বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| পর্যালোচনা
কবিতা— জন্মদিন
কবি— অরূপ
পর্যালোচক— প্রদীপ সরকার
"পাখির পাখার ভূগোল নয়, লুকানো প্রযুক্তি বা পাখির উড়ানের প্রকৌশল বোঝা সহজ নয়। পাখির পাখার ভূগোলটা বোঝা আদৌ জটিল কি?"
[কবির নাম না-জেনে
শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
বাঘনখ খুঁচিয়ে আলগা করে শরীর
থেকে আত্মা,
কে এক জীবাশ্ম প্রেমিক!
জড়িয়ে থাকে শিলাজন্ম
বেসিনের অনবরত জলের ফোঁটায়
ধুয়ে যায় গত জন্মের পাপ।
জিভের উপর ঝুলে থাকে অব্যয়;
হাতের রেখায় লেগে থাকে
প্রাচীন জ্যামিতি
পাখির পাখার ভূগোল বোঝা
মস্তিষ্কের অসাধ্য।
আমার চোখে ব্রেইলের
ক্ষতবিক্ষত সংকেত,
আমরা যাকে জীবন বলি আসলে তা
ডিসটোপিয়া
দুঃসাহসী শব্দ ব্যবহার বলতে
একটা সময় রগরগে যৌনতা এবং / বা রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে নির্মম কষাঘাত সূচক
শব্দবন্ধদের বোঝাত, আজকাল দুঃসাহসী
শব্দবন্ধ বলতে নিজের একার একান্ত অভিধানে অকস্মাৎ ঢুকে পরা শব্দবন্ধেরাও পরে কি?
উপমান উপমেয় স্বতঃসিদ্ধের
মতো সরল, সর্বজনবোধ্য বা গরিষ্ঠ
মানুষের জানা প্রসঙ্গ থেকে নিতে হয়, হওয়া উচিত। খুনি বা
ঘাতক কি 'জীবাশ্ম প্রেমিক' এর সমার্থক শব্দ ব'লে মেনে নেওয়া যাবে? শিলাজন্ম আর বেসিন সম্পর্কে দূরের আত্মীয়। বেসিন নির্মাণের
প্রস্তর যুগ ইতিহাসে মুখ লুকিয়েছে সেই কবে। এখন সিরামিক, ফাইবার, ফ্লোটগ্লাস বেসিনের
বেসিক মেটেরিয়াল, শিলা বা পাথর নয়।
পাখির পাখার ভূগোল নয়, লুকানো প্রযুক্তি বা পাখির উড়ানের প্রকৌশল বোঝা সহজ নয়।
পাখির পাখার ভূগোলটা বোঝা আদৌ জটিল কি?
শব্দের উৎসগত বা প্রায়োগিক
বাস্তবতার বিচার বাদ দিলে আট পংক্তির কবিতাটি একটি প্যাসিমিস্টিক ভাবনার প্রকাশ।
জীবনকে কুৎসিত বা ভয়ঙ্কর স্বপ্নের দেশ (ডিসটোপিয়াঁ/Dystopian) হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে কবি
তার দেখাকে "ব্রেইল লিপির ক্ষতবিক্ষত সংকেত" বলে উল্লেখ করেছেন সেটিও
দুর্বল ভাবনার ফসল। চর্মচক্ষু দিয়ে জীবনকে দেখা এমনিতেই ভ্রম সৃষ্টি ক'রে। জীবনকে দেখতে হয় অনুভবের আয়নায়, মন্থনে, চর্মচক্ষু হ'লে অন্যের চোখ দিয়ে। সে ক্ষেত্রে লিপির ভঙ্গুর দশা বা জাত /
ভাষা / ক্যালিওগ্রাফি কোনোটাই চশমা নয়।
আধুনিক দুর্বোধ্য কবিতা
নির্মাণের চেষ্টা সাধ আর সাধ্যের মধ্যবর্তী খাদে আত্মহত্যা করেছে।
No comments:
Post a Comment