প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Sunday, March 8, 2026

দুটি নিস্ফল ভালবাসা [১ম পর্ব] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/ধারাবাহিক গল্প/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | ধারাবাহিক গল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
দুটি নিস্ফল ভালবাসা
[১ম পর্ব]

"আসলে এত দামী সব দিলে আমাদের বাড়ির লোকেরা লজ্জায় পড়ে যায় যে আমরা তো মধ্যবিত্ত এত কিছু দিতে পারিনি তাই বলছিলাম।"

 
সকাল থেকে মিনতি খুব ব্যস্ত আজ প্রথম জামাইষষ্ঠী তার ওপর বিয়ের পনেরো দিন পরেই জামাইষষ্ঠী পড়েছে। তাই বিরাট রান্নাবান্নার একটা সোরগোল চলছে সকাল থেকে মা ভীষণ ব্যস্ত আর বাবা যে কতবার বাজারে ছুটছেন তার ঠিক নেই। মেয়ে বিদিশা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসার সময় শাশুড়ি ছেলে নীলেশকে বারবার বলে দিলেন,
-ভাল দেখে শাড়ি নিবি আর দই-মিষ্টিও পর্যাপ্ত পরিমাণে নিবি সবাই আছেন তো জ্যঠা, কাকা, ঠাকুমাও তো এখনও আছেন তোর কী ভাগ্যি রে দিদিশাশুড়ির আদর পাবি?
নীলেশ লজ্জিত হাসি হাসল। মা আবার বলে দিলেন,
-দিদাশাশুড়ির জন্যেও একটা ভাল কাপড় নিস আর জেঠি কাকিও তো আছেন?
বিদিশা লজ্জায় পড়ে গিয়ে বলল,
-না না অত নিতে হবে না
-কেন নিতে হবে না কেন? নিশ্চয়ই নিতে হবে।
বিদিশা জানে এটুকু করতেই তার বাবার কত কষ্ট হয়েছে সবে রিটায়ার করেছেন অবশ্য পেনশন বেশ ভালই পান তার ওপর মা এখনও সরকারি স্কুলে পড়ান। তাছাড়া সবার ওপরে জ্যাঠামশাই তিনি সব ভাইদের ছেলেমেয়েদের নিজের ছেলেমেয়ে বলে মনে করেন। বিদিশা বাড়ির প্রথম এবং একমাত্র মেয়ে তাই তার বিয়েতে কোন খুঁত কেউ রাখতে চায় না।
ঠাকুমা আজ নিজে হাতে পায়েস রাঁধতে বসেছেন প্রায় নব্বই বছর বয়স, বলেন,
-রাত্রিরে তো বেশি খাই না, এক সের দুধের ক্ষীর আর দুটি খই এখনকার মেয়েরা হজম করতে পারবে?
কাকিমা তো বলেই দিলেন,
-না মা সত্যি পারব না
সেই ঠাকুমা নিজেই ভার নিয়েছেন পায়েস শুক্তো আর এঁচোড়ের কোপ্তা। এদিকে নীলেশ কাপড়ের দোকানে ঢুকে এত দামী দামী সব কাপড় পছন্দ করতে লাগল যে বিদিশা লজ্জায় পড়ে গেল বলল,
-এত দামী সব কিছু নিও না
-কেন? প্রথম দিচ্ছি তাছাড়া বাড়ি থেকে বার বার করে বলে দিয়েছেন তুমি না বলছ কেন?
বিদিশা প্রমাদ গুণল সে বলল,
-আসলে এত দামী সব দিলে আমাদের বাড়ির লোকেরা লজ্জায় পড়ে যায় যে আমরা তো মধ্যবিত্ত এত কিছু দিতে পারিনি তাই বলছিলাম
-দূর তুমি একেবারে হাঁদারাম দেখবে আমি কেমন ম্যানেজ করে নেব।
ওরা পৌঁছাতে বড় জ্যাঠিমাকে বরণ করতে মা বললেন, তারপর আস্তে আস্তে সবাই বরণ করে ঘরে নিয়ে এসে পিঁড়ির ওপর দাঁড় করিয়ে জোর খুলিয়ে দিল। জামাই তো কিছুই পারে না তা দেখে বিদিশার জ্যাঠতুত দাদা বলল,
-আমাদের মেয়ে তোমাকে এমন বাঁধনে বেঁধেছে যে আর ছাড়া পাবে না
নীলেশ বলল,
-ছাড়া পেতে চাইও না
সবাই হেসে উঠল। প্রথমে তো নানানরকম ফল-মিষ্টি পাখার বাতাস এসব চলল তারপর ভাতের পাতে আয়োজন দেখে নীলেশ তো প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। রাত্তিরেও খেয়ে যাবার জন্য অনেক করে বিদিশার বাড়ি থেকে বলল কিন্তু নীলেশ বলল,
-আর কিছু খেলে আমি আর বাঁচব না।
 
ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)