বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতাণু— ধর্মফল
কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী
পর্যালোচক— সাধন চন্দ্র
[কবির নাম না-জেনে
শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
ধর্মফল
ধর্মফলে পচনের দাগ সুস্পষ্ট
শুধু যে খাচ্ছে সে-ই দেখতে পাচ্ছে না
বিদায় লগ্ন
সূর্যাস্ত দেখতে চায় না মন
মধ্য গগনে বিদায় নেওয়া সহজ কথা নয়
দিশা
কুলুঙ্গির আঁধার দূর করতে
রেখে আসি কিছু কবিতা গুচ্ছ
গভীরতা
আলোকিত বাড়ির ভিত লুকিয়ে
থাকে
সুগভীর অন্ধকারে
মহৎ উপলব্ধি ও শৈল্পিক
উপস্থাপনের মণিকাঞ্চনযোগ: কয়েকটি কবিতা-কণিকা
গভীর বিস্তৃত নিস্তরঙ্গ নীরব
একটা দিঘির দিকে টেনে নিয়ে যায় কিছু কিছু কবিতা। দিঘির নাম উপলব্ধি। দিঘি ডাকে—
এসো বোসো ভেতরে সবচেয়ে ভেতরে ভরে নাও
আমার বাতাস আমার শব্দহীন কথাদের। পারলে চান করে বাড়ি ফেরো আমাকে বহন করে বুকের
ভেতরে।
এরকম কিছু কবিতা নিয়ে কিছু কথা। চারটি দ্বিপদী।
ধৃ ধাতু থেকে ধর্ম শব্দটির
উদ্ভব। ধৃ-এর অর্থ ধারণ করা। যা ধারণ করে তাই ধর্ম। মানবজীবনের ধর্ম বললে
দাঁড়ায়— যা মনুষ্যত্বকে ধারণ করে রাখে তাই ধর্ম। এটা হল তত্ত্বের দিক। কিন্তু এর
ব্যবহারিক দিকের ভাবনায় বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন রকম প্রথা বার করেছে। তাতেই
বিভেদের বীজবপন। তার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যেও কিছু প্রথা। অজ্ঞতার
বশে এইসব নেতিবাচক প্রথা অনুসরণ করে চলেছে অগণ্য মানুষ— ক্ষতি হচ্ছে মনুষ্যত্বের।
কবির ভাবনায় ধর্ম একটি ফল।
ফল স্বাস্থ্যকর। কিন্তু ফলেও তো পচন ধরে। ধর্মেও পচন ধরে। কিন্তু অজ্ঞ মানুষ তা
দেখতে পায় না জ্ঞানচক্ষুর অভাবে। ধর্মান্ধ মানুষের এই আত্মঘাতী ভূমিকা নান্দনিক
বাঙ্ময়তা পেয়েছে 'ধর্মফল' নামক কবিতাটিতে:
ধর্মফলে পচনের দাগ সুস্পষ্ট
শুধু যে খাচ্ছে সে-ই দেখতে পাচ্ছে না
কীর্তিস্থাপনের ধারায়
পরাকাষ্ঠায় সক্রিয় থাকতে থাকতে অবসর নেওয়া ভালো। সাফল্য তথা জনপ্রিয়তা তো
চিরকাল থাকবে না। অথচ সক্রিয়তার শীর্ষ বিন্দুতে থাকতে থাকতে লেখচিত্র নিম্নমুখী
হওয়ার আগে এমনকি নিম্নমুখী হওয়া শুরু হলেও
অবসর নিতে রাজি হয় না মন, শরীর চাইলেও:
বিদায় লগ্ন
সূর্যাস্ত দেখতে চায় না মন
মধ্য গগনে বিদায় নেওয়া সহজ কথা নয়
জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে
অজস্র হোঁচট, রক্ত, অশ্রু, ঘাম তো বটেই — সে তো
