বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/অন্য চোখে/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১১ই কার্ত্তিক, ১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | অন্য চোখে
সমাদৃত দাস
দুর্গাপুজোর
বিশেষ ঘটনা
অন্য
রকম পুজো
"শাস্ত্রমতে এবছর দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে গজের পিঠে চেপে মর্ত্যে পাড়ি দিয়েছেন। আশা করা যায়, সবুজ মাঠের বুকে সোনা ফলবে। যাইহোক, পুজোর চারটে দিন সাবধানতার সঙ্গে কাটানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং এর বিষয়!"
বাঙালির একমাত্র শারদ উৎসব
দেখতে দেখতে এসে গেল। সারা শহর আলোয় আলোকিত হয়েছে। গোটা শহর উৎসবে সেজে উঠেছে।
কিন্তু, আকাশের মুখ এত ভার কেন? বর্ষার কালো মেঘ যেন সর্বত্র গ্রাস করেছে। শরতের সেই নীল
আকাশ, পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, শিউলি ফুলের ঘ্রাণ-কিছুই যেন অনুভব করতে পারা যায়নি এ বছর।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও রীতি মেনে বেশ জাঁকজমক করে প্যান্ডেল সাজিয়ে, থিম তৈরি করলেও,
যাঁদের
ঘিরে পুজো সেই তরুণ-তরুণীদের উন্মাদনা নেই। সবটাই কেমন যেন ফ্যাকাশে। এর কারণ
দ্বিমুখী। একদিকে, এ বছর যেমন পুজো পুজো
ভাব নেই, আবার অন্যদিকে সম্প্রতি প্রয়াত
হলেন জনপ্রিয় অসমীয়া গায়ক শ্রী জুবিন গর্গ। তাঁর জাদুকন্ঠ বশীভূত করে তুলেছিল
এই জেনারেশনকে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে ঘুরে-ফিরে তাঁকে নিতেই নানাবিধ তথ্য
স্ক্রিনে ফুটে উঠছে, ফলে গায়কের এই
আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না আম-জনতা। এছাড়া সম্প্রতি দীর্ঘ-বৃষ্টির জেরে
কলকাতা (বিশেষ করে বই পাড়ায়) যে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির শিকার, সেখান থেকে এই আনন্দ উৎসব কোথাও যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে এটাও ঠিক যে এই বছর দুর্গাপুজো খুবই তাড়াতাড়ি। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ
সপ্তাহে শুরু পুজো। ফলে ঋতুগত বৈচিত্র্য কোথাও যেন হ্রাস পেয়েছে। তবে একদিকে এক
শ্রেণির মানুষের পুজোকে ঘিরে যদিও কিছুটা হলেও উন্মাদনা রয়েছে, কিন্তু এক শ্রেণির পকেট গড়ের মাঠ। তাঁদের কাছে দৈনন্দিন
জীবন আর দুর্গাপুজো যেন সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর শাস্ত্রমতে এবছর দেবী দুর্গা
স্বর্গ থেকে গজের পিঠে চেপে মর্ত্যে পাড়ি দিয়েছেন। আশা করা যায়, সবুজ মাঠের বুকে সোনা ফলবে। যাইহোক, পুজোর চারটে দিন সাবধানতার সঙ্গে কাটানোটাই সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জিং এর বিষয়!
সমাপ্ত
No comments:
Post a Comment