প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

জল শহিদ | অভীক মুখার্জী

বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন সংখ্যা/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | ছোটগল্প
অভীক মুখার্জী
 
জল শহিদ

"অনেক রাতে রতনের  ঘুমটা ভেঙে গেল তার ঘরের অ্যাসবেস্টসের চালে বৃষ্টির আওয়াজে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। যা বৃষ্টি হবার বাবা এই রাতেই হয়ে যা! দিনের বেলা না হলেই হল।"

 
একটু বেশি রাতে ফিরে অঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছিল রতন। গত কয়েকদিন একটু বেশিই রাত হচ্ছে তার ফিরতে। স্বাভাবিক। মহালয়া থেকেই আজকাল লোকজন বেরিয়ে পড়ছে ঠাকুর দেখতে। লোক যত বেরোয় তত ভাল। রতনের ছোট্ট পান-সিগারেটের দোকানের ঠিক পেছনের পার্কে শহরের অন্যতম নামকরা বারোয়ারী। তার দোকান ঠিক সেই পুজো দেখে বেরোনোর রাস্তায়। ঠাকুর দেখার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত দর্শনার্থীদের ভিড় জমে তার দোকানে, জল, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চিপস, সিগারেট, পান। রতনের নিঃশ্বাস ফেলার সময় থাকে না এইকটা দিন। একা হাতে সামলাতে পারে না, তাই ছেলেটাও হাত লাগায় এসে। ষষ্ঠী থেকে দশমী বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভোরের আলো ফুটে যায়। ওই সময়টায় রতনের বৌ শ্যামলী দুবেলা দোকানেই খাবার নিয়ে আসে বাপ-ব্যাটার জন্য।
এবারে পুজোর একশো বছর, বিরাট বাজেট, থিমে চমক, মহালয়ার দিন উদ্বোধন হওয়া ইস্তক ভিড় শুরু হয়ে গেছে। আশায় বুক বেঁধেছে রতন। এ বছর এখনই যা ভিড় তাতে পুজোর দিনগুলো কেমন যাবে আন্দাজ করা যায়। এবার সে আইসক্রিমও তুলেছে অনেক আশা নিয়ে। এই তো সন্ধেবেলা কোম্পানির গাড়ি এসে নামিয়ে দিয়ে গেল ফ্রিজার, কাল সকালে মালও চলে আসবে, বলে গেছে। জলের কোম্পানিও এরই মধ্যে  দিয়ে গেছে প্রায় ৫০০ বোতল জল, ছোট বড় মিলিয়ে, কোল্ডড্রিঙ্কস তো আছেই। থার্মোকলের বাক্সে ভরে সব সাজিয়ে রাখাও হয়ে গেছে তার দোকানের তলায়। রতনের দোকান ছোট্ট, কাঠের অস্থায়ী গুমটি দোকান যেমন হয়। তাই দোকানের অনেক জিনিসপত্র, আইসক্রিমের ফ্রিজার, কোল্ডড্রিঙ্কসের ফ্রিজ, সবই রাখতে হয়েছে দোকানের পাশের গাছতলায় ফুটপাথের ওপরেই। চুরি ডাকাতির ভয় অবশ্য নেই, লোকাল সিন্ডিকেটে নিয়মিত পয়সা দেয়, পাহারা থাকে সারা রাত।
যত পরিশ্রমই হোক না কেন, রতন তাকিয়ে থাকে এই সময়টার জন্যই। বছরের বাকি সময়ে তার যা বিক্রিবাটা হয় তার দ্বিগুণেরও বেশি হয় এই কটা দিনে। তাই...
গত সন্ধেবেলা যখন ফ্রিজ দিতে এল তখন থেকেই কেমন যেন গুমোট করছিল আবহাওয়াটা। টিভিতে নাকি বলছে এবার পুজোতে বৃষ্টি হবে। এবারে একেই তো বৃষ্টি বেশি হচ্ছে তায় পুজো সেপ্টেম্বরে। রতন মনে মনে ঠাকুরকে ডাকছে, পুজোর কটা দিন যেন অন্তত বৃষ্টি না হয়।
অনেক রাতে রতনের  ঘুমটা ভেঙে গেল তার ঘরের অ্যাসবেস্টসের চালে বৃষ্টির আওয়াজে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। যা বৃষ্টি হবার বাবা এই রাতেই হয়ে যা! দিনের বেলা না হলেই হল। আবার পাশ ফিরে শোয় রতন। এবার কতক্ষণ ঘুমিয়েছিল খেয়াল নেই, রতনের ঘুম ভাঙে বৌয়ের ঠেলায়,
-তাড়াতাড়ি ওঠো, ঘরে জল ঢুকছে...
