প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর [১ম পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/আতঙ্ক/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
 
অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর
[১ম পর্ব]

"বাসায় ঢুকতেই জগবন্ধুর মনে হলো ওর দেহের ভেতর থেকে কিছু একটা মৃদু ঝাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেল এবং সাথে সাথে পাখার এটা ঝাপ্টা ওকে আঘাত করার সাথে সাথে দরজা বন্ধ হবার আগেই ও উড়ে গেল উপরে। ঘর জুড়ে বিরাট একটা বাদুড়!"

 
ভূত প্রথমে কেন স্বপ্নে দেখা দেয় ভেবে পায় না জগবন্ধু নাথ। ও ভূতে বিশ্বাস করতে চায় না; কিন্তু নিজ গালে তাকিয়ে তা অবিশ্বাস করে কীভাবে! গালে চার আঙুলের দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। মনে হচ্ছিল ও স্বপ্ন দেখছে; কিন্তু সজোরে বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যাবার পরে গালটা ব্যথা করতে থাকায় ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় গালটা দেখে হতবাক। তাহলে ভূত আছে! কিন্তু ভূতের কি চার আঙুল? গুগল আছে কী করতে! সব সমস্যার সমাধান এখন গুগলে! ল্যাপটপটা অন করে বসে পড়ল জগবন্ধু। ব্যথার জন্য হাতটা সরাতে পারছে না গাল থেকে। গুগল বলছে,
-ভূত আছে! হরেক রকমের ভূত আছে। মামদো ভুত, গেছো ভূত, তেতুর ভূত, শেওড়া গাছের ভূত, গাবগাছের ভূত ইত্যাদি। ভূতের কোনো নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি নেই। কোনোটার চার আঙু, কোনোটার পাঁচ; তবে পা উল্টো হয়েই থাকে, এই বৈশিষ্ট্য সকল ভূতের ক্ষেত্রে সাধারণ! হঠাৎ ল্যাপটপের পর্দা কাঁপতে কাঁপতে থকথকে পদার্থের মতো হয়ে গেলে জগবন্ধু নাথ ভাবল মনিটরটা বুঝি নষ্ট হয়ে গেল; এর মানে ল্যাপটপটিই গেল! আরেকটা ল্যাপটপ কিনতে হবে। ঠিক তখন মনিটর থেকে থকথকে পদার্থ ছিটকে এসে পড়তে লাগল জগবন্ধুর মুখে। প্রচণ্ড গরমে ভয়ার্ত এক চিৎকার দিয়ে দু হাতে মুখ ঢেকে চেয়ার-সহ উল্টে পড়ল মেঝেতে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে মুখে। হাত সরাতে পারছে না, তাকাতেও পারছে না। চোখ দুটো গেছে কিনা বুঝতে পারছে না। হাসপাতালে যেতে হবে এক্ষুনি। অন্ধের মতো হাতড়ে একটা কাপড় পেয়ে মুখমণ্ডল পেঁচিয়ে নিল। ঘরোয়া কাপড় পরেই বেরিয়ে এলো বাইরে। পাশের বাড়ির চতুর্বেদী ওকে এ অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
-কী হয়েছে আপনার মুখে জগবন্ধুদা! এভাবে মুখে কাপড় পেঁচিয়ে রেখেছেন কেন?
জগবন্ধু ব্যথা হজম করতে করতে বলল,
-মুখে গরম পানি পড়ে গেছে! ভয়ানক ব্যথা! একটা সিনএজি ডেকে দেন-না দাদা!
চতুর্বেদী একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ডেকে দিলে তাতে চড়লে জগবন্ধু। সিএনজি স্কুটার ড্রাইভার জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় যাইবেন ভাই?
জগবন্ধু বলল,
-কাছের যে কোনো একটা হাসপাতালে।
-মিনিমাম ভাড়া দুইশো টাকা!
-ঠিক আছে যান।
স্কুটার ড্রাইভার আলোকবর্তিকা নামের একটি হাসপাতালে নিয়ে এলো। জগবন্ধু ভাড়া দিয়ে স্কুটার থেকে নেমে আর্ত কণ্ঠে বলল,
-আমার মুখে অসম্ভব যন্ত্রণা! আমি চোখেও দেখতে পাচ্ছি না। কেউ কি আমাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবেন, প্লিজ!
লোকজনের চেঁচামেচিতে দু’জন অ্যাটেন্ডেন্ট এলো একটি স্ট্রেচার নিয়ে। জগবন্ধুকে স্ট্রেচারে শুইয়ে নিয়ে গেল জরুরি বিভাগে। যন্ত্রণায় তখনো কাতরাচ্ছে জগবন্ধু নাথ। অ্যাটেন্ডেন্ট দু’জন জগবন্ধু নাথকে স্ট্রেচার থেকে নামিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। কর্তব্যরত ডাক্তার নজিবর জগবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন,
-কী হয়েছে আপনার মুখে?
জগবন্ধু ব্যথা সামলে বলল,
-রান্নাঘরে চা বানাতে গিয়ে অসতর্কতায় গরম পানি মুখে পড়ে গেছে। ভয়ানক যন্ত্রণা ডাক্তার সাহেব, ভয়ানক যন্ত্রণা!
