প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Sunday, April 26, 2026

শান্তি | কেয়া নন্দী

বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
কেয়া নন্দী
 
শান্তি

"স্তব্ধ পুণ্যলতা মনেমনে ভেবেছিলসাদা রং তো শান্তির প্রতীক। এতদিন তো আশঙ্কা-উৎকণ্ঠা আতঙ্কের শাঁখা-সিঁদুরে সে রঙিন ছিল। এবার একটু নিজের সঙ্গে কথা বলবে..."

 
আত্মীয়স্বজন চলে যাবার পর নিজের ঘরে দক্ষিণের জানলাটা খুলে বসে পুণ্যলতা। এক ঝলক হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় দুধে-আলতা ছাপের দিনগুলিতে।
 
এক বুক আশা নিয়ে শুরু করলেও নিমেষেই তা ত্রাসে পরিণত হয়ে যায়। মানুষটা কোনোদিনও নরম গলায় কিছু বলেনি। শ্বশুরবাড়িতে পা রাখা ইস্তক সবসময় এমন ঝাঁঝিয়ে কথা বলত যে, পুণ্যলতা ভয়েই শেষ। দিনে দিনে তা এক আতঙ্কের রূপ নেয় পুণ্যলতার কাছে। খালি মনে হতো রান্নাটা ঠিক হলো তো! ইস্তিরি করতে গিয়ে ধুতি-পাঞ্জাবিতে কোঁচ থেকে যাবে না তো! অফিসের ভাত-তরকারি সময়মতো শেষ করতে পারবে তো! ইত্যাদি ইত্যাদি।
 
পঁয়ত্রিশটা বছর একভাবে চলেছে তার জীবন। বয়স সত্তর হলেও দাঁত-নখের ধার এতটুকু কমেনি! সেদিন আকস্মিক বুকে ব্যথা শুরু হলে ছেলেদের মতো পুণ্যলতাও কিঞ্চিৎ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। ডাক্তার এসেছিল কিন্তু মানুষটাকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে হয়নি। বাড়িতে কান্নার রোল পুন্যলতা স্তব্ধ। আত্মীয়রা বলেছিল, কাঁদবে কী! লতা শোকে পাথর হয়ে গেছে। কী করে যে ওকে সাদা থানে দেখব!
 
স্তব্ধ পুণ্যলতা মনেমনে ভেবেছিল, সাদা রং তো শান্তির প্রতীক। এতদিন তো আশঙ্কা-উৎকণ্ঠা আতঙ্কের শাঁখা-সিঁদুরে সে রঙিন ছিল। এবার একটু নিজের সঙ্গে কথা বলবে... কাপড়ে দুটো ফুল তুলবে... বারান্দায় দুটো ফুলের চারা পুঁতবে...। অনেকদিন তো এসবের সমাধি হয়েছিল।
 
ছেলের ডাকে চটকা ভাঙে পুণ্যলতার মা, বাবার জন্যে খুব কষ্ট হচ্ছে? আমরা তো আছি মা।
পুণ্যলতা বলে,
-কাল আমায় দুটো বেলফুলের চারা এনে দিবি। সন্ধেবেলায় গন্ধে চারিদিক ম-ম করবে।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)