বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া
নূর সংখ্যা | গল্পাণু
জয়নাল
আবেদিন
চিরদিনের
"দীর্ঘ পঁচিশ বছর কয়েকটা আদিবাসী পরিবার, বলাকা মোড়ের রাস্তার পাশে পলিথিন ঘেরা ঘরে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ কাল রাতে তাদেরকে উচ্ছেদ করে।"
-কি হয়েছে বোঝা যাচ্ছে কিছু?
বাস থেকে মুখ বাড়িয়ে
রাস্তায় দাঁড়ানো একজনকে বললে।
-না দাদা, কী হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না।
অনেকটা দূরে কিছু হবে।
ওই ব্যক্তি এভাবে বলে দিল।
-কী যে হয় ব্যস্ত সকালে। আমাদের সমস্যা কেউ বুঝতে চায় না।
পুলিশ-প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। সময় মতো চাকরির স্থলে না পৌঁছালে কী হয় আমরা বুঝি!
-ঠিক বলেছেন, হয়তো চাঁদা নিয়ে
সমস্যা।
-আরে! অ্যাক্সিডেন্টও তো হতে পারে। চাঁদা তুলছে ভাবলেন কেন?
-দাদা, ভাবনায় কি কিছু লোকসান হয়। জ্যামে বসে বসে ভাবনায় সময় কেটে
যায়।
লেডিজ সিটের যাত্রী এক মহিলা
বললেন,
-এভাবে সময় কাটলে হাজিরা খাতায় যে লাল দাগ টানা হয়ে যাবে
দাদা। এটাও ভাবনায় রাখতে হবে। এই মাসে এভাবে দুটো দাগ হয়ে গেল। কে বুঝবে কাকে
বোঝাবেন।
আমার পাশ থেকে প্রৌঢ় বরুনকাকু
বললেন,
-আরে অফিসে গিয়েও তো ফাঁকি মারি। সেই টাইমটা এখানে কাটুক
না। রাম নাম জপুন কাজ হবে।
-ধুর দাদা! মরণকালে বুদ্ধিনাশ। কল্যাণদা চলুন তো নেমে একটু
দেখা যাক কী হয়েছে। এখানে বসে বসে ভাবলে কিছু হবে না।
-ঠিক বলেছিস, চল তো দেখি।
বাস থেকে নেমে সামনে হাঁটা
লাগালাম দুজন। অনেকেই এগিয়ে দেখার তাগিদে সামনে চলেছে। যতদুর চোখ যায় সারিবদ্ধ
গাড়ি দাঁড়িয়ে। পথচলা মানুষ। ঠান্ডায় একটু জবুথবু অবস্থা। কিছুটা এগিয়ে
দাঁড়িয়ে পড়ল এরা। কানাকানি কথা বলা-শোনা। ‘রাস্তা জ্যাম
হয়েছে। বলাকা মোড়ে পথ অবরোধ। পুলিশ তুলতে পারছে না।’
-আরে বাবা, সাতসকালে অবরোধ কেন? মানুষজন রুজিরোজগারে যাবে না?
পথচলতি এক জন মানুষ বললে,
-আপনার অফিস যাওয়া একদিন আটকে গেল তাই বিরক্ত হচ্ছেন, বাদপ্রতিবাদ করছেন। দীর্ঘ পঁচিশ বছর কয়েকটা আদিবাসী পরিবার, বলাকা মোড়ের রাস্তার পাশে পলিথিন ঘেরা ঘরে বসবাস করে আসছে।
হঠাৎ কাল রাতে তাদেরকে উচ্ছেদ করে। বুলডোজার দিয়ে সব ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
আপনার আমার আজ একদিনের সমস্যা, কিন্তু ওদের যে
চিরদিনের জন্য হয়ে গেল।
~~০০~~

No comments:
Post a Comment