বৌয়ের কথাটা বুঝতে কয়েক মিনিট সময় লাগল রতনের। ঘরে জল ঢুকছে মানে! অ্যাসবেস্টসের চালে বৃষ্টির প্রবল আওয়াজে যেন সম্বিত ফেরে তার। ঘরে জল ঢুকছে মানে ভয়ঙ্কর বৃষ্টি হচ্ছে, তাদের এই এলাকাটা যথেষ্ট উঁচু, গত দশ বছরে একদিনও জল দাঁড়ায়নি। তাড়াহুড়ো করে খাট থেকে নামে রতন। মেঝেতে গোড়ালি সমান জল। হাতড়ে হাতড়ে সুইচ বোর্ড পর্যন্ত গিয়ে ঘরের আলো জ্বালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বৃথা চেষ্টা, মনে হয় কারেন্ট নেই বিরক্তিতে মনটা ভরে যায় রতনের। সুইচ বোর্ডের পাশের কুলুঙ্গিতে একটা মোমবাতি রাখা থাকে, কোনরকমে সেটাই জ্বালায় রতন। বৌ-ছেলে ইতিমধ্যে খাটের তলার জিনিস বের করে উঁচু জায়গায় রাখছে। জানলা খোলা মাত্র চমকে ওঠে রতন। তার দরজার সামনের গলিটা বৃষ্টির দাপটে ঝাপসা, মেন রাস্তার আলোতে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে পুরো নদী হয়ে গেছে।
হাওড়ার বাল্টিকুরির গ্রাম থেকে এখানে এসে রতন বাসা বেঁধেছে তা কিছু নাহলেও প্রায় তিরিশ বছর তো হবেই। প্রথমে চিটে বেড়ার ঘর থেকে একটু একটু করে পাকা দেওয়াল আর মাথায় অ্যাসবেস্টসের চাল। যে গলিটার শেষ প্রান্তে তার এই ছোট্ট ঘর সেই গলিটারই একদম মুখে মেন রাস্তার মোড়ে তার দোকান।
এবার রতনের মাথায় আসে তার দোকানের কথা। ঘরে জল ঢুকছে মানে তো তার দোকানও ভেসে গেছে এতক্ষণে। জায়গা অকুলান, তাই অনেক মালপত্র রাখা আছে গুমটি ঘরের তলায়। গত সন্ধেবেলাতেই ডিস্ট্রিবিউটরের লোক কয়েক হাজার টাকার সিগারেট দিয়ে গেছে, প্যাকেটগুলো ভিজে গেলে...। সারা গায়ে একটা ঠান্ডা শিহরণ বয়ে যায় রতনের।
এর মধ্যে বৃষ্টির দাপট আরো বেড়েছে, তার সঙ্গে দোসর হয়েছে দমকা হাওয়া। ঘরের মধ্যে জল হাঁটু ছুঁইছুঁই। রতন আর থাকতে পারে না, দোকানটা একবার দেখা ভীষণ দরকার, যদি কিছু মালপত্র বাঁচানো যায়। এইভাবে চললে একদম পথে বসে যাবে রতন, হাজার হাজার টাকার মাল তার। কিন্তু বাইরে বেরোবে কী করে? আকাশ যেন ভেঙে পড়েছে। তার এই পঞ্চান্ন বছরের জীবনে এই রকম ভয়ানক বৃষ্টি সে দেখেনি। রাস্তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘরের মধ্যেও বাড়ছে জল, এরই মধ্যে হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্র সব ভেসে বেড়াচ্ছে ইতিউতি। আর একটু জল বাড়লেই খাটটাও ডুবে যাবে। অনেক দিন টাকা জমিয়ে একটা ফ্রিজ কিনেছিল গতবছর পূজোর পর, সেটাও এখন আদ্দেক জলের তলায়। বৌ ছেলে নিয়ে খাটের ওপর বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। খাটের লাগোয়া জানলার গরাদে মাথা ঠেকিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় বসে থাকে রতন।
