বাতায়ন/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৪৬তম সংখ্যা/৬ই চৈত্র, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ সাত
"আমায় ও কতবার বলেছে আমায় ছাড়া ও থাকতে পারে না। আমার জন্য ও প্রাণও দিয়ে দিতে পারবে। একবার মিষ্টির সাথে কথা বলতে মন চাইছে। আমার সোনা, মোবাইল টিপে দিলাম, মোবাইল বেজে গেল। ও বোধহয় টয়লেটে গ্যাছে।"
মিষ্টিকে আদর করে অফিস বের
হলাম। রাস্তায় বাদশার সাথে দেখা। উহ্ বাপ্ কী ফাটাফাটি
ড্রেস মেরেছে। ঝিকঝাক করছে। আমি একেবারে অবাক চোখে ওকে দেখছি। বাদশা দাঁত কেলিয়ে
দিল,
-তোকে...
-আবে দ্যাখ ভাল করে। নিজে তো চাকরি, বিয়ে সব করেও, কিছু করতে পারলি না।
আর দ্যাখ আমি কিছুই না করে স্রেফ পরের বৌকে লাইন মেরে সব কেমন বাগিয়ে নিচ্ছি। ও
আমায় ওর সব দিচ্ছে। ভাব কেমন ব্যাপার।
-পরের বৌকে তুললি কী করে? ওর স্বামী নেই?
-বললে তোর বৌকে তুলে দেখিয়ে দিতে পারি। দেখবি?
প্রসঙ্গ খারাপ পথে যাচ্ছে।
আমি এড়িয়ে অফিসের বাহানায় এগিয়ে গেলাম।
মন খারাপ হয়ে গেল। কী জানি কোন
ঘরের বৌকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিজের শখ মেটাচ্ছে? সমাজে এটা নোংরা হয়ে গেল? বউটাই বা কেমন? স্বামীকে বোকা বানাচ্ছে নিশ্চিত। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে
হল। মিষ্টি কত ভাল। আমায় কত ভালবাসে। আমায় ও কতবার বলেছে আমায় ছাড়া ও থাকতে পারে
না। আমার জন্য ও প্রাণও দিয়ে দিতে পারবে। একবার মিষ্টির সাথে কথা বলতে মন চাইছে।
আমার সোনা, মোবাইল টিপে দিলাম, মোবাইল বেজে গেল। ও বোধহয় টয়লেটে গ্যাছে। দশ মিনিট পর আবার
করলাম। না এবারও বেজে গেল। কী হল? চিন্তায় পরে গেলাম। আবার
করতে মা ধরল,
-হ্যাঁ বল, মিষ্টি নেই তো। কী বলবি? ও কখন আসবে বলে যায়নি। কিছু বলতে হবে?
- কোথায় গেছে? কখন আসবে?
-আমায় কিছু বলেনি। রোজই তো যায়। আমাকে কিছু বলে না, বলে আপনার ছেলে সব জানে! তুই বেরিয়ে গেলে যায়। ঘন্টা তিনেক
পর বাড়ি ফেরে তারপর স্নান করে।
-আচ্ছা ঠিক আছে। রাখো এখন। বুঝেছি আমিই বলেছিলেম যেতে।
নিকুচি করেছে কাজ। টেবিলে চুপ
করে বসে রইলাম। ব্যাপার কী? মিষ্টি রোজ যায় আর আমিই নাকি
ওকে যেতে বলেছি? মিষ্টি ভাল মেয়ে।
নিশ্চয়ই কোথাও গণ্ডগোল হচ্ছে। ভুলভাল হচ্ছে। মাথা ঠান্ডা
রেখে এগোলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। নিজেই নিজেকে বোঝাচ্ছি। তবুও মন
খোঁচখোঁচ করছে। ছটপট করছি। বিষয়টি নিয়ে আমাকে পর্যালোচনা করতে হবে। এত মোবাইলে
ব্যস্ত কেন মিষ্টি? সবসময় ফোন আসে হয় মা
নয় অন্য কেউ? কী এমন কথা যে বলেই চলেছে। আবার
আমাকে সেদিন বলল ওসব মেয়েদের জ্বালা-দুঃখের কথা তোমরা বুঝবে না। বাহ্ আমরা বুঝব না? বিশ্বাস অনেক হল এবার
নজর দিতেই হবে। নচেৎ সময় হাতের বাইরে চলে যাবে। তখন আফসোসের শেষ থাকবে না। আজ
থেকেই বুদ্ধি অ্যাপ্লাই করতে হবে।
আপনারা কেউ কি গেজ করতে
পারলেন? প্লিজ হেল্প মি...
~~000~~

No comments:
Post a Comment