প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

ভেটকু | অদিতি চ্যাটার্জি

বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন সংখ্যা/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | ছোটগল্প
অদিতি চ্যাটার্জি
 
ভেটকু

"শিখা-মাসির গজগজানিতে কান না দিয়ে একটা কার্টুন জোগা করে 'সাদা-হলুদ' বলটাকে রাখার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত টুলটুল খেয়ালই করেনি পেছন পেছন ছুটে আসা শিখা-মাসিকে, "আরে বিড়ালটা তো পোয়াতি! বিদায় করো এটাকে।"

 
বাটা মাছের ঝালটা দিয়ে ভাত মাখিয়ে মুখে তোলার আগে টপ্ করে একটু জল ভাতের মণ্ডের মধ্যে মিশে গেল। মা শিখিয়েছেন খাওয়ার সময় চিৎকার, চোখের জল ফেলা, রাগ- এইগুলো অমঙ্গলের বার্তা বহন করে। মা-র কথা বেদবাক্য এটা টুলটুল জেনে গেছে। তবু...
 
ভেটকুকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে টুলটুল দেখতে পেয়েছিল, ম্যাও ম্যাও করুণ ডাক আর কাতর চোখে ও অনেকক্ষণ ধরে কিছু আবেদন করছিল পথচারীদের কাছে। টুলটুল উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেনি, কেমিস্ট্রি কোচিং-র তাড়া ভুলে ও ভেটকুকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখনও ওর নাম ভেটকু হয়নি যদিও।
শিখা-মাসি প্রথম দেখে কারণ মা আর বাবা অফিস থেকে ফেরেনি তখনও। শিখা-মাসির গজগজানিতে কান না দিয়ে একটা কার্টুন জোগা করে 'সাদা-হলুদ' বলটাকে রাখার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত টুলটুল খেয়ালই করেনি পেছন পেছন ছুটে আসা শিখা-মাসিকে, "আরে বিড়ালটা তো পোয়াতি! বিদায় করো এটাকে।"
টুলটুলের মতো বাধ্য, শান্ত মেয়ে শিখা-মাসির দিকে তাকিয়ে ওদের মধুমিতা ম্যামের মতো গম্ভীর গলায় বলেছিল, "থামবে তুমি। যাও ওর জন্য ভাত মাছ কী আছে নিয়ে এসো।"
সেদিন থেকে ভেটকু রয়ে গিয়েছিল টুলটুলদের বাড়িতে। ভেটকু নামটা মাছ-ভাত খাওয়াতে গিয়েই রাখা।
তবে একে কুকুর-বিড়াল মার অপছন্দ তার ওপর কুষি কুষি ছটা ছানাকে নিয়ে টুলটুলের যত্ন, খেয়াল রাখা, মা-র মনে হতে থাকল ক্লাস নাইনের মেয়ে পড়াশোনাকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
গোটা ফ্ল্যাটে বয়ে যেতে লাগল কালবৈশাখী ঝড়… টুলটুল বুঝতে পারছে এই ঝড় একটা বড় আঘাত হানল বলে।
 
শিখা-মাসি রোজ গজগজ করছে বারান্দাটা দুর্গন্ধময়, তার সাথে এঁটোকাঁটা... এত কাজের চাপ, এইভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।
টুলটুল বাবাকে একবার অনুরোধ করে, "ভেটকু আর ওর ছেলে-মেয়েদের ছাড়া ও থাকতে পারবে না। বারান্দাটা নাহয় টুলটুল দুবেলা যখন সময় পাবে তখন পরিষ্কার করে দেবে। শুধু ওদের তাড়িয়ে দিও না।"
"তাহলে তুমি এইবার থেকে বাকি ঘরমোছা, রান্না এইসব কাজ করো, পড়াশোনা করে আর কী হবে? ভেটকুকে আরো বেশি সময় দিতে পারবে।" কী নিষ্ঠুর লেগেছিল বাবাকে।
রবিবার বিকেলে ঠিক হয় শিখা-মাসি ভেটকু আর ওর ছেলেমেয়েদের দত্তদের বাগান বাড়িতে ছেড়ে আসবে, দুপুরবেলায় নিজের হাতে ভাত মাখিয়ে গোল্লা পাকিয়ে ভেটকু আর ওর ছেলেমেয়েদের খাওয়ায় টুলটুল। তারপর আর তাকায়নি ওদের দিকে, নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল।
এখন বারান্দা আবার আগের মতো সাফসুতরো, সুগন্ধময়। মা খুশি টুলটুলের আগের মতো মনোযোগ দেখে।
কালবৈশাখীর ঝড় থেমে গেছে, পাতা খড়কুটোরা কোথায় মিলিয়ে গেছে। এখন গোটা ফ্ল্যাটে বসন্তের মলয় বাতাস খেলে বেড়াচ্ছে...
তবে কেউ জানে না টুলটুল চোখ বন্ধ করলেই রেনবো ব্রিজ দেখে, সেখানে খেলা করে ভেটকু ওর ছটা ছানা আর টুলটুল।
খুব শিগগিরি ও আবার সন্তানদের ফিরে পাবে, টুলটুলের স্থির বিশ্বাস। ততদিন একটু অপেক্ষা...
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)