প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

নতুন সূর্যোদয় | শিউলী ব্যানার্জী (মুখার্জী)

বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন সংখ্যা/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | ছোটগল্প
শিউলী ব্যানার্জী (মুখার্জী)
 
নতুন সূর্যোদয়

"যতই হোক বিয়ে যখন হয়েছে স্বামী তো, মেনে নিতে হবে... এই ভেবে সেও ছাদে যায়। দেখে ভোর হব হব বেশ শীতল হাওয়া... ধীরে ধীরে সে তার স্বামীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল।"

 
-ও... বউ কইতাসি অনেক রাত হোল গিয়া এবার ঘোমটাটা তুলুম। চাঁদপানা মুখখান দেখার লগে পরানডা কেমন করতাসে।
ঘোমটার ভেতর থেকে নতুন বউ তার স্বামীর কথা শুনে বলে ওঠে,
-আপনি বাঙাল ভাষায় কেন কথা বলছেন? আপনি কি বাঙাল?
-হ... বাঙাল। আমরা তো চৌদ্দ গুষ্টি হোল গিয়া বাঙাল।
নতুন বউ ফুলশয্যার খাটে বসেই কান্না জুড়ে দিল,
-হায় হায় বাবা আমার কেমন ছেলের সাথে বিয়ে দিল আর ছেলে পেল না গো... শেষে বাঙাল। আর এই একটা ছোট্ট ঘর একটা ছোট্ট খাট একটা মাত্র ফ্যান চলছে তাও গায়ে এসে লাগছে না। কী গরম... কী গরম...।
নতুন বর বলে ওঠে,
-কাঁদস কেন বউ অমন কইতে আসে?
নতুন বউ আরো রেগে যায়। বলে,
-গরম বেশি লাগলে আমি অজ্ঞান হয়ে যা
-সে কি! বউ কি কইতাসো।
-হ্যাঁ ঠিক বলছি আপনাদের ঘরে AC নাই। না AC নাই? ওহ্ কী গরম... ঘেমে যাচ্ছি তারপর এই ভারি গয়না আর বেনারসির সাজ। পারছি না। বাবা... কোথায় কার ঘরে বিয়ে দিলে আমায়। একে বাঙাল বর তার উপর এই ঘর। শুনছেন... আপনি বাইরে যান তো... আমি একটু বেনারসিটা চেঞ্জ করেনি।
অনেকক্ষণ ধরে নতুন বউ-এর এই রঙ্গ আর সহ্য করতে না পেরে বেচারা বর আর কী করে ভীষ রকম রেগে গিয়ে খাট থেকে দুম করে নেমে পড়ে। দুধের গ্লাস তখনো টেবিলে। সেটাও খাওয়া হয়নি... কত কল্পনা র স্বপ্ন মনে মনে ছিল... কিন্তু ফুলশয্যার খাটে বসে বসে নতুন বউ-এর ফিরিস্তি শুনতে শুনতে রেগে গিয়ে অবশেষে গজগজ করতে করতে বলে:
-দূর... নিকুচি কই... রাতে তোর ফুলশয্যার... চলেই যাইতাছি... যা গরম… লাগতাছে ছাদে গিয়া বসুম। থাক... ফুলশয্যা
বউ হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। সব সাজ ছেড়ে একটি হালকা কাপড় পরে সে এখন ফুলশয্যার খাটে একা। অবশ্য মনটা কেমন লাগছেও। যতই হোক বিয়ে যখন হয়েছে স্বামী তো, মেনে নিতে হবে... এই ভেবে সেও ছাদে যায়। দেখে ভোর হব হব বেশ শীতল হাওয়া... ধীরে ধীরে সে তার স্বামীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বলল,
-জানেন কতদিন এমন সূর্যোদয় দেখিনি। কতদিন পর এমন খোলা আকাশ আর মুক্ত ভোরের বাতাসে সূর্যোদয় দেখলাম। এটাই ভাল লাগছে জানেন, আপনার বাড়ির ছাদটা বেশ সুন্দর।
ধীরে ধীরে দুজনের মনের একটা মিল হচ্ছে যেন। স্বামীটি বলে উঠল,
-দেখো আমি ইচ্ছে করেই বাঙাল ভাষা বলি আসলে মা-বাবা তো সেই ভাষাতেই কথা বলত ওনারা চলে গেছেন আর তো আমার আপন কেউ নেই কিন্তু বাঙাল ভাষায় কথা বললে ওদের যেন অনুভব করতে পারি। শোন বৌ তোমার যদি অসুবিধা থাকে তো আর কমু না...।
-আচ্ছা তবে তাই কইবেন আপত্তি নাই।
মুখে দুজনেরই মৃদু হাসি আর সূর্যের লাল আলো মুখে এসে পড়ছে একে অপরের হাতের উপর হাত। ঠান্ডা বাতাসে ভালবাসার গন্ধ আর ভোরের পাখিদের গান। নতুন জীবনে... নতুন সূর্যোদয়।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)