বাতায়ন/নাসির
ওয়াদেন সংখ্যা/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির
ওয়াদেন সংখ্যা |
কষ্টিপাথর
সলিল মুখোপাধ্যায়
কবিতা— না পাঠানো চিরকুট
কবি— অপর্ণা শীল ভট্টাচার্য
[কবিতার শিরোনাম, কবির নাম ছাড়া
শুধু কবিতা নিয়ে এই আলোকপাত]
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায়
লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
সম্ভাব্য শিরোনাম আমার মতে:
১) তোকে ঘিরেই
২) তোর জন্যেই
৩) না পাঠানো চিরকুট
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, এই কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, কোন এলেম আছে বলেও মনে করি না। কবিতার একজন অনুরাগী পাঠক হিসেবে সাদামাটাভাবে
পাঠ প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করছি:
এটি একটি সুন্দর, হালকা-মিষ্টি প্রেমের কবিতা। সারল্য ও আন্তরিকতা এর সবচেয়ে
বড় শক্তি। কবি প্রিয়/প্রিয়ার সঙ্গে জীবনের সব আবহাওয়া (ঝড়, বৃষ্টি, দুঃখ-সুখ) একসাথে
কাটানোর যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, তা খুবই স্পর্শ করে।
কবি ভালবাসায় ঐকান্তিক ও
বেপরোয়া। তিনি বলছেন— জীবন এলোমেলো হলেও সমস্যা নেই, “নাই বা হল প্রথামাফিক, বয়েই গেলো” — এই লাইনটি পুরো কবিতার স্পিরিট ধরে রেখেছে।
প্রেমকে এখানে এক ধরনের স্বাধীনতা ও সাহসের সঙ্গে দেখানো হয়েছে। এই জায়গায় এসে
আমার কবি জয় গোস্বামীর, "পাগলী তোমার
সঙ্গে" মনে পড়ে যায়।
স্বরবৃত্ত ছন্দে খুবই সহজ
কথ্য ভাষায় উপস্থাপনা হৃদয়গ্রাহী। অতিরিক্ত জটিল শব্দ বা কৃত্রিম সাহিত্যিকতা
নেই। “মনমাফিক”, “অচিনপুর”, “পর্ণকুটির”, “মেঘপাহাড়”, “সুখসাগর”— এসব শব্দ ব্যবহার করে কবি একটা স্বপ্নময়, গ্রাম্য-প্রকৃতিময় পরিবেশ তৈরি করেছেন।
কবিতাটির সবচেয়ে সুন্দর দিক
হলো প্রকৃতির সঙ্গে প্রেমকে মিশিয়ে দেওয়া:
ঝড়ে মনের রং উড়ে যাওয়া, বৃষ্টিতে দুজনে মিলে ভিজে যাওয়া ও হাসি, মেঘপাহাড় ও সুখসাগর—
আনন্দের অসীমতা, পর্ণকুটির ও বাঁশির
সুর— আদিম, নির্মল সুখ এই চিত্রগুলো খুবই
দৃশ্যমান ও অনুভূতিপূর্ণ।
কবির আন্তরিকতা, ইতিবাচকতা— সমস্যা আসবে, কিন্তু আমরা একসাথে মোকাবিলা করব এই মনোভাব।
শেষের “না পাঠানো চিরকুট”—
খুব সুন্দর সমাপ্তি। একটা অপূর্ণতা ও অপেক্ষার স্বাদ রেখে গেল। গঠনগত দিক থেকেও
সেই উদ্দেশ্যেই মনে হয় এই স্তবকটি অন্যগুলোর থেকে ব্যতিক্রমীভাবে তিন পংক্তির এবং
শেষ পঙ্ক্তিটি একটি পূর্ণ ও একটি ভাঙা পর্ব-ভাগের ইচ্ছাকৃতভাবেই করা।
এই আধুনিক প্রেমের কবিতায়
জটিল সাহিত্যিকতার চেয়ে সরল আবেগের জয় বেশি। পড়তে ভাল লাগে, মনে দোলা দেয়।
দুটো অন্যরকম কথা:
এ কবিতায়
"এককেবারেই" শব্দটা "এক্কেবারেই" না লেখার, আর, "তুই ই"-কে
"তুই-ই" না লেখার কোনো কারণ আছে কিনা বুঝতে পারছি না।
বিশেষ করে প্রথম ও তৃতীয়
স্তবকে ছন্দ বেশ আঁটোসাঁটো, চতুর্থ স্তবকে একটু
আলগা লাগে কিন্তু অর্থের সৌন্দর্য সেটা ঢেকে দেয়।
সম্ভাব্য শিরোনাম আমার মতে:
১) তোকে ঘিরেই
২) তোর জন্যেই
৩) না পাঠানো চিরকুট
No comments:
Post a Comment