প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Sunday, March 8, 2026

দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ ধারাবাহিক রম্যঃ আট | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/১৩ই চৈত্র, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক রম্যঃ আট

"মুখে চোখে ওড়না ঢেকে একটা মেয়ে মাঠে প্রবেশ করেই সোজা বাদশার হাত ধরে নিয়ে অনেক কথা বলতে বলতে মাঠের জঙ্গল পেরিয়ে আরও গহনে হারিয়ে গেল।"

 
অফিসে যাওয়ার নামে বেরোতে যাওয়ার সময় মিষ্টি এসে গায়ের মধ্যে ঢলে ওর সোহাগ-আদর আমাকে উপহার দিল। আমিও ওকে ধরে আদর খেয়ে নিলাম। প্রেম নিবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেল সে সময়ে।
হঠাৎ মিষ্টি আমায় ঠেলে সরিয়ে দিল বললে,
-খুব হয়েছে এবার তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়ো নচেৎ লেট খাবে।
আমিও মুচকি হেসে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একমিনিট দম নিয়েই ছুটে বাইরে বেরিয়ে এলাম। এবার কী করব যেন? হ্যাঁ মনে পড়েছে দেখছি, পাশের পার্কের কোথাও লুকাতে হবে নিশ্চয়ই। বড় গাছ লাগানো স্তম্ভর পাশে নিজেকে চোরের মতোই লুকোলাম। অফিসের আজ ষষ্ঠী পুজো!
আধঘন্টা দাঁড়িয়ে। যদি কিছু পাই। ভুল হচ্ছে না তো, অথবা ভুল হতেও পারে। কপালের নাম গোপাল। দেখি মোবাইল কানে নিয়ে কারোর সাথে কথা বলতে বলতে মাঠে ঢুকল বাদশা। শেষ প্রান্তে জঙ্গলের ধারে গিয়ে তার অপেক্ষা। মুখে চোখে ওড়না ঢেকে একটা মেয়ে মাঠে প্রবেশ করেই সোজা বাদশার হাত ধরে নিয়ে অনেক কথা বলতে বলতে মাঠের জঙ্গল পেরিয়ে আরও গহনে হারিয়ে গেল। আমার বুঝতে সময় লাগেনি মেয়েটি আর কেউ নয় একেবারের আমার মিষ্টি।
বুক ধড়াস করে উঠল। সে কী রে? কী হল? একটা মিনিট চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে হল মাথা ঘুরছে। বেঞ্চে বসে পড়লাম নচেৎ পড়ে যাব তাই। এখন কী করি? দৌড়ে গিয়ে কি মিষ্টিকে টেনে নিয়ে আসব? কিন্তু তাতে কী হবে? ও তো ওর ইচ্ছানুসারে সব করে চলেছে। এ তো আর আজ প্রথম নয়। অনেকদিন ধরেই বাদশার এই পরকীয়া প্রেম চলছে বলেই শুনেছি। মিষ্টিও বাদশার সাথেই আছে। আমাকে বোকা বানাচ্ছে। সন্দেহ হয়নি আগে। কারণ মিষ্টিকে ভাল মেয়ে ভেবেছি, আবার সে আমার বউ। দেহ আর মন সুন্দর ভেবেই মিষ্টি নাম পছন্দের ছিল। এখন দেখছি বাইরেই সৌন্দর্য কিন্তু ভিতরে নোংরা আবর্জনা। ওকে কত ভালবাসতাম। কত বিশ্বাস করতাম। আর আজ সব মাটিতে মিশে গেল আমার সেই অহংকার। এক পাহাড় জল! যা কোনদিন ভাবিনি, যা কোনভাবেই মনে আসেনি আজ সেটাই ঘটে গেল। হঠাৎ যেন সব ঘটে গেল।
সব পুরানো কথা মনে এল। মন ভেঙে গেল। চারিধারে যুগলে বসে এই দিনদুপুরে প্রেম করছে। কে কার মেয়ে, কে কার বউ, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দুজনায় দুজনের প্রেমে মত্ত। আলো আছে তাই নাহলে মনে হয়ে আরও ঘনিষ্ট হয়ে দেওয়া-নেওয়ার পালা এখানেই সেরে তবে বাড়ি ফিরত। যেটা সন্ধ্যা হলেই শুরু হয়ে যায়। মিষ্টিও এরকম অনেক আনন্দ নিয়েছে আবার দিয়েছেও। বাদশা ওকে ভালই ব্যবহার করে নিয়েছে। বিনা পয়সা খরচে পরের বৌকে সোহাগ দেওয়া বড় কম বুদ্ধিমানের কাজ নয়? পরকীয়া আজ তাই এত জনপ্রিয়। বৌদেরও নিজের স্বামীর স্বাদ বদল হচ্ছে। আবার কিছু ভাল আয়ের পথও খুলে যাচ্ছে এই ব্যবস্থায়। কপাল খুলে দেয় পরকীয়া। আমি সেকেলে ভালবাসায় হনুমানবাড়ি ফিরতে ইচ্ছে হল না। মাকে ফিরে কী বলব?
 
~~000~~

1 comment:

  1. ধন্যবাদান্তে জানাই খুব কমজন এখানে মন্তব্য প্রকাশ করে।

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)