প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর [২য় পর্ব] | রানা জামান

বাতায়ন/আতঙ্ক/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/৪র্থ সংখ্যা/৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ধারাবাহিক গল্প
রানা জামান
 
অন্দরের ভূত ভয়ঙ্কর
[২য় পর্ব]

"কবরের ভেতর থেকে কতগুলো হাড় বের হয়ে এলো একের পর এক। হাড়গুলো একের সাথে আরেকটা জোড়া লেগে হয়ে গেল একটা কঙ্কাল। কঙ্কালটা ওর সামনে এসে হাত-পা নেড়ে কিছু বলতে চেষ্টা করল।"

 
পূর্বানুবৃত্তি ভূতে প্রায় অবিশ্বাসী জগবন্ধু ভূতের চড় খেয়ে আশ্চর্য হয়ে যায়। মুখে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে ব্যথা গায়েব হয়ে যায়। তারপর…
 
জগবন্ধুর কল পেয়ে ওদিক থেকে সিদ্ধান্ত বলল,
-কী খবর ইয়ার? হঠাৎ ফোন কেন? কোনো খুশির খবর?
জগবন্ধু বলল,
-টা সমস্যায় পড়ে গেছি ফ্রেন্ড!
-কী সমস্যা?
-একজন তান্ত্রিকের ঠিকানা দরকার
সিন্ধান্ত বিস্মিত হয়ে বলল,
-তান্ত্রিক! তান্ত্রিক দিয়ে কী করতে চাও তুমি?
-মনে হচ্ছে আমার ফ্লাটটায় ভূতটুত আছে।
-কী করে বুঝলে?
-বেশ কয়েকটা ভূতুরে ঘটনা ঘটে গেছে।
-যেমন?
জগবন্ধু ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বলে বলল,
-এর সমাধান তান্ত্রিক ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। আমি কোনো তান্ত্রিককে জানি না। একজন তান্ত্রিকের ঠিকানা দিয়ে এই উপকারটুকু করো দোস্ত!
সিদ্ধান্ত এক তান্ত্রিকের ঠিকানা বলল। তান্ত্রিকের নাম ত্রিদেব জটাধারি। গাজিপুর জাতীয় গজারি বনে তান্ত্রিকের ঠিকানা। জগবন্ধু দেরি না করে তখনই বেরিয়ে পড়ল। একটা উবারের কার নিয়ে চলে এলো রাজেন্দ্রপুর গজারি বনে। লোকজনকে জিজ্ঞেস করে ঠিকানাটা জেনে ঢুকল বনের ভেতরে। হাঁটছে আর হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে পেয়ে গেল তান্ত্রিক ত্রিদেব জটাধারী বাবাকে। দুটো গজারি গাছকে একত্রিত করে উপরে মাচা বানিয়ে বসে আছেন তান্ত্রিক বাবা। কিন্তু গাছে উঠবে কীভাবে? কোনো সিঁড়ি নেই। আশেপাশে কোনো লোক বা ভক্তকেও দেখা যাচ্ছে না। এখন অবসর সময় কিনা কে জানে! এসব ভাবনা ভাবার মাঝেই একটা দড়ি নেমে এলো উপর থেকে নীচে

দড়ি বেয়ে উপরে ওঠা কঠিন কাজ! ছোটবেলা কয়েকবার নারকেল গাছে ওঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে সে! কিন্তু এখন তান্ত্রিক বাবার সাথে কথা বলতে হলে ওকে দড়ি বেয়েই উপরে উঠতে হবে! এমনটা জানলে একটা সিঁড়ি সাথে করে নিয়ে আসত। থাকত সিঁড়িটা এখানে। তাহলে লোকজনের উপরে ওঠার সুবিধা হতো! দড়িটা একবার নড়ে ওঠায় ভাবনায় ছেদ পড়ল ওর। এর মানে হলো দড়ি বেয়েই ওকে এখনই উঠতে হবে। কেউ উপর থেকে টানলে সুবিধা হতো। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নেই সম্ভবত! জুতো খুলে দড়িটা ধরল। উঠতে শুরু করল উপরে। কিছুদূর ওঠার পরে একবার হাত ফসকে পড়ে গেল নীচে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। দড়িটা ফের নড়ে উঠতেই উঠে দড়িটা ধরল ফের। এবার কে যেন ভেতর থেকে শক্তি জোগাচ্ছে ওকে দড়ি ধরে উপরে ওঠার। দড়ি বেয়ে উপরে উঠে পড়ে গেল ধোঁয়ার মধ্যে। সাধারণ কোনো ধোঁয়া, না এটা গাঁজার ধোঁয়া। মনে পড়ে গেল ওর কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে গাঁজা টেনেছে কত! প্রেমে পড়ার পর ছেড়ে দিতে হয়েছে। হা প্রেম! প্রেমে পড়লে কত কিছু ছাড়তে হয়; আর ছ্যাঁকা খেলে কত কিছু ধরতে হয়!
 
