বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন
সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা
| গল্পাণু
অলক
চক্রবর্তী
মিষ্টুর
বুদ্ধি
"লোকনাথ বললেন, “ঠিক আছে, এবার তোর কথায় ফিরে যাচ্ছি। আবার খামোখা ঝগড়া করলে বিবাগী হয়ে যে দিকে দু’চোখ যায় চলে যাব; বলে দিবি তোর মাকে।”
স্ত্রীয়ের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া
করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন লোকনাথ। হনহন করে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছেন বাস
স্টপেজের দিকে। সন্ধ্যা হয় হয়। ধানজমির মাঝখান দিয়ে মোরাম রাস্তা। রাগে তাঁর মাথা
বনবন করে ঘুরছে।
হঠাৎ দেখেন স্ত্রীয়ের পোষা
বিড়াল, মিষ্টু, তাঁর পায়ের সামনে! রাগের মাথায় দিলেন এক লাথি। মিষ্টু গিয়ে
পড়ল ধান জমিতে। ভিজে গেল। তবু সে উঠে এসে পথ আটকে দাঁড়াল। এবার লোকনাথ লাথি না
মেরে মুখে বকা দিলেন, “যা ভাগ!” মিষ্টু মুখ
তুলে, “মিউ মিউ” শব্দে কিছু বলতে
চাইল। লোকনাথ বললেন, “কিছুতেই ঘরে যাব না।
তোর মা এসে পায়ে ধরে সাধলেও না।”
মিষ্টু আবার “মিউ-মিউ” করে
কোলে উঠতে চাইছে। লোকনাথ এবার গলা নামিয়ে বললেন, “তুই আমাকে ভালবাসিস, মিষ্টু?” মিষ্টু আরও নরম সুরে “মিউ-মিউ” ডেকে তাকিয়ে থাকল।
লোকনাথের হঠাৎ খেয়াল হল, টাকা নিতে ভুলে গেছেন। আবার ভাবলেন, “মোবাইল থেকে ডিজিটাল পে করে চালিয়ে নেব।” তার পর পকেটে হাত
দিয়ে আঁতকে উঠলেন, “আরে, রাগের মাথায় ফোনটাই তো নেওয়া হয়নি!”
মিষ্টু করুণ চোখে তাকিয়ে আছে।
লোকনাথ বললেন, “ঠিক আছে, এবার তোর কথায় ফিরে যাচ্ছি। আবার খামোখা ঝগড়া করলে বিবাগী
হয়ে যে দিকে দু’চোখ যায় চলে যাব; বলে দিবি তোর মাকে।”
বলা শেষ করে মিষ্টুকে কোলে তুলে বাড়ির দিকে জোর হাঁটা দিলেন লোকনাথ। অন্ধকার বাড়ছে, তবু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন রাস্তা।
~~000~~
No comments:
Post a Comment