রতি ওর এত অনিচ্ছা।
মন খারাপ করে শুয়ে রইলাম। আজ আর উঠবই না। দেড় ঘন্টা বাদে প্রেয়সী ফিরে এসেই এক লাফে আমার বুকের উপর এসে চড়াও হল,
-কীগো ঠান্ডা মেরে গেলে কেন?
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। ও জোর করে আমার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে যা বললে,
-লুকিয়ে দেখার কী ছিল? ভেবেছ আমি দেখিনি। বিড়ালের মতো নিজেকে বালিতে লুকালে কী হবে? লুকাবার কী আছে? তপাই কত সুন্দর।  সব মেয়েদের মনেই ভাল পুরুষ থাকে। অনেকে লুকিয়ে রাখে। আমি রাখি না।
-ছিঃ তুমি না বিবাহিত? ঘরের বউ?
-সেটাই তো আরো সুবিধাজনক। সব ইয়ং ছেলেরাই বৌদিকে একটু...
-চুপ করো নোংরা!
-আমি নোংরা? আর তুমি যখন বাইরের মেয়েদের ঘুরেফিরে ঝারি মারো, দেখে লোভে জিভে জল এসে যায় তখন? তখন তো বাড়ি ফিরে সেই ঘরের নোংরা বউটাকেই দিয়ে সেই আশ মেটাও।
-বাহঃ কী কথা? তুমিও তাই?
-তা কী হয়েছে? না হলে তপা কী করে এই সব শিখবে? আর আমার তোমাকে খুব ভাল লাগে না। ভীষণ সেকেলে। নিজে পছন্দ করে বিয়ে করলেই ভাল হত। বেশ ইয়াং লালটুস তপার মতো ছেলে পেলে খুব মজা পেতাম।
এরপর আর মাথার ঠিক থাকে? আমি এক ঝটকায় ওকে সরিয়ে দিয়ে উঠে পড়লাম।
প্রেয়সী খুব রেগে গেল,
-কী বেশি রাগ দেখাচ্ছ? অকর্মার ঢেকি। যাও যাও মনে রেখো আমারও ইচ্ছে-অনিচ্ছের একটা ব্যাপার আছে। তুমি আজ দেখে নিলে তাই। জেনে রাখো, তপার মতো আরো অনেক ছেলে আমার পিছনে ঘোরে। ইচ্ছে হলেই তোমায় ছেড়ে চলে যাবো একদিন। আমাকে রাগালে তোমাকেও খুন করে দেবো কিন্তু! আমার থেকেও তোমার বেশি রাগ হয়েছে? আজ আমিও উঠছি না। রান্নাবান্না সব বন্ধ। যাও তুমি রাস্তায় গিয়ে অন্য মেয়ে দেখে সাধ মেটাও গিয়ে...

ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)