ত্রিদেব জটাধারী কতক ধোঁয়া গিলে, কতক ধোঁয়া নাক-মুখ দিয়ে বের করতে করতে ঢুলুঢুলু চোখ খুলে জগবন্ধুকে দেখার চেষ্টা করছেন। হঠাৎ পূর্ণ চোখ মেলে জগবন্ধুকে দেখে জিভ বের করে মৃগী রোগীর মতো কাঁপতে কাঁপতে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন। জগবন্ধু ভেবে পাচ্ছে না ওর চোখে কী দেখে তান্ত্রিক-বাবা অমন করে কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। কী করবে সে এখন? তান্ত্রিক-বাবার জ্ঞান ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, নাকি অন্য কোনো তান্ত্রিক-বাবার খোঁজে বের হবে। আসলে জগবন্ধু নাথকে আর কিছুই করতে হলো না!
 
কোনো পাখা ছাড়াই জগবন্ধু নাথ উঠতে থাকল উপরে। উড়তে উড়তে উড়তে একটা পাহাড়ের উপরে এসে ঘুরতে লাগল চড়কির মতো। ওর ভয়ও লাগছে না, ভালও লাগছে না। হঠাৎ ঘোরা থামিয়ে অবতরণ করল পাহাড়ের একেবারে প্রান্তে। নিজ দেহের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, এটা কীভাবে করতে পারল ও? ওর মাঝে কি সুপারম্যানের শক্তি ভর করেছে? বাহ! তাহলে ভালই হলো! ঢাকার জ্যাম এড়াতে যখনতখন উড়াল দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলে যেতে পারবে! সেজন্য নিয়ন্ত্রণটা রাখতে হবে নিজের কাছে। কিছুদিন প্রাকটিস করলে ঠিক হয়ে যাবে!
 
নীচের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল জগবন্ধু নাথ। আধাহাত এদিকে নামলেই পড়ে যেতে নীচে, একেবারে পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে আলুভর্তা! পেছাতে গিয়ে পারছে না! ওর ভেতরর শক্তিটা ঠেলছে ওদিকে। জগবন্ধু চেষ্টা করেও নিজকে পিছিয়ে নিয়ে আসতে পারছে না। নিজেকে নিজেই ঠেলতে ঠেলতে ফেলে দিল নীচে। হেলে থাকা একটা গাছের উপর পড়ে হাত-পা ভাঙল, অতঃপর ভাসতে ভাসতে বেশ আরামেই নেমে এলো নীচে। এতে বেশ অবাক হলো জগবন্ধু নাথ ব্যথা ভুলে। এটা সুপারম্যানের মতোই আচরণ! ও করছে কীভাবে? ওর ভেতরে কি সত্যই একটা সুপারম্যান জন্ম নিচ্ছে? এটা কি স্প্লিট পার্সোনালিটি? ওয়াও! তাহলে ভালই হলো!
 
এমনটা ভাবার সাথে সাথে ওর হাত-পায়ের ব্যথাটা ফের চাগিয়ে উঠল। হাসপাতালে যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে? পকেট হাতড়ে দেখে মোবাইল ফোনটা কোথাও খুইয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া এখান থেকে নড়তে পারবে না ও। তখন ও সুপারম্যান হয়ে গেল ফের! উঠে গেল উপরে। উড়তে উড়তে চলে এলো একটা হাসপাতালে। কিন্তু এই উড্ডয়ন ওর নিয়ন্ত্রণে নেই! স্ট্রেচারে উঠে চলে গেল জরুরি বিভাগে। এক্স-রে করে দেখা গেল ডান পা ও বাম পা-এ একাধিক ফ্র্যাকচার। প্লাস্টার করে ওকে স্থানান্তর করা হলো বেডে। চোখ বুজতে পারছে না জগবন্ধু। চোখ বুজলেই একটা ভয়ংকর ছায়ামূর্তি খেলা করতে থাক চোখের সামনে।
নার্স এলে জগবন্ধু বলল,
-দুঃস্বপ্নের জন্য ঘুমাতে পারছি না সিস্টার। আমাকে কড়া ঘুমের ট্যাবলেট দিন।
ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক কড়া ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল জগবন্ধু। ঘুম ভাঙলেনিজেকে একটা জঙ্গলে দেখতে পেল। ভয় পেয়ে মনে মনে বলল জগবন্ধু, ঘুমের মধ্যে এখানে এলো কীভাবে ও? ভেতরের সুপারম্যানটা কি ওকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে এখানে? কিন্তু কেন?

মনে হচ্ছে এখানে এর আগেও এসেছে ও। কেন এসেছিল মনে করতে পারছে না এখন। একটা বায়স্কোপ শুরু হতে যাচ্ছে। ও চোখ বুঝলেও বায়স্কোপটা চলতে থাকল। একটা কবর ভেসে উঠল প্রথমে। কবরের ভেতর থেকে কতগুলো হাড় বের হয়ে এলো একের পর এক। হাড়গুলো একের সাথে আরেকটা জোড়া লেগে হয়ে গেল একটা কঙ্কাল। কঙ্কালটা ওর সামনে এসে হাত-পা নেড়ে কিছু বলতে চেষ্টা করল। জগবন্ধু নাথ কঙ্কালটার দিকে তাকিয়ে বলল,
-ইশারা ভাষা বুঝি না আমি কঙ্কালজি! শব্দ দিয়ে কথা বলো, প্লিজ!
কঙ্কালটা মুখের হাড়ের সাথে হাড়ের আঘাত দিয়ে কটকট শব্দে বলল,
-আজকে তোমার খেলা সাঙ্গ হবে কানিংম্যান!
 

ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)