বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/অন্য চোখে/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১৪ই কার্ত্তিক,
১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | অন্য চোখে
সঙ্ঘমিত্রা
দাস
দুর্গাপুজোর
বিশেষ ঘটনা
স্মৃতিতে
আজও রঙিন
"না, আর আসেনি। আমার ওই অসুস্থ সময়ে পুজোর দিনগুলো সুন্দর আনন্দময় করে রেখেছেল যে তার নামটিও সেদিন জানা হয়নি। তবু মনের মাঝে আজও ওর বন্ধুত্ব অমর হয়ে আছে।"
তখন আমার সাত বছর বয়স।
কিডনির অসুখে প্রায় এক মাস ফুলবাগান বিধান শিশু হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি।
কিছুদিন পরেই পুজো, সবাই যখন হইহুল্লোড়, মজা, আনন্দ ঘোরাঘুরিতে
ব্যস্ত, আমি মায়ের কোলে চেপে পুজো
মন্ডপে আসতাম। একটা চেয়ারে চুপটি করে বসে থাকতাম অনেকক্ষণ। হাঁটা
একদম বারণ। বন্ধুরা, আমার ভাই সবাই কত
আনন্দ করছে। আমার দিকে তাকানোর খুব একটা সময় তাদের ছিল না। চারদিকে ছুটছে, খেলছে। আমি একা বসে আছি। একটা ছেলে আমার পাশে এসে বসত, চুপ করে থেকেও কী সুন্দর সঙ্গ দিত আমায়। ও খেলত না।
বাবার সঙ্গে এসেছে এই
শহরের পুজোয়। হাতে কাঁসর। বাবা ঢাকে কাঠি দিলেই সঙ্গে সঙ্গে জোরে জোরে কাঁসর বাজাতে
শুরু করত। খুব আনন্দ হয়েছিল ওকে পাশে পেয়ে। গায়ে একটা
পুরোনো জামা। বাড়িতে মা আর দিদি আছে। ফিরে যাবার সময় নতুন কাপড় কিনে নিয়ে যাবে
ওদের জন্য, নিজেদের জন্যও জামা
কিনবে। সেই দূর গ্রাম থেকে শহরে এসেছে পুজোর নতুন জামার স্বপ্ন নিয়ে।
কত গল্প করেছি ওই ক'দিন। ও সকালে যখন মুড়ি-গুড় খেতো, আমাকেও দিত। ওর কাছে আমি প্রথম মুড়ি খেতে শিখেছিলাম।
ঠাকুরমশাই যখন সবাইকে প্রসাদ দিতেন সেই প্রসাদের সঙ্গে মুড়ি, গুড় নিয়ে জমিয়ে খেতাম আমরা। সে এক অন্য স্বাদ। আজও সেই
দিনগুলো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। দশমীর পরদিন সব বাড়ি বাড়ি ঢাক বাজিয়ে ভিক্ষা করছিল
ওরা। মা চাল-ডাল-আলু আর বাবার একটা পুরোনো জামা দিয়েছিল। আমি ঘর
থেকে ছুটে গিয়ে আমার নতুন ড্রয়িং খাতা আর পেন্সিল নিয়ে এসেছিলাম ওর জন্য। চলে
যাবার সময় ও হাত নেড়ে বলেছিল,
"পরের বছর আবার আসব।"
না, আর আসেনি। আমার ওই
অসুস্থ সময়ে পুজোর দিনগুলো সুন্দর আনন্দময় করে রেখেছেল যে তার নামটিও সেদিন জানা
হয়নি। তবু মনের মাঝে আজও ওর বন্ধুত্ব অমর হয়ে আছে।
No comments:
Post a Comment