বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক সংখ্যা/বরষা/কবিতা/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র,
১৪৩১
কবিতাগুচ্ছ
রাম
বসু
চন্দ্রহার
তখন রোয়া শেষের বেলা বিলের দিকের চেয়ে
দেখল ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ফলসা-রঙা মেয়ে
জোয়ার-লাগা নদীর মতো ভরাট কূলে কুল
হাসিতে তার ভাব লেগেছে মেঘবন্যা চুল
তখন রোয়া শেষের বেলা দেখলো ছেলে চেয়ে
দাওয়ার খুঁটি দু’হাতে ধ’রে স্বপ্ন দেখা মেয়ে।
দেখল ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ফলসা-রঙা মেয়ে
জোয়ার-লাগা নদীর মতো ভরাট কূলে কুল
হাসিতে তার ভাব লেগেছে মেঘবন্যা চুল
তখন রোয়া শেষের বেলা দেখলো ছেলে চেয়ে
দাওয়ার খুঁটি দু’হাতে ধ’রে স্বপ্ন দেখা মেয়ে।
বুকের মধ্যে ঢেকির পাড়, বাজল দূরে শাঁখ
নদীর বুকে শুনতে পেল চোদ্দ জয়ঢাক
চমক দিয়ে বললে তারে, “কনে,
চন্দ্রহার গড়িয়ে দেব পৌষ-পারবণে।
নদীর কাছে দান চাইলাম, তোমায় পেলাম, বৌ
তুমি আমার পদ্মবিলের মৌ।”
নদীর বুকে শুনতে পেল চোদ্দ জয়ঢাক
চমক দিয়ে বললে তারে, “কনে,
চন্দ্রহার গড়িয়ে দেব পৌষ-পারবণে।
নদীর কাছে দান চাইলাম, তোমায় পেলাম, বৌ
তুমি আমার পদ্মবিলের মৌ।”
আকাল এল দপদপিয়ে, মাঠ শুকিয়ে কাঠ,
এধারে লাশ ওধারে লাশ, লাশ ঢেকেছে মাঠ।
বাঁশের কোঁড় ঘাসের মুখো গুগলি শামুকে,
পেট জরে যায়, পেট জ্বলে যায় চালতে শালুকে,
লক্ষ্মীর পো ভিক্ষে মাঙে ভিক্ষে মাঙে দোরে
কে দেবে ভিখ্, ভিখিরি সব, কে দেবে ভিখ্ তোরে,
বললে ছেলে, “দশার সঙ্গে হল রে বিয়ে, বৌ
তুমি আমার চাকের ভেতর লুকিয়ে থাকা মৌ।”
এধারে লাশ ওধারে লাশ, লাশ ঢেকেছে মাঠ।
বাঁশের কোঁড় ঘাসের মুখো গুগলি শামুকে,
পেট জরে যায়, পেট জ্বলে যায় চালতে শালুকে,
লক্ষ্মীর পো ভিক্ষে মাঙে ভিক্ষে মাঙে দোরে
কে দেবে ভিখ্, ভিখিরি সব, কে দেবে ভিখ্ তোরে,
বললে ছেলে, “দশার সঙ্গে হল রে বিয়ে, বৌ
তুমি আমার চাকের ভেতর লুকিয়ে থাকা মৌ।”
ফলসা-বরণ দীঘল মেয়ে বললো
দু’-চোখে তার অঝোরে জল গললো
“আশ্বিন যায় কার্তিক আসে
মা লক্ষ্মী গর্ভে বসে
সাধ খাও বর দাও গো
লক্ষ্মী তুমি বাঁচাও তোমার পো।”
দু’-চোখে তার অঝোরে জল গললো
“আশ্বিন যায় কার্তিক আসে
মা লক্ষ্মী গর্ভে বসে
সাধ খাও বর দাও গো
লক্ষ্মী তুমি বাঁচাও তোমার পো।”
তখন ছেলে বললে তার কানে:
“কাজের জন্যে যাব অন্যখানে।”
“কাজের জন্যে যাব অন্যখানে।”
হাওয়ার সাথে ছুটছে পথে, “দুমুঠো ভাত দাও”
তুফান যেন আছাড় মেরে চূর্ণ করে নাও
বরের ভিটে আঁকড়ে ছিল তখনও সেই মেয়ে
শাঁকচুন্নি পথের দিকে এক নিমেষে চেয়ে।
তুফান যেন আছাড় মেরে চূর্ণ করে নাও
বরের ভিটে আঁকড়ে ছিল তখনও সেই মেয়ে
শাঁকচুন্নি পথের দিকে এক নিমেষে চেয়ে।
কোথায় মেয়ে ফলসা-রঙা মেঘবন্যা চুল
হাসিতে যার দুলতো ধান চোখে লাগতো ভুল
পেটের জ্বালায় সেই যে মেয়ে গলায় দড়ি দিল
বরের দেওয়া কাজললতা তখন চুলে ছিল
আর ছিল না কেউ
মরণ এল তুলল পিঠে ‘সাঁড়াসাঁড়ি’র ঢেউ।
হাসিতে যার দুলতো ধান চোখে লাগতো ভুল
পেটের জ্বালায় সেই যে মেয়ে গলায় দড়ি দিল
বরের দেওয়া কাজললতা তখন চুলে ছিল
আর ছিল না কেউ
মরণ এল তুলল পিঠে ‘সাঁড়াসাঁড়ি’র ঢেউ।
উথল বিথল বিলের জল বিলের জল বিষ
কেয়া ঝোপের অন্ধকারে জ্বলছে অহর্নিশ
জ্বলছে মাঠ জ্বলছে ঘাট, জ্বলছে কত চোখ
জ্বলছে মনে চিতার শিখা, পুড়ছে কত লোক
তখনও ছেলে ভাবছিল একমনে:
পাঁজর ভেঙে চন্দ্রহার গড়িয়ে দেব কনে।
কেয়া ঝোপের অন্ধকারে জ্বলছে অহর্নিশ
জ্বলছে মাঠ জ্বলছে ঘাট, জ্বলছে কত চোখ
জ্বলছে মনে চিতার শিখা, পুড়ছে কত লোক
তখনও ছেলে ভাবছিল একমনে:
পাঁজর ভেঙে চন্দ্রহার গড়িয়ে দেব কনে।

No comments:
Post a Comment