বাতায়ন/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৪৫তম সংখ্যা/২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ ছয়
"আমিও পরের বৌকে লাইন মারব। নিজে বিয়ে না করেও চুটিয়ে ফুর্তি করব অথচ কোন রিস্ক নেই। বাচ্চা এলে বউদি স্বামীর নামে চালিয়ে দেবে। তুই পারবি না কিন্তু।"
চপ-মুড়ি খেতে
খেতেই গল্প করছিলাম। বেশ মজায় ছিলাম। হঠাৎই মিষ্টির মোবাইল বেজে উঠল। মিষ্টি
মোবাইল তুলে,
-হ্যাঁ মা বল,
বলতে বলতে বারান্দার দিকে
এগিয়ে গেল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। ছিলাম গল্পে মশগুল ওর বেরসিক মা দিল সব থামিয়ে। শাশুড়ি সব এক।
শ্বশুরবাড়ি থেকে রিমোর্টে জামাইয়ের সংসারে মাতব্বরি চালানো। মেয়েকে এত ভালবাসে যে
তার সংসার যে ভেঙে যাবে সেটুকু সামান্য বুদ্ধিও তাদের নেই। যা হোক কিছুই করার নেই।
বারান্দায় গেলে ভাল কথা শোনা যায়। এখন সিম কোম্পানিগুলির অবস্থা এমনই বেশি টাকা
নিয়ে অসুবিধা বেশি দেয়। আধা ঘন্টা কেটে গেল মিষ্টির ফিরে আসতে। মন ভেঙে গেল,
-তোমার মার এত কী কথা থাকে গো?
-ওসব তুমি বুঝবে না। মেয়ে হলে কত ঝামেলা পোয়াতে হয়। ছাড়ো আমি
দেখি রান্নাঘরে যাই।
আমি একটু আদর করবো ভাবলাম
কিন্তু মন খারাপ হয়ে গেল। ও ওর কাজে ব্যস্ত হল। আমি ফোনে বন্ধুদের সাথে গল্প শুরু
করলাম। নানান আড্ডায় মত্ত হলাম।
উজ্জ্বলকে ফোন করলাম
-হ্যালো, কী রে খবর কী তোর?
-হ্যাঁ এই তো চলছে। খবর তো বাদশার রে...
-কেন রে, ওর কী হয়েছে?
-ওর পোয়া বারো! ল্যাজ গজিয়েছে যে...
-আরে বদমাস খুলেই বল না।
-একটা পরের কচি বউকে তুলেছে। তুই আকাশকে ফোন কর ও ভাল জানে।
ফোন কেটেই আকাশকে মোবাইল
করলাম,
-আরে করিস কী, আগে বল পরকীয়ার গল্প।
-ওহো! তুই জেনে গেছিস? বাদশা পরের বউ মানে বউদির সাথে খেলা করছে।
-সে কী বলছিস রে?
-হ্যাঁ। ঠিক তাই। আমি বউটাকে দেখেওছি। বেশ সুন্দর।
আমি হেসে কেঁদে আকাশের সাথে
মজা করলাম। আকাশ লাফাচ্ছে আনন্দে,
-আমিও পরের বৌকে লাইন মারব। নিজে বিয়ে না করেও চুটিয়ে ফুর্তি
করব অথচ কোন রিস্ক নেই। বাচ্চা এলে বউদি স্বামীর নামে চালিয়ে দেবে। তুই পারবি না
কিন্তু। বোকা-হাঁদার মতো বিয়ে করে পার্মানেন্ট ঝামেলা ঘরে এনে
তুললি!
আমি সত্যি বোকা কিনা জানি না
কিন্তু সৎ সতী সাবিত্রীর মতো মিষ্টি বউ পেয়েছি তো। সেটাই বা কজনে পায়?
আমি লাকি, আমি সুখী!
~~000~~

No comments:
Post a Comment