বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | ধারাবাহিক
গল্প
সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
ঘড়ির
ঘটনা
[১ম পর্ব]
সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
[১ম পর্ব]
"আমরা তিন পুরুষ ধরে ওখানে আছি। বড় রাস্তার ওপর গিরিশ ঘোষের একটা স্ট্যাচু আছে। ঠিক তার বাঁদিকের তিন তলা বাড়িটা আমাদের। মানে বাবার অবর্তমানে, আমিই মালিক।"
-হাতঘড়িটা কি খুব দামী?
করি। যদিও আমি কখনও বাবা যে চেয়ারটায় বসতেন সেটায় বসিনি। সেটাকে একপাশে সরিয়ে রেখে অন্য একটা চেয়ারে বসি। সেও প্রায় দশ বছর হয়ে গেল। বাবা বেঁচে থাকলে এখন তার পঁচাত্তর বছর বয়স হতো।
-আর আপনার এখন কত বয়স হলো?
-আমার পঁয়তাল্লিশ চলছে। আগামী ডিসেম্বরে ছেচল্লিশে পড়ব।
-শেষ কখন ঘড়িটা আপনার নজরে আসে?
-রোজ আমি অফিসে পৌঁছেই এক গ্লাস জল খাই। তারপর ঘড়িটা খুলে ড্রয়ারে রেখে দিই। আবার অফিস থেকে বেরোনোর সময় পড়ে নিই। গত সোমবার অফিস থেকে বেরোনোর সময় দেখি, ড্রয়ারে ঘড়িটা নেই। বাকি সব কিছু ঠিকঠাক আছে, শুধু ঘড়িটা নেই। তখনই খোঁজা শুরু করি। মানে যতটা সম্ভব। অফিসের স্টাফদের তো পকেট সার্চ করা যায় না। যতটা সম্ভব সব জায়গায় খোঁজা হয়। সেই রাতেই আমি থানায় ডায়েরি করি। ইন্ডাসট্রিতে সবাই বাবাকে শৌখিন মানুষ হিসেবে জানত। বাবা ঘড়িটা ছ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিল। কুড়ি বছর আগে। এখন সে ঘড়ির দাম আরও বেশি।
-আপনি নিশ্চিত যে সেদিন আপনি ওই ঘড়িটা পরেই অফিসে গিয়েছিলেন?
-আপনি নিশ্চিত যে মিস্টার দালাল ঘড়িটা নিয়ে যাননি?
শিনার খুব অপছন্দ। তবে দশ মিনিট দেরি, এমন কিছু বেশি না। তাই মুখে কিছু বলেনি।
-আপনার বাড়ি তো শ্যামবাজারে? তাই না?
শিনা আবার প্রশ্ন করে,
-আপনার ডিভোর্সের কারণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানতে চাইব না। তবে আপনার বিবাহিত জীবন কতদিনের সেটা জানতে পারি কি?
-আমার প্রাক্তন স্ত্রীর নাম জুলি। জুলি বিশ্বাস। ওরা খ্রিষ্টান। বনিবনা হল না। বছর তিনেক আমরা একসঙ্গে থাকার পর আইন মেনে বিচ্ছেদ হয়। শুনেছি, জুলি এবার একজন খ্রিষ্টান ছেলেকেই বিয়ে করেছে। আমার সঙ্গে দেখা হয় না। তবে খবর পাই।
২
ইতিমধ্যে ওদের জলখাবার এবং চা দেওয়া হয়েছে। তাতাই ধীরে ধীরে পুরোটা খাবার চেষ্টা করলেও, ওরা দুজন শুধু চায়ে চুমুক দেয়।
-এক তলায় দুটো ঘরেই অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। তাছাড়া ঠাকুর, চাকররা একটা ঘরে থাকে। দুতলায় আমি থাকি। তিন তলায় দুটো গেস্ট রুম আছে। বাকি সব ঘর মোটামুটি বন্ধ থাকে।
শিনা সোজাসুজি ভদ্রলোকের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
-একবার আপনার শোবার ঘরটা দেখব। আর ওকে বর্ধন এন্ড অ্যাসোসিয়েটসের ঠিকানাটা বলে দিন। আমরা আপনার অফিসেও একবার যাব।
মিস্টার বর্ধন একটা কার্ড টিনার হাতে দেয়। শিনা, টিনা আর ভদ্রলোক দোতলায় উঠে যায়। তাতাই তাড়াতাড়ি খাবার খেতে থাকে। পাশাপাশি দুটো ঘরকে জুড়ে একটা ঘর করা হয়েছে। একটা বড় পালঙ্ক, একটা আলমারি এবং একটা ড্রেসিংটেবিল ছাড়া কোন আসবাবপত্র নেই। সঙ্গের টয়লেটের মাপ সাধারণ টয়লেটের তিনগুণ।
-পাশের ঘরটা আমার খাবার ঘর। ওটাও কি দেখবেন?
ক্রমশ

No comments:
Post a Comment