বেশ অনেক্ষণ পরে, বৃষ্টির তোড়টা একটু কমল, আকাশের রংটাও একটু ফিকে হল যেন, ভোর হচ্ছে। মোবাইলে সময় দেখে রতন, সকাল পাঁচটা। অন্যদিন পাঁচটার সময় দিনের আলো পরিস্কার হয়ে যায়, আর আজ! রতনের মন আনচান করছে দোকানের জন্য। গতরাতে বাড়ি ফেরার সময় আইসক্রিমের নতুন ফ্রিজারটা দোকানের সঙ্গে  ভাল করে বেঁধে রেখে এসেছিল, ওটায় জল ঢুকবে না নিশ্চয়ই। মেন রোডটা তাদের বাড়ির থেকে বেশ কিছুটা উঁচুতে, সেখানেও জল জমবে না আশা করা যায়। এরই মধ্যে পাশের বাড়িগুলোয় লোকজন উঠে পড়েছে, সামনের বাড়ির বসন্ত দরজা খুলে বেরিয়ে এল বাইরে। বসন্ত সকালে বাড়ি বাড়ি কাগজ দেয় আর। বসন্ত ছেলেটা বেশ লম্বা, কিন্তু আজ ওরও হাঁটুর ওপর জল, ওর সাইকেলটাও ডুবে গেছে অর্ধেকেরও বেশি
বসন্তকে বেরোতে দেখে রতন আর বসে থাকতে পারে না। তার মনটা আনচান করতে থাকে, দোকানটা কী অবস্থায় রয়েছে কে জানে! রতন বেঁটেখাটো মানুষ, ঘরের মধ্যেই জল তার হাঁটু ছাড়িয়েছে, বাইরে আরও বেশি হবে। বৌ-ছেলে রে রে করে ওঠে, কিছুতেই বাইরে যেতে দেবে না তারা রতনকে। এদিকে রতনও মরিয়া, চ্যাঁচামেচি জুড়ে দেয় সে। বাইরেটা দিনের আলোয় পরিস্কার হয়ে গেলেও ঘরে তখনও জমাট বাঁধা অন্ধকার, একটা মোমবাতির আলোয় সে অন্ধকার কাটার নয়।
দোকানের চাবি সাধারণত একটা ব্যাগে রাখে রতন, আর প্রতিদিন বাড়ি ফিরে সেই ব্যাগটা রাখে ঘরের কোণায় রাখা একটা ট্রাঙ্কের ওপর। গত প্রায় বছর পাঁচেক ধরে রাখছে, কোন ব্যতিক্রম নেই। সেই ট্রাঙ্কটা এখন জলের তলায়, আর এক চোট ঝটকা লাগে রতনের। ওই ট্রাঙ্কটা তার বাবা-মায়ের শেষ স্মৃতিগুলো রাখা, মায়ের কয়েকটা শাড়ি, বাবার কয়েকটা গায়ের চাদর। পুরনো দিনের ট্রাঙ্ক, ভেতরে জল ঢোকা উচিত নয়, কিন্তু ঢুকলে পুরো শেষ। কিন্তু সেটার থেকেও রতনের বেশি চিন্তা এখন তার ব্যাগটা। শুধু কি চাবি! ব্যাগের মধ্যে বেশ কিছু টাকাও আছে। মহাজনকে দেওয়ার টাকা ওই ব্যাগেই রাখে রতন, কিছু না হলেও, হাজার পাঁচেক তো আছেই। মাথায় হাত পড়ে যায় রতনের। পাগলের মতো জলের মধ্যেই হাতড়ে হাতড়ে খুঁজতে থাকে ব্যাগটাকে। ব্যাগের মধ্যে চাবির তোড়া আছে, জলে ভেসে যাবার কথা নয়, তাই ট্রাঙ্কের আশেপাশেই খুঁজতে থাকে। বেশ খানিক্ষণ হাতড়াবার পর হঠাৎই হাতে ঠেকে ব্যাগটা। ট্রাঙ্কটা বসানো থাকে যে ছোট্ট কাঠের টুলটার ওপর সেটার তলায়। কোন রকমে ব্যাগটা তুলে চেন খুলতেই এক রাশ জল বেরিয়ে আসে, ভেতরের নোটগুলো ভিজে তুস। কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে করে রতনের। আজই মহাজনের লোক আসবে কালেকশানে। এ কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছে সে!
