প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

কবিতা— একান্তই সবটা তোমাকে | কবি— নৃপেন চক্রবর্তী | পর্যালোচক— সাধন চন্দ্র

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— একান্তই সবটা তোমাকে
কবি— নৃপেন চক্রবর্তী
পর্যালোচক— সাধন চন্দ্র

"'নরম ঠোঁট', 'পাখির শরীরের মতো তোমার কোমল স্তন', 'নাভিতল ছুঁয়ে নেমে গেছে যে উপাসনা গৃহ'— এসব শরীরী অক্ষরবিগ্রহে সাহসিকতা ও নান্দনিকতার মনিকাঞ্চনযোগ ঘটেছে।"


 
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
ভালবাসি,
শুধু তোমাকেই নয়
তোমার শরীরী ছায়াও ভাল বাসি আমি!
পরিপূর্ণ ইচ্ছে খুশি নিয়ে
রক্তে মাংসে একান্তই সবটা তোমাকে।

তোমার ও দুটি চোখ, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।

তোমার নরম ঠোঁট, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।

পাখির শরীরের মতো
তোমার কোমল স্তন, সেও জানি
শুধু তোমাকেই নয়
তোমার শরীরী ছায়াও ভাল বাসি আমি!
পরিপূর্ণ ইচ্ছে খুশি নিয়ে
রক্তে মাংসে একান্তই সবটা তোমাকে।
তোমার ও দুটি চোখ, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।
তোমার নরম ঠোঁট, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।
পাখির শরীরের মতো
তোমার কোমল স্তন, সেও জানি  
একান্তই তোমার নিজের।
নাভিতল ছুঁয়ে নেমে গেছে যে উপাসনা গৃহ
সেও তো তোমার জানি,
একান্তই তোমার নিজের।
এত কিছু জেনেও তোমাকেই ভালবাসি আমি,
পরিপূর্ণ ইচ্ছে খুশি নিয়ে 
রক্তমাংসে একান্তই সবটা তোমাকে
 
 
দর্শনগভীরতা রয়েছে. বাকরূপে আরও একটু: পর্যালোচনায় কবিতা "একান্তই সবটা তোমাকে" 
 
...এই "অল ইনক্লুসিভ" অ্যাপ্রোচটা একটা স্বাক্ষর বহন করছে। তাই তো! আলো-কালো সব নিয়েই তোমাকে ভালবাসি। রক্তমাংসই শুধু নয়, এমনকি প্রধানও নয়, কিন্তু রক্তমাংস বাদ দিয়েও নয়।
এমনকি শরীর শুধু নয়, শরীরী ছায়াও:
"ভালবাসি,
শুধু তোমাকেই নয়
তোমার শরীরী ছায়াও ভাল বাসি আমি!
পরিপূর্ণ ইচ্ছে খুশি নিয়ে
রক্তে মাংসে একান্তই সবটা তোমাকে।"
 
কবিতার কথক চরিত্র এই উপলব্ধিও স্বীকার  করেছেন:
 
"তোমার ও দুটি চোখ, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।
 
তোমার নরম ঠোঁট, সে তো জানি
একান্তই তোমার নিজের।
 
পাখির শরীরের মতো
তোমার কোমল স্তন, সেও জানি 
একান্তই তোমার নিজের।
 
নাভিতল ছুঁয়ে নেমে গেছে যে উপাসনা গৃহ
সেও তো তোমার জানি,
একান্তই তোমার নিজের।"
 
এই যে "একান্তই তোমার নিজের"— অর্থাৎ ভালবাসার মিথষ্ক্রিয়াটি এখানে দানা বাঁধেনি, এই রতি কেবল একপাক্ষিক—এই ঘোষণাও অকুণ্ঠ। এই দ্বিধাহীনতাই ভালবাসাকে ওজোস্বিতার দ্যুতি দিয়েছে।
তার পরই আবার "এত কিছু জেনেও তোমাকেই ভালবাসি আমি"।
এই নিবেদন ভাবগত গভীরতা দিয়েছে কবিতাটিকে।
 
এবার আসি ভাষায়।
'নরম ঠোঁট', 'পাখির শরীরের মতো তোমার কোমল স্তন', 'নাভিতল ছুঁয়ে নেমে গেছে যে উপাসনা গৃহ'— এসব শরীরী অক্ষরবিগ্রহে সাহসিকতা ও নান্দনিকতার মনিকাঞ্চনযোগ ঘটেছে।
তবে ভাষার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়েই মনে পড়ে গেল সেই গানটার কথা যার প্রথম চরণ "ভালোবাসি বলে ভালোবাসি বলি না"। এআইকে জিজ্ঞাসা করতে বলল সলিল চৌধুরীর কথা ও সুর।
 
ভালবাসার মতো এই 'সর্বজনীন' আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধির গভীর এবং কোমল অথচ দৃঢ় বিষয়টিকে এত স্পষ্ট করে বলতে হবে কেন? অনুভূতি-উপলব্ধির ব্যাপারগুলিকে কবিতার অক্ষরদিঘিতে ডুব দিয়ে আবিষ্কারের একটা সুযোগ পাঠকের সামনে না থাকলে পাঠক যে ডুব দিয়ে রত্ন তুলে আনার আনন্দটুকু পাবে না। আর যে-সম্পর্কসম্পদ আড়ালের আদরের গভীরের অথচ সক্কলের যাপনে আকাঙ্ক্ষার সুতো দিয়ে চিকনের কাজ করা তাকে এত উচ্চারণে বা অক্ষরে প্রকাশ করা কেন?
 
তবে কবিতার শিরোনাম ভালো লেগেছে। ভাবানুগ। 'একান্তই' এবং 'সবটা' —এইদুটি শব্দ স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত করেছে শিরোনামকে।
আগামী প্রয়াসে অপেক্ষা জেগে থাকবে ওই অতৃপ্তিগুলির পূর্ণতার জন্য।
 

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)