বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক সংখ্যা/বরষা/কবিতা/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র,
১৪৩১
বরষা | কবিতা
অধীর কুমার রায়
হৃদয়ে বরষা
তোমাকে বলা হয়নি লিনা।
আমাদের শরৎপল্লীতে যদি কখনো আসো
দেখবে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে মাথাল মাথায়
রমজান চাচা এখনো বলদের হালে চাষ করে। ধানের চারাগুলি একটু বড় হলে নীচে জমে থাকা জলে অসংখ্য কাঁকড়ার সংসার। আর দেখবে আমাদের খড়ের ঘরের জানালা দিয়ে লেবু পাতা বেয়ে কী সুন্দর টুপটাপ বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ে। কচু পাতার বিন্দু বিন্দু টলমল জল তোমার হৃদয়ে দোলা দেবে। আর যদি ওই শিমুলতলী মাঠের দিকে তাকাও, দেখবে কিনু গোয়ালার এঁড়ে বাছুর লেজ তুলে হাম্বা রবে কেমন দৌড়ায়।
আমাদের শরৎপল্লীতে যদি কখনো আসো
দেখবে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে মাথাল মাথায়
রমজান চাচা এখনো বলদের হালে চাষ করে। ধানের চারাগুলি একটু বড় হলে নীচে জমে থাকা জলে অসংখ্য কাঁকড়ার সংসার। আর দেখবে আমাদের খড়ের ঘরের জানালা দিয়ে লেবু পাতা বেয়ে কী সুন্দর টুপটাপ বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ে। কচু পাতার বিন্দু বিন্দু টলমল জল তোমার হৃদয়ে দোলা দেবে। আর যদি ওই শিমুলতলী মাঠের দিকে তাকাও, দেখবে কিনু গোয়ালার এঁড়ে বাছুর লেজ তুলে হাম্বা রবে কেমন দৌড়ায়।
ভিজে অন্ধকার রাতে শুয়ে শুয়ে যখন তুমি রূপকথার রাজ্যে হারিয়ে যাবে, তখন ধীরে
ধীরে শুনবে মিষ্টি ঝিঁঝির ডাক। আর
'মকমক' ব্যাঙের ডাক তোমার ভাল লাগবেই।
'মকমক' ব্যাঙের ডাক তোমার ভাল লাগবেই।
বর্ষার সময় আমাদের গ্রাম প্লাবিত হয়।
সেই অন্ধকার দুঃখের মাঝে মন্মথকাকা জ্যোৎস্না রাতে ডিঙিতে বসে কী মধুর বাঁশি বাজায়! আমার মন উদাস হয়ে যায়! মন্মথকাকার মতো যদি অমন বাঁশি বাজাতে পারতাম।
সেই অন্ধকার দুঃখের মাঝে মন্মথকাকা জ্যোৎস্না রাতে ডিঙিতে বসে কী মধুর বাঁশি বাজায়! আমার মন উদাস হয়ে যায়! মন্মথকাকার মতো যদি অমন বাঁশি বাজাতে পারতাম।
আমাদের জলির বিলের অসংখ্য পদ্মের সুবাস, শিমুলতলীর ঠান্ডা বাতাসে ভেসে এসে তোমাকে
কিছু বলবে, তুমি মুগ্ধ হয়ে যাবে।
তোমাকে বলা হয়নি লিনা-
আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিগন্ত ধরে
গোধূলি বেলায় উড়ে যায় হংসবলাকার সারি। তার নীচে বাঁকা নদীর তীর ধরে ছোটে রেলগাড়ি। যেন খাপে ঢাকা বাঁকা তলোয়ার। তুমি এবার নিজে এসে দেখে যাও, আমার যৌবনের উপবন, বার্ধক্যের বারাণসী,
হৃদয়ের শরৎপল্লী।
আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিগন্ত ধরে
গোধূলি বেলায় উড়ে যায় হংসবলাকার সারি। তার নীচে বাঁকা নদীর তীর ধরে ছোটে রেলগাড়ি। যেন খাপে ঢাকা বাঁকা তলোয়ার। তুমি এবার নিজে এসে দেখে যাও, আমার যৌবনের উপবন, বার্ধক্যের বারাণসী,
হৃদয়ের শরৎপল্লী।

No comments:
Post a Comment