রতন এমনিতে খুব ঠান্ডা মাথার লোক, তাই নিজেকে সামলে নিতে বেশি সময় লাগে না তার। ভেজা নোট শুকিয়ে যাবে, বেশি অসুবিধে হলে ব্যাঙ্কের বাবুদের বলবে গিয়ে। ব্যাঙ্কের সব কর্মচারীই তার দোকানের বাঁধা খদ্দের, অসুবিধে হবে না। মহাজনের লোককেও বলে একটু সময় পাওয়া যাবে, কম দিন তো মাল নিচ্ছে না সে। তার আবার চিন্তা শুরু হয় দোকানটা নিয়ে, একবার দোকানটা দেখে আসা খুব জরুরি।
এদিকে বাইরে বৃষ্টির পুরোপুরি থেমে গেছে, আকাশও এখন বেশ পরিস্কার, ঘরের মধ্যেও দিনের আলো। চারিদিক জল থইথই, রান্নাঘরের সব বাসনপত্র জলে ভাসছে। রতনের বউ রান্নাঘরে গিয়েই হায় হায় করে ওঠে, ঘরে যেটুকু চাল-ডাল-মশলাপাতি ছিল সব জলের তলায়, সামান্য কণা খাবারটুকুও আর ভাল নেই। গ্যাসের ওভেনটা মাটির ওপর বসানো ছিল, সেটার অবস্থাও আর বলার মতো নয়। রতন কিন্তু এইসবে একদমই মন দিতে পারছে না, তার মন পড়ে রয়েছে দোকানের দিকে। সকলের মানা অগ্রাহ্য করে সে বেরিয়ে পড়ে চাবির ব্যাগটা সঙ্গে নিয়ে।
বাড়ির বাইরে এসে রতন যা দেখল তাতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না প্রথমে। তাদের গলিটা আর গলি নেই যেন নদী হয়ে গেছে। গলির এক সাইড করে অনেকগুলো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা থাকে রাতের বেলায়, সেগুলো আর্ধেকের বেশি ডুবে গেছে, মানে ওখানে রতনের কোমর জল তো হবেই। গলির দুপাশের বাড়ির বারান্দাগুলোয় লোকের ভিড়, সবাই জল দেখছে। রতনের ঠিক পরের বাড়িটা আরো একটু নীচুতে, বাড়ির তলায় পাঁচুকাকার সাইকেল সারাইয়ের দোকান। বাড়ির সামনেটা জুড়ে জলে ভাসছে সাইকেলের টায়ার, টিউব রীম, সীট কভার, হ্যান্ডেল কভার। পাঁচুকাকা কোমর জলে দাঁড়িয়ে দোকানের মাল এক জায়গায় জড় করার চেষ্টা করছে, রতনকে দেখে হাউমাউ করে চেঁচিয়ে ওঠে,
-রতন রে, সব শেষ হয়ে গেল... সব ভেসে গেছে
পাঁচুকাকাকে কী বলে সান্ত্বনা দেবে ঠিক করতে পারে না রতন
-কী আর করবে কাকা! সবই আমাদের ভাগ্য, দেখি আমার দোকানটার কী অবস্থা!
কোমর জল ঠেলে রতন  এগোয় দোকানের দিকে। তাদের গলিটা লম্বায় বড়জোর শখানেক মিটার হবে। রতনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু এগিয়ে ডান দিকে বেঁকলে সামনেই বড় রাস্তার মোড়। ওই মোড়েই গলির একদম শুরুতে রতনের গুমটি দোকান।
জল ঠেলে ডানদিকে বেঁকতেই চমকে ওঠে রতন, সামনের মোড়ে রাস্তায় কারা যেন নৌকো নামিয়েছে, কিন্তু রাস্তার মোড়ে ওটা কী? একটু ভাল করে নজর করতেই বুঝতে পারে রাস্তার ধারে যে বিরাট লাইটের গেটটা লাগিয়েছিল পুজোর জন্য, সেটাই ভেঙে পড়েছে তার দোকানের ওপর। আর একটু এগোতেই স্পষ্ট হল আসল জিনিসটা, গেটটা পড়ে ভেঙে গেছে তার ছোট্ট দোকান, উল্টে পড়ে আছে রাস্তার ধারে, সব জিনিসপত্র ভাসছে জলে। বুকে একটা প্রবল ঝটকা লাগে রতনের, যা ভয় পাচ্ছিল ঠিক সেটাই হয়েছে। তার জীবনধারণের একমাত্র সম্বল ভাসছে সারা রাস্তা জুড়ে।
হঠাৎ মাথাটা কেমন যেন ঘুরে ওঠে রতনের, চোখে এক সেকেন্ডের জন্য অন্ধকার নামে। জলের মধ্যে ব্যালেন্স রাখতে সামনের ইলেকট্রিক পোস্টটা ধরে নিজেকে সামলাতে যায় রতন। পোস্টে হাত দেওয়া মাত্র— একটা তীব্র আলোর ঝলকানি— রতনের চোখে অন্ধকার নেমে আসে।
কয়েক ঘন্টার মধ্যে মোবাইল আর টিভির কল্যাণে সারা রাজ্যবাসী জেনে যায় এক রাতের বৃষ্টিতে বানভাসি শহরের প্রথম জল-শহিদ রতনের কথা।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)