বাতায়ন/আতঙ্ক/অন্য চোখে/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | অন্য চোখে
অদিতি চ্যাটার্জি
গোষ্ঠ
বিহার-ময়ূরপঙ্খী--ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
আতঙ্ক | অন্য চোখে
অদিতি চ্যাটার্জি
"শুধু রানাঘাট নয়, কালীনারায়ণপুর, বীরনগর, বাদকুল্লা, বগুলা থেকেও মানুষজন আসেন শোভাযাত্রা দেখতে। তবে শোভাযাত্রায় এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিকা, তাসা পার্টি, ঝলমলে আলোর সাজ আর ডিজে বক্সের ব্যবহার।"
প্রাচীন রানাঘাটে এক বিশেষ সম্প্রদায় ছিলেন গো-প্রতিপালকরা, তাদের মধ্যে যারা সম্পন্ন অথবা গো-প্রতিপালক সম্প্রদায়ের দলপতি ছিলেন তাঁরা বাংলা বছরের শেষে এবং বাংলা বছরের শুরুতে নৌ-ভ্রমণে যেতেন। তাদের গোয়ালের গরুদের বছরের শেষ ও শুরুর সময় বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া হতো। স্নান করিয়ে, তাঁদের কপালে সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে সুসজ্জিত করা হতো। তারপর বাকি গো-পালক বা গোয়ালারা তাদের এবং সেইসব সুসজ্জিত গরুদের সাথে বিকালে শোভাযাত্রায় বের হতেন। সেইজন্য বলা হতো 'গোষ্ঠ বিহার'। পালচৌধুরী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল এই ঐতিহ্যময় শোভাযাত্রা।
পরবর্তী কালে আশির দশকে এই শোভাযাত্রার নাম হয় ‘গোষ্ঠ বিহার যাত্রা’। শুধু বিনোদন নয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে পুরাতন ঐতিহ্য তুলে ধরার সাথে, গোষ্ঠ-বিহার যাত্রাকে কেন্দ্র করে কবি গান, তরজার আসর বসত। শুধু শহর নয় গ্রামীণ মানুষও অপেক্ষায় থাকত সারা বছর এই শোভাযাত্রার জন্য।
নব্বই দশকে সামাজিক বার্তা দেওয়ার সাথে রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরা হতে থাকে। সরকারি উন্নয়নের চিত্র, বিভিন্ন প্রকল্প, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানও তুলে ধরা হতো শোভাযাত্রার মাধ্যমে।
তবে এখন গোষ্ঠ বিহার যাত্রা 'ময়ূরপঙ্খী' নামে অধিক পরিচিত। শুধু রানাঘাট নয়, কালীনারায়ণপুর, বীরনগর, বাদকুল্লা, বগুলা থেকেও মানুষজন আসেন শোভাযাত্রা দেখতে। তবে শোভাযাত্রায় এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিকা, তাসা পার্টি, ঝলমলে আলোর সাজ আর ডিজে বক্সের ব্যবহার।
অন্যদিকে রানাঘাটে আগে ১০/১২টা গোষ্ঠ বিহার শোভাযাত্রা বের হতো, যা এখন কমে গেছে। এই বছর চারটে শোভাযাত্রা বের হয়েছে। এই বছর দক্ষিণ পাড়া, আনুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদ্গোপ এলাকা, মহাপ্রভু পাড়া থেকে বের হয় শোভাযাত্রা।
~~000~~



No comments:
Post a Comment