প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Sunday, April 26, 2026

শেষ পলাশ | অন্বেষা সরকার

বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
অন্বেষা সরকার
 
শেষ পলাশ

"ফেরার সময় রোদটা আরও তীব্র হয়ে উঠল। মাথাটা যেন ঝিমঝিম করছিলশরীরটা কেমন দুর্বল লাগছিল। তবুও হাতের মুঠোয় করে ধরে রেখেছিলাম সেই ফুল দুটো।"

 
বসন্তের শেষ দিক। আকাশে রোদের তেজ একটু বেশিই, কিন্তু তার মাঝেই কোথাও যেন মৃদু হাওয়ায় লুকিয়ে আছে ঋতুর বিদায় সুর। বৈঁচিতে পড়তে গিয়ে চোখে পড়ল স্টেশনে থাকা একটি পলাশ গাছে কিছু সামান্য ফুল লাল আগুনের মতো জ্বলছে। যেন প্রকৃতি শেষবারের মতো নিজের সৌন্দর্য উজাড় করে দিচ্ছে।
আমার এক দাদা, যার কাছে পলাশ মানেই আলাদা এক অনুভূতি। অনেক আগে থেকেই জানি, সে নাকি পলাশ ফুল দেখলেই অন্যরকম খুশি হয়ে যায়। তাই গাছটা দেখে হঠাৎ মনে হল, এই ফুলটা যদি দাদার জন্য নিয়ে যেতে পারি!
কিন্তু তখন বসন্ত প্রায় শেষ। গাছে আর তেমন ফুল নেই। অনেক খুঁজে অবশেষে পেলাম মাত্র দুটো পলাশ, একটা একটু বেশি উজ্জ্বল, আরেকটা একটু শুকনো হতে বসেছে। তবুও আমার কাছে দুটোই যেন অমূল্য। সাবধানে তুলে নিলাম। একটা নিজের জন্য, আরেকটা দাদার জন্য।
ফেরার সময় রোদটা আরও তীব্র হয়ে উঠল। মাথাটা যেন ঝিমঝিম করছিল, শরীরটা কেমন দুর্বল লাগছিল। তবুও হাতের মুঠোয় করে ধরে রেখেছিলাম সেই ফুল দুটো। মনে হচ্ছিল, এ যেন শুধু ফুল নয়, দাদার প্রতি আমার ভালবাসার এক ছোট্ট উপহার।
ট্রেনে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিল, কত কষ্টই না করছি! কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল দাদা খুব খুশি হবে। সেই খুশিটা দেখার জন্য এই কষ্ট যেন কিছুই নয়। মাথা ঘোরার যন্ত্রণা, শরীরের ক্লান্তি সবকিছু যেন তুচ্ছ হয়ে গেল।
বাড়ি পৌঁছানোর আগেই গেলাম নিজের বাড়ি পেরিয়ে দাদার বাড়ি। দাদার হাতে ফুলটা দেওয়ার চেষ্টায় ছিলাম কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দাদা বাড়িতে ছিল না, ছিল বৌদি, ফুলটা দেখে বৌদির চোখেও যে আনন্দের ঝিলিক দেখলাম, সেটাই ছিল আমার সব কষ্টের পুরস্কার। সে কিছুক্ষণ চুপ করে ফুলটার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর মৃদু হেসে বলল, “এটা কোথায় পেলি রে?” আমি শুধু হাসলাম, বললাম যে দাদার জন্য এনেছি, দাদা খুব ভালবাসে তো?
জিজ্ঞাসা করলাম দাদা কোথায়? বৌদির মুখে শুনলাম দাদা নাকি বন্ধুর মায়ের শেষকৃত্যে গেছে, বৌদি বলেছিল একটু ঘরে ঢুকতে, কিন্তু বললাম শরীরের অবস্থা, বৌদি বলল সাবধানে বাড়ি যাস। বিকেলে পড়তে আসিস কথা হবে।
সেদিন আবারও বুঝলাম, ভালবাসা কখনো বড় কিছু চায় না। ছোট্ট একটি পলাশ ফুলও কারো মুখে হাসি ফোটাতে পারে, যদি তার মধ্যে থাকে আন্তরিকতা আর যত্ন।
বসন্ত চলে যায়, পলাশ ঝরে পড়ে, কিন্তু সেই দিনের স্মৃতি আর অনুভূতি যেন চিরকাল থেকে যায়— এক মুঠো লাল রঙের মতো, উজ্জ্বল আর অমলিন।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)