বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
পুষ্প
সাঁতরা
ক্ষণিকের অতিথি
"আমি যে অপেক্ষায়— বর্ষা আসতে এখনও দেরি, তুমি নেমে এলে আমার গুপ্ত ঘরে রেখে মনের কামনা বাসনা সব উজাড় করে দেবো"
বাউন্ডুলে সম্পর্ক উড়ছিল শিমুল তুলোর মতো, তবে সে তুলোতে বালিশ কিংবা পাশবালিশ কোনটাই হয়নি। বসন্ত
বাতাসে বীজ উড়ছিল নিশ্চিত ঠিকানায়। বাতাস কেটে কেটে নীচে থিতু হতে পারছে না
কিছুতেই। তাকে নামতে যে হবেই! ফাটল, মাটি কেঁদে মরে,
-আমি যে
অপেক্ষায়— বর্ষা আসতে এখনও দেরি,
তুমি
নেমে এলে আমার গুপ্ত ঘরে রেখে মনের কামনা বাসনা সব উজাড় করে দেবো। নারদ বৃষ্টির
বাধা ভেঙে সেরে নেবো নিভৃত প্রেমালাপ! নীরব ভালবাসায় ক্ষণিকের অতিথি হয়ে আমার
কাছে এসো— শুনতে পেয়েছ— বন্ধু?
-মনমাটিসই বঁধু ক্ষণিকের দেখা তবু তোমারে ভুলিতে পারে না
আঁখি—
অঘোষিত কার্ফু চলছে কাটাকুটির
খেলা! বীজ আর মাটির অন্তর্লীন প্রেমালাপ! ক্ষণিক তবুও আশ্রয় প্রশ্রয়ে অনেক
চেনাজানা।
-আমি মাটির
ফাটলকে আরও চওড়া করছি, তোমার তুলোর নরম রোঁয়াটুকু ছুঁইয়ে
দাও। বাতাসের আছাড়িপিছাড়ি, সেই ফাঁকে টুক করে ফাটল মাটির বুকে।
-আমি রসবতী হলে, তোমার সত্তা তখন উধাও! যতক্ষণ সজীব, ততক্ষণই ক্ষণিকের অতিথি হয়ে থাকো, এ চাওয়ার মধ্যে পাওয়ার আত্মতৃপ্তির মোহ আর মধুময়তা! তারপর
তুমি হবে বৃক্ষ, আমার ধরাছোঁয়ার
বাইরে, আমার রক্তরস শুষে ডালপালা
ছড়িয়ে তুমি উর্দ্ধমুখী! অঙ্কুরোদ্গমের সময়টুকু মণিকাঞ্চন, তুমি বন্ধু বা আত্মজ হও, তুমি আমার মাটির ঘরের অতিথি, সেবা করাই মাটির
ধর্ম!
~~000~~

No comments:
Post a Comment