বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
ভাস্কর
সিনহা
চুমুর
তাপমাত্রা
"তুমি আমার কপালে আঙুল ছুঁইয়ে দিলে—ঠান্ডা আঙুল। “একেই বলে স্পর্শের হিমালয়,” তুমি বললে। আমার গলা ভিজে গেল। কান্না নয়, ঘাম নয়, একধরনের পরমানন্দের সিক্ততা।"
মেট্রো স্টেশনের ফ্লুরোসেন্ট
আলোয় তোমার মুখ দেখলাম। ব্লারি, ব্যর্থ আপলোডের মতো।
চশমা পরিষ্কার করলাম, তবু তুমি ঝাপসা। তুমি
বললে, “এত চোখ কচলালে নষ্ট হয়ে
যাবে।”
আমি হাসলাম। জানি না কেন, হাসি পেল। তুমি কাছাকাছি আসলে আমার ঘাম হয়। সেটা গরমের জন্য
না। এ এক অদ্ভুত মেটাফিজিক্যাল ঘাম, যার গন্ধে মিশে থাকে
অতীত জীবনের সুখ। তুমি আমার হাতে এক কাপ চা ধরিয়ে দিলে। কাগজের কাপ, তাতে লেখা—‘লাইফ ইজ শর্ট, স্মাইল হোয়াইল ইউ স্টিল হ্যাভ টিথ‘। তুমি চা খেতে খেতে বললে, “তোমার ঠোঁটের চারপাশে এখনও আমার চুমুর তাপমাত্রা লেগে আছে।
গত জন্মের।”
আমি কাপ নামিয়ে রাখলাম। চায়ের
বাষ্পে মিলিয়ে গেল সমস্ত স্টেশন। তখন শুধু তুমি আর আমি, আর নীলচে ফ্লুরোসেন্ট আলোর খেলা। তুমি আমার কপালে আঙুল
ছুঁইয়ে দিলে—ঠান্ডা আঙুল। “একেই বলে স্পর্শের হিমালয়,” তুমি বললে। আমার গলা ভিজে গেল। কান্না নয়, ঘাম নয়, একধরনের পরমানন্দের সিক্ততা।
তুমি মেট্রোয় উঠে গেলে। দরজা বন্ধ হবার আগে বললে, “পরের জন্মেও এই স্টেশনে দেখা হবে। তবে ওই সময় তুমি এসো আগে, আমি দেরি করব। দেরি করায় মিষ্টি আছে।”
দরজা বন্ধ হলো। চায়ের কাপটা
এখনো হাতে। তাপমাত্রা কমে এসেছে। কিন্তু ঠোঁটে এখনও লেগে আছে গত জন্মের চুমুর গরম।
আমি বুঝি, ভালবাসা হলো সময়ের ফাটলে তৈরি
এক আগ্নেয় দ্বীপ—অন্তরালে জ্বলতে থাকে,
বাইরে ঠান্ডা পাথর।
No comments:
Post a Comment