প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Friday, February 6, 2026

দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ | ধারাবাহিক রম্যঃ চার | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/রম্যরচনা সিরিজ/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক রম্যঃ চার

"হঠাৎ এরকম কেন করছে। বিয়ের পর কাঙ্ক্ষিত আসল কাজটি সেরে নেওয়াই যেখানে আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেখানে এরকম কেন হালচাল ওরবেশ শুরু করেছিলাম।"


অফিস অফিস করে সদ্য বিবাহিত বউয়ের দিকে ধ্যান দেওয়া এক দুস্কর ব্যাপার হয়ে পড়েছে আমার পক্ষে। অথচ আমার একটি মাত্র ছোট্ট মিষ্টি বউ আমার অপেক্ষায় থেকে থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে। শুধু রাত্রিটুকুর আদরে কি তার মন ভরে? সারাদিন আমি থাকি না। ও একা একা কী করবে? বিয়ের পর কি একা থাকা যায়? একা মানেই তো বোকা। ও ভাল মেয়ে তাই সব মেনে নিয়েছে শুধুই অপেক্ষা করতে শিখেছে। এখনকার মেয়েরা হলে কবে ঝামেলা করে পালিয়ে যেত। এ পাগলি মেয়ে আমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছে আমায় এখন আর কোথায় যাবে? এইজন্য সব দেখেশুনে ভাল ঘরের মেয়েকে ঘরে আনতে হয়। সেদিক দিয়ে আমি খুবই সুখী। এক-একবার ভাবি নিকুচি করেছে অফিসের, ছেড়ে দিই, এটাকে নিকেশ করে।
 
এক রাত্রে মিষ্টিকে নিয়ে শুয়ে আছি, মনের কথাটি বলেই দিলাম ওকে,
-কী গো চাকরিটাও ছেড়ে দেব ভাবছি, তুমি কী বল?
, মানে মিষ্টি চমকে ছিটকে গেল।
-পাগল হয়েছ না কি?
-ঠিকই তো তোমার জন্য পাগল হয়েই গেছি। একটু কাছে এসো না...
-না গো গুমাও। শরীরটা ভাল নেই।
-তোমার কী হয়েছে বলো তো? রোজই শরীর খারাপের অজুহাতে সরে আছ?
-না গো ও কিছু না, চল আজ ঘুমিয়ে পড়ি...
-তোমার জন্য যে আমার অনেক চিন্তা...
-ঘরে তুলে পাকা ব্যবস্থা করে রেখেছ আর ভয় কী, আমি কি পালিয়ে যাব? রোজই আমি তোমার, তাহলে তুমি এত ভাবছ কেন?
-তথৈবচ। তুমি যা ভাববে তাই হবে।
ঘুমিয়ে পড়লাম।  কিছুটা পরে ঘুম ভেঙে গেল, দেখি পাশে বউ নেই। সে কী? কোথায় গেল ও। কী হল? বিপদ?
মাথা আমার গেছে। এসব কী ভাবছি? সোজা কেস। গুলিয়ে ঘোল করে খাচ্ছি। আরে ভাল করে অন্য কিছু তো ভাবতে হবে। তাই এবার ভাবলাম ও নিশ্চয়ই বাথরুমে গেছে। বাথরুমের কাচ লাগান ছিল, উঁকি মেরে দেখি ও ওখানে নেই। এদিক-ওদিক দেখে নিলাম। হঠাৎই পাশের ঘরে গিয়ে দেখি মোবাইলে ও কারো সাথে কী সব নিয়ে যেন কথা বলছে। কী হল ব্যাপারখানা? দৌড়ে গেলাম। আমাকে দেখে মিষ্টি আরো জোরে চেঁচিয়ে বলতে লাগল,
-আগে হসপিটালে নিয়ে যাও। ঈমা! এত দেরি করে কেউ? সাপ বলে কথা?
আমি থমকে গেলাম! বোঝার বিষয় বটে। মিষ্টি ফোন রেখে আমার কাছে চলে এল,
-এই জানো তো সাপে কামড়েছে...
-সাপে? কাকে?
থতমত খেয়ে গেল মিষ্টি,
-তাই তো সেটাই তো জিজ্ঞাসা করা হল না।
-তা এত রাতে কে ফোন করলে?
-হ্যাঁ সেটাও ঠিক। কে যেন করল? ওহো! দাদা ফোন করেছিল। বৌদিকে।
আর সময় নষ্ট না করে মিষ্টি আমাকে টেনে নিয়ে এল আমাদের বেডরুমে আর আদর করে জানাল,
-ওসব কাল হবে চল, আমরা একটু আনন্দ করি।
আনন্দ  তখন আমার মাথায় চড়েছে। মিষ্টি যেন কেমন করছে। হঠাৎ এরকম কেন করছে। বিয়ের পর কাঙ্ক্ষিত আসল কাজটি সেরে নেওয়াই যেখানে আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেখানে এরকম কেন হালচাল ওর? বেশ শুরু করেছিলাম। বেশ রোমান্টিক মুডে ছিলাম। মিষ্টি খুব রোমান্টিক হয়ে সব দিয়ে দিচ্ছিল। আচমকা সব পাল্টে গেল। কিন্তু মুখের খাতির ঠিক আগের মতোই রয়ে গেল। কী হল ব্যাপারটা? ভয় লাগছে। বদলে এ কীসের ইঙ্গিত? কী রকম একটা গন্ধ পাচ্ছি যেন। আপনারাও কিছু পাচ্ছেন কি? গন্ধ আমার চেনা। নাম আমার দুষ্টু।  এবার আমাকে দেখতে হবে। এমনও হতে পারে মিষ্টির মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সব সময় খারাপ চিন্তা করতে নেই। নেগেটিভ চিন্তা ছেড়ে এবার পজিটিভ কিছু ভাবতেই হবে। চোখ-কান খোলা রেখে এগোব। পথে নামলে রাস্তা পাবই। আসুন আমার রাস্তায় দেখি না কী পাই?
 
ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

সূর্যাস্ত গঙ্গার বুকে


Popular Top 10 (Last 7 days)