প্রচুর প্রচুর এবং প্রায়শই। তাতেই কখনও কখনও হতাশা ও অপমানের ব্যথায়, কখনও অজ্ঞতার বশেও অন্ধকার জমে ওঠে যাপনের নিভৃত কোণে, এমনকি সামাজিক জীবনপথেও। তখন সুদৃঢ় উপলব্ধিতে পাওয়া মহান
আদর্শসমৃদ্ধ এবং "সহৃদয়হৃদয়সংবাদী" কবিতাই পারে জ্ঞান আশা ও আনন্দের
আলো জ্বেলে সেই অন্ধকারকে দূর করতে:
দিশা
কুলুঙ্গির আঁধার দূর করতে
রেখে আসি কিছু কবিতা গুচ্ছ
সাফল্য-ঐশ্বর্য-প্রতিষ্ঠা-সুখ-আনন্দের
ভিত তৈরি করে দুঃখ সংগ্রাম হতাশা অপমান। অতীতের এই অন্ধকার জীবনপর্বই উপভোক্তাকে
জুগিয়ে দেয় বর্তমান তথা ভবিষ্যতের আলো:
গভীরতা
আলোকিত বাড়ির ভিত লুকিয়ে
থাকে
সুগভীর অন্ধকারে
দার্শনিক মূল্যের সঙ্গে
সঙ্গে এই কবিতা-কণিকাগুলির অক্ষরকায়াও অত্যন্ত নান্দনিক এবং স্বকীয়তায়
সমুজ্জ্বল।
ধর্মফল, সূর্যাস্ত, কুলুঙ্গি, ভিত প্রভৃতি রূপক সার্থকভাবে ব্যবহত হয়ে রসগ্রাহী পাঠককে তৃপ্তি দেবে। শিরোনামও কবিতার ভাবানুগ হওয়ায় সার্থক। যতিচিহের প্রয়োগ নেই বলে এই তন্বী কবিতাগুলিকে দেখতেও বেশ ছিপছিপে সুন্দরী লাগছে।
তবে সমাসবদ্ধ পদগুলিকে আলাদা রাখাটা অসংগত ঠেকছে:
বিদার লগ্ন, মধ্য গগণে, কবিতা গুচ্ছ। তাছাড়া 'গুচ্ছ' দিলে 'কিছু' থাকাটা তো সংগত নয়। তবে এইসমস্ত দিকগুলি ভাবনায় রেখেও সার্বিকভাবে এই সৃজনমালা অভিনন্দনযোগ্য।
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতাণু— ধর্মফল
কবি— শ্রীময়ী চক্রবর্তী
পর্যালোচক— সাধন চন্দ্র
"গভীর বিস্তৃত নিস্তরঙ্গ নীরব একটা দিঘির দিকে টেনে নিয়ে যায় কিছু কিছু কবিতা। দিঘির নাম উপলব্ধি। দিঘি ডাকে— এসো বোসো ভেতরে সবচেয়ে ভেতরে ভরে নাও আমার বাতাস আমার শব্দহীন কথাদের।"
শুধু যে খাচ্ছে সে-ই দেখতে পাচ্ছে না
বিদায় লগ্ন
মধ্য গগনে বিদায় নেওয়া সহজ কথা নয়
রেখে আসি কিছু কবিতা গুচ্ছ
গভীরতা
সুগভীর অন্ধকারে
এরকম কিছু কবিতা নিয়ে কিছু কথা। চারটি দ্বিপদী।
শুধু যে খাচ্ছে সে-ই দেখতে পাচ্ছে না
সূর্যাস্ত দেখতে চায় না মন
মধ্য গগনে বিদায় নেওয়া সহজ কথা নয়
রেখে আসি কিছু কবিতা গুচ্ছ
সুগভীর অন্ধকারে
ধর্মফল, সূর্যাস্ত, কুলুঙ্গি, ভিত প্রভৃতি রূপক সার্থকভাবে ব্যবহত হয়ে রসগ্রাহী পাঠককে তৃপ্তি দেবে। শিরোনামও কবিতার ভাবানুগ হওয়ায় সার্থক। যতিচিহের প্রয়োগ নেই বলে এই তন্বী কবিতাগুলিকে দেখতেও বেশ ছিপছিপে সুন্দরী লাগছে।
তবে সমাসবদ্ধ পদগুলিকে আলাদা রাখাটা অসংগত ঠেকছে:
বিদার লগ্ন, মধ্য গগণে, কবিতা গুচ্ছ। তাছাড়া 'গুচ্ছ' দিলে 'কিছু' থাকাটা তো সংগত নয়। তবে এইসমস্ত দিকগুলি ভাবনায় রেখেও সার্বিকভাবে এই সৃজনমালা অভিনন্দনযোগ্য।

No comments:
Post a Comment