বাতায়ন/ক্ষণিকের
অতিথি/সম্পাদকীয়/৩য়
বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | সম্পাদকীয়
আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত
"কথায় আছে ‘অতি দর্পে হত লঙ্কা’। ক্ষমতাবানদের এই অন্যায় দর্পও একদিন শেষ হবে। ততদিনে একদিকে যেমন অনেক সংখ্যক মানুষ তাঁদের শৈশব, তারুণ্য, যৌবন, জীবন হারাবেন তেমনই প্রকৃতি হারাবে তার ভারসাম্য।"
মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক লোক আতঙ্ক ছড়ায়, তার শিকার হন সিংহভাগ সাধারণ নাগরিক। তাঁরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে নাস্তানাবুদ হন। যেন এটাই নিয়ম! রাজ্যে, দেশে বা সমগ্র বিশ্বের একই ছবি। অথচ নাগরিককে স্বাভাবিক, সুস্থ রাখার, নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব যাদের, তারা কী অবলীলায় সর্বাঙ্গে নোংরা পাঁক মেখে ঘুরে বেড়ায়। অবশ্যই মানতে হবে এ তাদের অত্যন্ত সুচতুর চাল। কিন্তু এই চালাকিই কি চিরদিন চলবে?
কালের গতিতে সবই পরিবর্তনশীল, নিরীহ সাধারণ মানুষ একদিন তাঁদের বেদনাক্লিষ্ট চোখের জলের মূল্য নিশ্চয়ই পাবেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দুর্মূল্য জীবন অকালে হারিয়ে যাবে। এত কিছুর ক্ষতিপূরণ বিশ্বজোড়া মহামান্য প্রশাসকরা দিতে পারবে তো? তবু ক্ষমতাবানদের চোখ বাঁধা তারা ক্ষমতার বাইরে কিছুই দেখতে ভুলে গেছে অথবা ইচ্ছা করেই দেখতে চায় না।
কথায় আছে ‘অতি দর্পে হত লঙ্কা’। ক্ষমতাবানদের এই অন্যায় দর্পও একদিন শেষ হবে। ততদিনে একদিকে যেমন অনেক সংখ্যক মানুষ তাঁদের শৈশব, তারুণ্য, যৌবন, জীবন হারাবেন তেমনই প্রকৃতি হারাবে তার ভারসাম্য। আর দেরি না করে এখনও চেষ্টা করলে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হওয়া যেত, কিন্তু ক্ষমতাবানদের কাছে তা সোনার পাথরবাটির সমতুল্য। কাজেই চেয়ে দেখা আর নিজেদের সম্ভাব্য নিয়তির স্থির অগ্রগতি মেনে নেওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই।
মানুষ ভুলে গেছে সংযম।
হয়তো শেষ সময় আগত তাই অন্ধকার ভেঙে আলো ফোঁটে না। হিংস্রতা তাই আজ সর্বশক্তিমান গড়ে তোলে। পরমাণবিক শক্তি থেকে উৎস ক্ষমতার জাহির আমরা এখন দেখছি। আগেও যুদ্ধ হয়েছে এখনো হচ্ছে তবে হিংস্রতা তীব্র আকার ধারণ করেছে একক শক্তিধর রাষ্ট্রের অঙ্গুলিহেলনে।
ReplyDeleteশুধুই একক রাষ্ট্র দেখছেন! আপনার নিজের পাড়া, রাজ্য, কেন্দ্র বা সমগ্র বিশ্ব কি এক পথেরই পথিক নয়!
Deleteসাম্প্রতিক বিশ্বের বাতাবরণ ও বর্তমান সময়ের জন্য এটি একটি অনবদ্য সম্পাদকীয়— সম্পাদকীয়তে যে ক্ষোভ ও দ্রোহ ফুটে উঠেছে তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে শুধু 'কালের নিয়মে' পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষ ও দেশের নাগরিকদের সচেতন ও সংঘবদ্ধ হওয়া একান্ত জরুরি। অন্যায় দর্প তখনই চূর্ণ হয় যখন সাধারণ মানুষ তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হন। প্রশাসন, রাষ্ট্র বা বিশ্বের মহাশক্তিধরদের ক্ষমতার এই দম্ভ, অপব্যবহার, হঠকারিতা ও চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে এ এক দৃঢ় উচ্চারণ। এই ধরণের স্পষ্টভাষী লেখা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে।
ReplyDeleteআপনি যথার্থই বলেছেন। এখন দেখার এই দ্রোহ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে কিনা।
Deleteচন্দ্রনাথ শেঠ। 'বাতায়ন' আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ। এখানে লিখতে পারলে, গর্ব বোধ করি।
ReplyDeleteএবারের সম্পাদকীয়টি, বিশ্বধংসীদের উদ্দেশে লিখিত। যথার্থ। মানুষই মানুষের প্রধান শত্রু। আরার প্রমান হয়ে গেল--এ পৃথিবী ধ্বংস হবে মানুষের হাতেই।
জানি না প্রবীণ গুণীজন, তবু আশা তো রাখতেই হবে যদি ঘটে ব্যতিক্রম।
Deleteবর্তমান সময়ের প্রতিফলন। সময়োপযোগী সম্পাদকীয়।
ReplyDeleteধন্যবাদ বন্ধু কিন্তু আপনার পরিচয় কী?
Deleteহিংস্রতা ভীষণভাবে বেড়ে চলেছে। সিনেমা, ওটিটি তে যেভাবে মারপিট খুন জখম দেখানো হচ্ছে সহ্য করা যায় না। তবু এত মানুষ দেখছে যে প্রফিট মিলিয়নে পৌঁছে যাচ্ছে। হাত কাঁপছে না, মন কাঁদছে না। যুদ্ধ ভাঙিয়ে ব্যবসা চলছে। নিজের ঘাড়ে শেল না পড়া পর্যন্ত ভিডিও,রিল বনিয়ে চলেছে মানুষ। আর এই মুর্খামির লাভ তুলছে ক্ষমতাশালী শক্তি, দেশ, প্রশাসন, নিউজ চ্যানেল সবাই। এই বোধহয় শেষের শুরু
ReplyDeleteএত সহজে শেষের কথা ভাবছেন কেন বন্ধু? বরং ব্যতিক্রমী কথা বলুন, ঘরের মানুষ, পাড়ার মানুষ, কাছের মানুষ সবাইকে।
Delete