বাতায়ন/নবান্ন/গল্পাণু/৩য়
বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন
| গল্পাণু
অর্পিতা দাস
স্মৃতির
সরণি বেয়ে
"অম্লানকে দেখে, "বাবু, গরমগরম পাটিসাপটা, খেয়ে দেহেন।" প্লেট সাজিয়ে এগিয়ে দেয়। মুখে পুরে কেমন আনমনা হয়ে পড়ে। ঠিক যেন মায়ের হাতের ছোঁওয়া।"
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যায়
নবান্ন উৎসবে।
‘নতুন ধানের চিড়া,
নতুন
ধানের খই…’ গানটি তখন মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে।
রকমারি স্টল বসেছে মাঠ জুড়ে।
অম্লান ছোট-বড় সব ধরণের স্টলগুলো ঘুরে
ঘুরে দেখতে থাকে। শীতের দাপট উপেক্ষা করে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা ভিড় জমিয়েছে।
মনের আনন্দে উপভোগ করছে ভাপাপিঠে, পুলিপিঠে, নলেনগুড়ের পায়েসের স্বাদ। পিঠের গন্ধে ছেয়ে গেছে গোটা মাঠ।
অপার আনন্দে ভরে ওঠে অম্লানের মনও। নবান্ন উৎসবে মায়ের হাতে তৈরি পাটিসাপটা আর
মালপোয়ার চিত্র মানসপটে ভেসে ওঠে। একটি ছোট্ট স্টলের সামনে ঠিক তেমনই আঘ্রাণ অনুভব
করে অম্লান। একজন বয়স্কা মহিলা পাটিসাপটা ভাজছে। অম্লানকে দেখে, "বাবু,
গরমগরম
পাটিসাপটা, খেয়ে দেহেন।" প্লেট সাজিয়ে
এগিয়ে দেয়। মুখে পুরে কেমন আনমনা হয়ে পড়ে। ঠিক যেন মায়ের হাতের ছোঁওয়া। কাজের
চাপে আজ লাঞ্চটা করা হয়নি। তাই অমৃতের স্বাদে আরো কয়েকটা মুখে পুরে নেয়। বাড়ির
জন্য কিছু প্যাক করে নেয়। তাতান ওর ঠাম্মিকে চোখেই দেখেনি পিঠের স্বাদ তো দূরের
কথা। আর শহুরে জীবন কেক পেস্ট্রির স্বাদ যেভাবে উপভোগ করে
পিঠেপুলি তেমন ভাবে নয়। ভাবতে ভাবতে অম্লানের চোখ
ঝাপসা হয়ে আসে।
অনেকদিন পর গতে বাঁধা জীবন
ছেড়ে সহজ আনন্দে মনটা মেতে ওঠে। কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে পিঠেপুলির উৎসব অম্লানকে
ফিরিয়ে নিয়ে যায় অতীত স্মৃতির ঘরে।
~~০০~~

No comments:
Post a Comment