প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

মায়ের ভয়েস মেসেজ এবং জয়ন্ত | মুকাররাম হোসেন

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | গল্পাণু
মুকাররাম হোসেন
 
মায়ের ভয়েস মেসেজ এবং জয়ন্ত

"কাজের মাসি ঠিক করে এসেছি। বাবাকে দেখিস। নিজের যত্ন নিস। কদিন পরেই ফিরছি।’ জয়ন্ত কেবল মুখ তুলে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকাল।"

 
জয়ন্ত সবে ক্লাস টেনের ছাত্র। মাস ছয়েক আগে একটি দুর্ঘটনায় বাবাকে অকালে হারানোর পর সে রীতিমতো মনমরা। মায়ের চেয়ে বাবাই যে তাকে বেশি ভালবাসতেন। তাই বাবার মুখটা মনে পড়লে সে গাছের মতো নির্বাক  হয়ে যায়। অথচ বন্ধুরা বলত, জয়ন্ত, তুই বড্ড টকেটিভ। কথা কম বলবে ভাবত, পারত না। এখন মা তার একমাত্র অবলম্বন।
সেদিন রাতে মা'কে কিছু বলতে যায়। ঘরের দরজাটি একটু খুলে দেখে, মা পিছন ফিরে কারও সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলছেন। জয়ন্ত নিজের ঘরের আলো নেভায়। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তেই মা ঘরে ঢোকেন। আলো জ্বেলে একটু ঝাঁঝ নিয়ে জয়ন্তকে বললেন, ‘রাত দশটা না বাজতেই শুয়ে পড়লি? তোর দ্বারা কিস্যু হবে না জানি।’ জয়ন্ত সে রাতে চোখের জলে বালিশ ভিজিয়েছিল।
***
বহরমপুর স্কোয়ার ফিল্ডে হস্তশিল্পের মেলা বসেছে। স্কুল থেকে ফেরার সময় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ কেনে। মায়ের মান ভাঙাতে সারপ্রাইজ দেবে। দাদু কালচে মুখে চেয়ারে বসে। খুশিতে ডগমগ হয়ে বাড়িতে ঢুকেই ‘মা’ ডাক দেয়। জবাব এল না। রোজকার মতো টেবিল থেকে মুঠোফোনটি নিতেই দেখল, হোয়াটঅ্যাপে মা’য়ের ভয়েস মেসেজ– বাবাই, আমি এখন কৃষ্ণনগরে। একজন ডিভোর্সিকে বিয়ে করেছি। তার একটি মেয়েও আছে। তবে তিনি তোর সব দায়িত্ব নেবেন। কাজের মাসি ঠিক করে এসেছি। বাবাকে দেখিস। নিজের যত্ন নিস। কদিন পরেই ফিরছি।’ জয়ন্ত কেবল মুখ তুলে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকাল।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)