বাতায়ন/কালো কাল/অন্য চোখে/৩য় বর্ষ/৩৫তম
সংখ্যা/৭ই পৌষ, ১৪৩২
কালো কাল | অন্য
চোখে
মলয় সরকার
চেতনার
ডাক
"আজ বাংলাদেশে যে ঘটনা চলছে, তা ইতিহাসের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। তাই সুস্থ বিবেক জেগে উঠেছে চারিদিকে। বাংলাদেশেও চলছে প্রতিবাদের মিছিল। জিশুকে যখন ক্রুশবিদ্ধ করা হয়,"
নির্যাতন, হত্যা, মৃত্যু, ধ্বংস এই শব্দগুলো খুবই বেদনাদায়ক, তা যখনই যেখানে হোক। একটা সুস্থ মানবিক চেতনাকে তা আঘাত
করবেই। তখন সুস্থ বিবেকের চিন্তার পরিসরের মধ্যে থাকে না কোন শত্রু বা মিত্রের
বিভেদ।
তবে ইতিহাসে এটা প্রমাণিত, যখনই এগুলি গণহারে বা এক বিরাট আকার ধারণ করে অসংখ্য মৃত্যু
বা ধ্বংসের কারণ হয় তখনই তার পিছনে থাকে কোন না কোন স্বার্থসিদ্ধি, প্ররোচনার ইন্ধন। আর তার নায়ক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে
অন্তরালে, যা সাধারণ মানুষের গোচরে আসে
না খুব সহজে। কিন্তু ফল হিসাবে অহেতুক বহু সাধারণ মানুষ লাঞ্ছিত হন বা প্রাণ
হারান। লাঞ্ছিত হয় সভ্যতা সংস্কৃতি।
এরকম ঘটনা ইতিহাসে বার বার
ঘটেছে। আমরা পৃথিবীর ঘটনা মানচিত্রের দিকে নজর রাখলে দেখতে পাব, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সব সময়েই এরকম ঘটনা চলছে। তা, চীনের গণবিপ্লবই হোক,
বা
কম্বোডিয়ার পল পট সরকারের ঘটনা, কিংবা তালিবানী
ধ্বংসলীলা, কিংবা অতীতের নালন্দা, তক্ষশীলা
ইত্যাদি
ধ্বংসলীলা যাই হোক বা যে রূপেই হোক না কেন,
মূল কথা
একটাই, হয় আমার মত মানো, না হয় মর বা আমি ক্ষমতাবান, তুমি দুর্বল তাই তোমার উপর অত্যাচার করা আমার অধিকার।
ফলে মানুষ নিজের সৃষ্টিকে
নিজেই ধ্বংস করে। ফলে সে সভ্যতার পথের অগ্রগতির থেকে বারবারই পশ্চাদপসরণ করে। এতে
মানবজাতির সামগ্রিক উন্নতিই ব্যাহত হয়।
আজ বাংলাদেশে যে ঘটনা চলছে, তা ইতিহাসের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। তাই সুস্থ বিবেক জেগে
উঠেছে চারিদিকে। বাংলাদেশেও চলছে প্রতিবাদের মিছিল। জিশুকে যখন ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, তিনি বলেছিলেন,
'হে
ঈশ্বর এরা জানে না এরা কী অপরাধ করছে'। আমরাও বুঝি, যারা এই নারকীয় ধ্বংসলীলায় মেতেছে, তারা জানে না কী অপরাধ তারা করেছে। এ ভাবেই হত্যা করা
হয়েছে সক্রেটিস, জিওর্দানো ব্রুনো
কিংবা আর্কিমিডিসদের।
এর পিছনে হয়তো রয়েছে
অনেক সুচতুর রাজনৈতিক খলনায়ক, যাদের আমরা দেখতে পাই
না, বুঝতে পারি না। তবু প্রতিবাদ
বা বিপক্ষযুক্তি বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে। তবেই তা আটকানো সম্ভব হবে। এর জন্য
জনচেতনা ও সুস্থ বিবেকবান মানুষের অবশ্যই জাগ্রত হওয়ার প্রয়োজন।
No comments:
Post a Comment