প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

এলাই আছে এলাই নাই | ইন্দ্রজিৎ রায়

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | ছোটগল্প
ইন্দ্রজিৎ রায়
 
এলাই আছে এলাই নাই

"আজ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ওহো এই কথায় বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। ঘুরে দেখি আমারই প্রতিবেশী ভদ্রমহিলা এতক্ষ একই অটোতে বসেছিলেন খেয়ালই করিনি"

 
কোথায় ডালপুরি? ভাজা হয়েছে? স্বপ্নে শোনা এই সংলাপটা, মনে পড়ল, অটোরিকশার সামনে বসেছিলাম। সন্ধের শহর চিরে ধোঁয়া, ধুলো, সিমেন্ট বালির চাদরের ভেতর দিয়ে, বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছি। টিভির সংবাদের মতো ঠানামা নানারকম কন্ঠের মডুলেশনের মধ্যে দিয়ে, মাঝখানে এক প্রিয় বন্ধুর, একটি আড়ম্বড়হীন বিবাহ অনুষ্ঠান, সেটাও মাথায় ঘুরছিল। উপহার দেওয়া এক কঠিন ব্যাপার আসলে কী যে দেওয়া উচিত বা কী দেওয়া যায়, এ নিয়ে খুব ভাবিত হয়ে পড়ি আজকাল। কারণ এই গিফ্ট গলি থেকে কাপপ্লেট বাসনকোসন দিই বটে অনুষ্ঠানে কিন্তু ওসব কোনো কাজেই লাগে না। চার রাস্তার মোড়ে অটো দাঁড়িয়েছিল সিগনালে তখনই পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর, এই দাদা তো আমাদের পাশের বাড়িতেই থাকেন আমার আর উনার মা তো একই দিনে চলে যান আজ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ওহো এই কথায় বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। ঘুরে দেখি আমারই প্রতিবেশী ভদ্রমহিলা এতক্ষ একই অটোতে বসেছিলেন খেয়ালই করিনি। আসলে এখানে আমরা একে অপরকে তো খেয়ালই করি না, কারণ আমাদের সঙ্গে, মাঝে, শয়তান থাকে, শয়তান, আমাদের মাঝখানে বসে থাকে। কোনো কিছুই খেয়াল করতে পারি না। খেয়াল করা যায় না, একটু হাসার চেষ্টা করি।
 
বাড়ি এসে মা'র ঘরের সামনে যাই মা'র ঘরের সামনে, ভেবেছিলাম ঘরটা খুলে আলোটা জ্বালাব একটা ধুপকাঠি জ্বালব, শেষে কিছুই করি না। মাও বন্ধ দরজার বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি দরজা খুলতে ইচ্ছে করে না দরজাতে হাত রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়াই। দাঁড়িয়েই থাকি। মিনিট দুয়েক ঠান্ডা কাঠের দরজাটা স্পর্শ করে দাঁড়িয়ে থাকি, যেমন হড়হড় করে অনেক কিছু বলতাম মা'কে একসাথে খান পাঁচেক প্রসঙ্গে, সেরকম কী সব যেন বলি। জিভটা জড়িয়ে যায় তারপর রাস্তায় বেরিয়ে আসি, রাস্তাটা একটা শ্বাপদের হাঁ-মুখ মনে হয়। সুললিত ভঙ্গিতে তার জিভে ভর দিয়ে, তার মুখের ভেতর নেমে যাই। মুখগহ্বরটি গিলে ফেলে আমাকে— হাতের ঘড়িতে ফোনে ১২ই ফেব্রুয়ারি কথাটা জ্বলজ্বল করতে থাকে। দুদিন পরই শহর জুড়ে ভালবাসার উৎসব। গাড়ি গাড়ি লাল গোলাপ আসছে ডিলার ভাও বলছে। মা খুব চিন্তা করত আমি পারব কিনা এই বাজারে, ছিঁচকাঁদুনে বাচ্চাদের অসুবিধে আছে। মা'র জন্য পাথরকুচি পাতা আনতাম জ্বালা কি কমত কিছু মা'? আজ ভাবি। অটো থেকে নেমে মাথা তুলতে পারি না কিছুক্ষণ মাথার কাপড়ে হিম পড়ে। শিমুল ফুল পড়ে। তেলেভাজার গন্ধ এলে আমার সুদর্শন পিতৃতর্পণের দিন মনে আসে, বাবার কথাগুলো স্বপ্নে শুনি। স্বপ্নে অডিও থাকে তবে? ট্রাক একটা হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে উঠে আসে। ওহ দশটা বেজে গেল? আজ বারোই। রাস্তাটা পার হবার জন্য এগিয়ে যাই। মা খুব চিন্তা করত, আমি পারব কিনা, এখন বুঝি কেন। কিছুটা।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)