বাতায়ন/নবান্ন/সম্পাদকীয়/৩য় বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন
| সম্পাদকীয়
আমরা ভাল, ওরা খারাপ
"স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বাংলা ভাষী, বাঙালি মাত্রেই কি তবে দুয়োরানির সন্তান! বাঙালির মেধা, মনন কি এর জন্য দায়ী? বৈধতা-সম্পন্ন বাঙালি নাগরিক তবে ভোট ব্যাংকের সম্পদ মাত্র!"
আমি ভাল, আমার সন্তান ভাল, আমার অনুগামী, দল, সমর্থকরা
ভাল ওরা খারাপ, ওদের সব খারাপ। ওদের যা-কিছু সবই হানিকর। এই কথা শুরু করেছিলেন একজন
শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ ক্রমে তা সংক্রমিত হয়ে মতবাদের মতো হয়ে গেছে। এখন প্রায় সকলেই
এই মতে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিশ্বাসী। বিবেক নয়, বিবেচনা বিচারবোধ নয়, মানবতা নয়,
সহানুভূতি কিংবা
সহনশীলতা নয়, শুধুই মতবাদ। এমনকি অন্ধ হলেও তা-ই ধ্রুবসত্য।
তাই ধর্মীয়-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে নৃশংস হিংসার বলি।
তাই কট্টর মৌলবাদ। যেখানে মানবিকতার কোনও স্থান নেই। নেই সন্তানস্নেহ, নেই পরমতসহিষ্ণুতা,
নেই অন্যের কষ্টে নিজের কষ্টের, কান্নার কোনও আত্মিক যোগ। মানুষ হয়েও নিজেদের মনুষ্যেতর
প্রাণীর থেকেও নিম্নতর প্রতিপন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা। পশুরাও এতটা পাশবিক নয়।
তাই-ই উগ্র হিন্দুত্ববাদ। কেরালা, ওড়িষার ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িক
নৃশংস হিংসার বলি। বাঙালির ওপর তাই সন্দেহ সে বা তারা জীবনের অধিকারহীন বাংলাদেশি
মুসলমান। মিথ্যা হোক আর সত্য হোক সন্দেহের
বশে হত্যা করা আসলে তো খুন। তাদের শাশ্তির বিধান নেই! ধর্মনিরপেক্ষ (এখনও) গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্রের এই পরসহিষ্ণুতার পরিচয়! অথচ বর্তমান সংবিধানকে মান্যতা দিয়েই ক্ষমতায়ন, সাধারণ
নাগরিকের ভোট নেওয়া। জানেন কি তারা কত শতাংশ সাধারণ মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সত্যিই তাদের
পক্ষে? যদি-না ভোট কেনা, দখল করার মতো (স্বাভাবিক) ঘটনা না ঘটে।
অবশ্য দল-মত নির্বিশেষে সকলেই এক, হয় এ-দিক নয় ও-দিক।
কেউ দেখেন ধর্ম কেউ দেখেন অন্য কিছু। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি বা আমরাই শ্রেষ্ঠ বাকি
সব অধম।
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বাংলা ভাষী, বাঙালি মাত্রেই কি
তবে দুয়োরানির সন্তান! বাঙালির মেধা, মনন কি এর জন্য দায়ী? বৈধতা-সম্পন্ন বাঙালি নাগরিক
তবে ভোট ব্যাংকের সম্পদ মাত্র! ইতিহাস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতি খেত্রে বাঙালির
অবদান অবহেলার যোগ্য? বাংলা সাহিত্য নেহাতই ফেলনা!
বাংলার চিরাচরিত নবান্ন উৎসবেও এখন বুঝি মলিনতার ছাপ।
ঢেঁকিতে কোটা চালের গুঁড়োয় তৈরি পিঠে আর মেশিনে ছাঁটা চালের গুঁড়োয় তৈরি পিঠের স্বাদে
আশমান-জমির ফারাক। খেজুরের গুড়ও অবশ্য কম যায় না। একেবারে মণিকাঞ্চন যোগ। এ বলে আমায়
দেখ, ও বলে আমায় দেখ। এখানেও চিরাচরিত নবান্ন এবং এখনকার নবান্ন এই বৈষম্য চোখে আঙুল
দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
চতুর্দিকে ভয়ংকর, নৃশংস পরিস্থিতিতে সকলের শুভ বুদ্ধির
উদয় হোক। ২০২৬ শুভ হোক।
শুভ বুদ্ধি জাগ্রত হোক এই শুভকামনা রইল 🙏
ReplyDeleteআপনাকে ধন্যবাদ জানাই, শুভ বুদ্ধিরই প্রতীক্ষা।
Deleteনতুন বছরের শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
Deleteআন্তর্জাতিক নববর্ষে বাতায়নের এই বিশেষ 'নবান্ন' সংখ্যায় চলমান সময় ও আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারি সুন্দর একটি সম্পাদকীয় পড়লাম। সেই সুরে সুর মিলিয়ে বলি, আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা, একে অপরের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর মানবিক মূল্যবোধের মেলবন্ধনে আমাদের জীবন হয়ে উঠুক আরও সুন্দর ও গতিশীল। নতুন বছর সকলের জন্য অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য বয়ে আনুক। বাতায়নের সাথে সকল প্রিয় বন্ধুকে নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!
ReplyDeleteধন্যবাদ বন্ধু।
Deleteশুভ বুদ্ধি জাগ্রত হোক ।
ReplyDeleteএকদম।
Delete