প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে ধারাবাহিক-৩ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/৮ম সংখ্যা/১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-

"এক দৌড়ে বিছানায় উঠে প্রেয়সীকে পিছন থেকে তুলে ধরে অনেক আদর করলাম তারপর গোটা দশেক চুমু খেয়েও নিলাম! পিঠে, গালে সপাং সপাং শব্দের আদর চড়িয়ে দিলাম।"

 
-না সম্ভব নয়, এরকম একগুঁয়ে বউকে নিয়ে ঘর করা যায় না।
-কী বললে? আমি একগুঁয়ে? বেশ তো কে বলেছিল আমার গলায় মালা দিয়ে ঘরে আনার? আমার কুমারীত্ব ফিরিয়ে দাও আমি তোমায় ত্যাগ করে চলে যাবো? আর যদি আগে আমি যেমন ছিলাম তেমন না করে দিতে পারো তাহলে আমার সব অত্যাচার সহ্য করতে হবে তোমায়!
-এসব কী কথা? অভদ্র কথা! বিয়ে হলে তো দুজনায় মিলেমিশেই থাকে।
-না, আমি তো বাজে মেয়ে, তাই না? খারাপ মেয়ে কী করে মিল করবে? আর মেশামিশি যতই করি তোমার মন আর ভরবে না। তোমরা পুরুষেরা আমাদের ব্যবহার করেও সুখ আর পাবে না আবার বাইরে খেতে যাবে এটা তোমাদের জাতের অভ্যাস।
-আচ্ছা আচ্ছা থাক। খুব হয়েছে তোমার ব্যাখ্যা।
-থাকবে কেন? দেখো আমি রেগে গেলে কিন্ত খুব রাগী হই এটা জেনে এগোও।
-যে রাগে তাকে তো রাগীই বলে ...
-নিকুচি করেছে এরকম বরের।
হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমার কাচের বাঁধানো ছবিটা ছুঁড়ে ফেলে দিল মেঝেতে, খান খান করে ভেঙে পড়ে গেল মাটিতে। আমি তো দিশাহারা। দেখি প্রেয়সী বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে হাউমাউ করে রোদন করছে,
-আমার সব চলে গেল আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম। বর নয় সে একটা লুঠেরা।
এবার আমার মাথা খুলে গেল। এক দৌড়ে বিছানায় উঠে প্রেয়সীকে পিছন থেকে তুলে ধরে অনেক আদর করলাম তারপর গোটা দশেক চুমু খেয়েও নিলাম! পিঠে, গালে সপাং সপাং শব্দের আদর চড়িয়ে দিলাম। দুনিয়া যেন আনন্দময় হল, রাগ হঠাৎই বদলে গেল অভিমানে, প্রেয়সী ঘুরে আমায় জাপটে ধরে আলতা করে আবদার করল,
বেশি করে সোহাগ দিতে জানো না?
-সেটা আবার কী? কেমন করে দেয়?
-দেখবে? তবে দ্যাখো...
কথাগুলো বলেই প্রেয়সী তার মুখটা আমার বুকে গুঁজে দিয়ে চোখ বুজে নিল।
-আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না তো?
-তোমার মাথায় গোবর ভর্তি। চোখ কপালেই থাকে না। অন্য স্থানেও থাকে।
-সেটা কোথায়?
-ক্যাবলা আমার! যেখানে আমার চোখ বুঁজে রেখে দিয়েছি।
-ওহঃ তা বটে! যাকে বলে অন্তর্চক্ষু?
-মুণ্ডু!
-কার?
-তোমার। আবার কার? বোকার মতো এখনো চুপ করে শুয়ে আছ যে? কিছু একটা করো...
ওর রাগ কমানো, ঘুরিয়ে ফেরানো তারপর শান্ত করা চাট্টিখানি কথা নয়। কাজে অকাজে ওকে ওর কথা মতো খুশি করতে পারাও ভীষণ কঠিন। যেমন কথা তেমনই কাজ! ধড়ফড় করে লাফিয়ে উঠে পড়ল প্রেয়সী,
-কী লোকরে বাবা! জল চলে যাবে আর এখন কামচোর বর আমাকে জোর করে বিছানায় চেপে রেখেছে?
-দাঁড়াও দাঁড়াও কোথায় যাচ্ছ? আমার উত্তেজনা ইচ্ছের আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে এখন তুমি জল ঢালতে চললে? আমার কী হবে এখন? আমি যে পুড়ে মরব?
-কিচ্ছুটি হবে না সোনা! তুমি উত্তেজনায় গরম হতে থাকো, যা তোমার ক্ষমতা, তা আর কেউ না জানুক আমি তো ভালই জানি, ভাল করে গরম হও, না হলে এক মিনিটেই ভালবাসার সলিল সমাধি ঘটে যাবে, অপেক্ষায় থাকো আমি ততক্ষণে বরং আমার প্রাক্তন প্রেমিকের জন্য কিছু বিনিময় করে আবার ফিরে আসছি...
-সে কী কথা প্রেয়সী...?

ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)