বাতায়ন/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/৮ম সংখ্যা/১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর
ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৩
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
ধারাবাহিক-৩
"এক দৌড়ে বিছানায় উঠে প্রেয়সীকে পিছন থেকে তুলে ধরে অনেক আদর করলাম তারপর গোটা দশেক চুমু খেয়েও নিলাম! পিঠে, গালে সপাং সপাং শব্দের আদর চড়িয়ে দিলাম।"
-কী বললে? আমি একগুঁয়ে? বেশ তো কে বলেছিল আমার গলায় মালা দিয়ে ঘরে আনার? আমার কুমারীত্ব ফিরিয়ে দাও আমি তোমায় ত্যাগ করে চলে যাবো? আর যদি আগে আমি যেমন ছিলাম তেমন না করে দিতে পারো তাহলে আমার সব অত্যাচার সহ্য করতে হবে তোমায়!
-এসব কী কথা? অভদ্র কথা! বিয়ে হলে তো দুজনায় মিলেমিশেই থাকে।
-না, আমি তো বাজে মেয়ে, তাই না? খারাপ মেয়ে কী করে মিল করবে? আর মেশামিশি যতই করি তোমার মন আর ভরবে না। তোমরা পুরুষেরা আমাদের ব্যবহার করেও সুখ আর পাবে না আবার বাইরে খেতে যাবে এটা তোমাদের জাতের অভ্যাস।
-আচ্ছা আচ্ছা থাক। খুব হয়েছে তোমার ব্যাখ্যা।
-থাকবে কেন? দেখো আমি রেগে গেলে কিন্ত খুব রাগী হই এটা জেনে এগোও।
-যে রাগে তাকে তো রাগীই বলে ...
-নিকুচি করেছে এরকম বরের।
হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমার কাচের বাঁধানো ছবিটা ছুঁড়ে ফেলে দিল মেঝেতে, খান খান করে ভেঙে পড়ে গেল মাটিতে। আমি তো দিশাহারা। দেখি প্রেয়সী বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে হাউমাউ করে রোদন করছে,
এবার আমার মাথা খুলে গেল। এক দৌড়ে বিছানায় উঠে প্রেয়সীকে পিছন থেকে তুলে ধরে অনেক আদর করলাম তারপর গোটা দশেক চুমু খেয়েও নিলাম! পিঠে, গালে সপাং সপাং শব্দের আদর চড়িয়ে দিলাম। দুনিয়া যেন আনন্দময় হল, রাগ হঠাৎই বদলে গেল অভিমানে, প্রেয়সী ঘুরে আমায় জাপটে ধরে আলতা করে আবদার করল,
কথাগুলো বলেই প্রেয়সী তার মুখটা আমার বুকে গুঁজে দিয়ে চোখ বুজে নিল।
-আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না তো?
-সেটা কোথায়?
-ওহঃ তা বটে! যাকে বলে অন্তর্চক্ষু?
-কার?
ওর রাগ কমানো, ঘুরিয়ে ফেরানো তারপর শান্ত করা চাট্টিখানি কথা নয়। কাজে অকাজে ওকে ওর কথা মতো খুশি করতে পারাও ভীষণ কঠিন। যেমন কথা তেমনই কাজ! ধড়ফড় করে লাফিয়ে উঠে পড়ল প্রেয়সী,
-সে কী কথা প্রেয়সী...?
ক্রমশ

No comments:
Post a Comment