বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
সুপ্রিয়
খাসনবিশ
শেষ
স্টেশন
"একটা ব্যাগ পড়ে থাকল পাশে, হয়তো ঠিকানা আছে তাতে, কিন্তু ভদ্রলোকের শেষ স্টেশনে পৌঁছানো হল না। অনিন্দিতা স্থাণুবৎ দাঁড়িয়েই রইল, ট্রেন ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল।"
রাতের শেষ ট্রেন দৌড়াতে
দৌড়াতে কোনক্রমে চেপে বসল অনিন্দিতা,
শেষ
কামরায় লোকজন কম একবার চোখ বুলিয়ে দেখল। বাবার হঠাৎ অসুস্থতার খবর পেয়ে এই
রাতেই বাড়ি ফিরছে, এক একটা স্টেশনে
ট্রেন থামছে আর অনিন্দিতার টেনশন বাড়ছে। দ্রুত গতির ট্রেনের কামরায় একবার করে
আলো এসে পড়ছে আবার অন্ধকার নেমে আসছে,
লোকগুলো
কেমন নিশ্চল বসে আছে, কেউ কেউ ঘুমে ঢলে
পড়ছে, শুধু অনিন্দিতা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। স্টেশন আসছে আর এক এক করে
লোক নেমে যাচ্ছে, ও যাবে শেষ স্টেশন।
এক সময় কামরায় একমাত্র মানুষ সে, ভয়ে ভাবনায় গলা
শুষ্ক, এমন সময় ঝমঝম করে বৃষ্টি
নামল, রাত্রি এগারোটা, একটা স্টেশনে
ট্রেন থামলে একজন মধ্যবয়সি লোক উঠে এল, অনিন্দিতা সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে দেখল লোকটা ভিজে একশা, থরথর করে কাঁপছে,
দশ
মিনিট অতিবাহিত হয়েছে। গন্তব্যের স্টেশনে এবার নামবে গুছিয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াতে
যাবে দেখল লোকটা গড়িয়ে পড়ল সিটে,
কাছে
গিয়ে বুঝল সব শেষ। একটা ব্যাগ পড়ে থাকল পাশে, হয়তো ঠিকানা আছে তাতে, কিন্তু ভদ্রলোকের শেষ
স্টেশনে পৌঁছানো হল না। অনিন্দিতা স্থাণুবৎ দাঁড়িয়েই রইল, ট্রেন ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল।
~~000~~

No comments:
Post a Comment