ডাক্তার নজিবর আস্তে আস্তে জগবন্ধুর মুখ থেকে কাপড় খুলতে লাগলেন। পুরো কাপড়টা খোলার সাথে সাথে ব্যথা উধাও হয়ে যাওয়ায় জগবন্ধু বিস্মিত। ডাক্তার নজিবর আরো বিস্মিত এই কারণে যে জগবন্ধুর মুখে কোনো জখম নেই! ডাক্তার নজিবর বিরক্ত হয়ে বললেন,
-নাটক কেন? কোন নাটকের রিহার্সাল করতে এসেছেন এখানে? যত্তসব!
জগবন্ধু বুঝতে না পেরে বলল,
-নাটক বলছেন কেন? বুঝতে পারছি আমার মুখে এখন কোনো যন্ত্রণা নেই। কিন্তু ভীষণ গরম পদার্থ মুখে পড়েছে এটা সত্যি।
-আপনার মুখে কোনো জখম নেই! একদম ক্লিন! মুখে গরম কিছু পড়লে এমন ক্লিন থাকতে পারে না। বিশ্বাস না হলে পাশের ওয়াশরুমের মিরর থেকে দেখে আসুন মিস্টার।
জগবন্ধু নাথ মুখে হাত বুলিয়ে কোনো জখম নেই বুঝতে পেরে বেকুব বনে গেল। তারপরও ডাক্তারের কথামতো সংলগ্ন ওয়াশরুমে ঢুকে আয়নায় তাকিয়ে জখমের কিছুই দেখতে পেল না মুখে। এটা হলো কীভাবে? এটাও কি ঐ অদৃশ্য ভূতের কাণ্ড? জগবন্ধু নাথ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে মৃদু স্বরে 'সরি!' বলে বেরিয়ে এলো হাসপাতাল থেকে। জগবন্ধু হাসপাতালের চত্বরে দাঁড়িয়ে ভাবছে, তাহলে ল্যাপটপে বসার ব্যাপারটাও স্বপ্ন! এ কেমন ভূত যে স্বপ্নে এসে যন্ত্রণা দিয়ে যায়? হাসপাতাল চত্বর থেকে একটা স্কুটারে বসে ভাবছে জগবন্ধু আর মাঝে মাঝে মুখে হাত বুলাচ্ছে। কোথায় গেল যন্ত্রণা, কীভাবে গেল? বাসার সামনে স্কুটার থামলে ভাড়া মিটিয়ে এগিয়ে গেল ফ্ল্যাটের দিকে। কী দেখবে ফ্লাটের ভেতরে? কী অপেক্ষা করছে ওর জন্য? উঠে এলো লিফ্টে। ওর আশঙ্কা ছিল লিফ্টে কিছু একটা ঘটবে; কিন্তু নিরাপদেই লিফ্ট এসে থামল সাত তলায়। লিফ্টের দরজা খুললে বেরিয়ে এসে নিজ ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল জগবন্ধু। কাঁপা হাতে দরজা খুলছে। আসলে ওর দরজা খুলতে ইচ্ছে করছে না। অন্য কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু রহস্যটা যেহেতু এই বাসা থেকেই শুরু হয়েছে, সেহেতু রহস্যের পুরোটা জানতে হলে এই বাসায় ঢুকতেই হবে। কোনো অঘটন না ঘটেই খুলে গেল দরজা। দরজা খোলার পর শুরু হলো ঘটনা ঘটা!
বাসায় ঢুকতেই জগবন্ধুর মনে হলো ওর দেহের ভেতর থেকে কিছু একটা মৃদু ঝাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেল এবং সাথে সাথে পাখার এটা ঝাপ্টা ওকে আঘাত করার সাথে সাথে দরজা বন্ধ হবার আগেই ও উড়ে গেল উপরে। ঘর জুড়ে বিরাট একটা বাদুড়! ও বাদুড়ের পিঠে আর বাদুড়টা ছোট কক্ষে কায়দা করে উড়ছে। এবার কী হবে? এটা কী শুধুই বাদুড়, না ভ্যাম্পায়ার? কিন্তু বাদুড় ওর বাসায় ঢুকল কী করে? বাদুড়টা ঘাড় ঘুরিয়ে জগবন্ধুর ডান হাতে একটা ঠোক্কর মেরে ঝাঁকি দিয়ে পিঠ থেকে জগবন্ধুকে ফেলে ধোঁয়ার মতো হয়ে ঢুকে গেল ওর শরীরে। ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেলেও ব্যথা পেল না ও, তবে হাতটা ঝিনঝিন করতে লাগলে। হাতে ঝিনঝিনে অনুভূতি হতে থাকলে জগবন্ধু তাকিয়ে থাকল হাতের দিকে। হাতে পরিবর্তন হচ্ছে। আস্তে আস্তে হাতটা বাদুড়ের মুখ হয়ে ওর মুখেই ঠোকরাতে লাগল। ঘুম পাচ্ছে ওর খুব এখন। মেঝেতে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ল জগবন্ধু নাথ। একটা নারীমূর্তি আসতে থাকল ওর স্বপ্ন জুড়ে। এর আগে এমনটা হয়নি কখনো। ঘুম ভাঙলে ভাবতে লাগল জগবন্ধু, নারীমূর্তিটা কে? কী সম্পর্ক নারীমূতিটার সঙ্গে ওর? ওর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অদ্ভুতুরে ঘটনাগুলোর সাথে ঐ নারীর কোনো সম্পর্ক আছে কি? তাকিয়ে দেখল হাত স্বাভাবিক হয়ে গেছে, মুখেও কোনো জখম নেই! কী হচ্ছে ওসব ওর সাথে? এসব কী ভূতের আসর? এই বাসাটায় কি ভূত আছে? কেমন ভূত? কোনো তান্ত্রিকের কাছে যেতে হবে। কোনো তান্ত্রিককে চিনি না! কোন্ তান্ত্রিকের কাছে যাব? গুগল আছে ন! গতকালের ঘটনা মনে হতেই দু দিকে মাথা নেড়ে ও মনে মনে বললে, ল্যাপটপে আর না! ফোনে খোঁজ নিতে হবে কোনো তান্ত্রিকের।
 

ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)